শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা
ছবি: সংগ্রহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেসমিন মামলার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই মাজেদুল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার প্রতি ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় তিনি নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ ও ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে বিরত থাকতে বললে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে গালিগালাজের পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া অন্যান্য যাত্রীর জন্য রাখা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটনে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও বিতর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ বাতিল করা হয়।

বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্তাধীন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।

বিষয় : হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


বিমানবন্দরে সরকারি কাজে বাধা দেয়ার অভিযোগে মেজর আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাগেজ ও ট্রলি সংকটকে কেন্দ্র করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, সরকারি কর্মকর্তাদের কাজে বাধা এবং নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক কর্মকর্তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে জামায়াত নেতা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিমানবন্দরের নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. শাহরিয়ার আলম সজিব বাদী হয়ে বিমানবন্দর থানায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় মামলাটি দায়ের করেন।

বিমানবন্দর থানার ডিউটি অফিসার এসআই জেসমিন মামলার বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলাটির তদন্ত করছেন এসআই মাজেদুল।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১ অক্টোবর সকাল আনুমানিক ১০টা ৪০ মিনিটে মদিনা থেকে আসা একটি ফ্লাইটের যাত্রীদের চাপের কারণে বিমানবন্দরের ৮ নম্বর লাগেজ বেল্ট এলাকায় ট্রলির সংকট দেখা দেয়। এতে লাগেজ পেতে বিলম্ব হওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অসন্তোষ ও উত্তেজনা তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কামাল হোসেনের আহ্বানে ঘটনাস্থলে যান বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগীব সামাদ। তিনি পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করলে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান তার প্রতি ক্ষুব্ধ আচরণ করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়, এ সময় তিনি নির্বাহী পরিচালকের দিকে আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে এগিয়ে যান এবং তাকে অশালীন ভাষায় গালিগালাজ করেন। পাশাপাশি ‘আমি কিন্তু পিটাবো ধইরা’ ও ‘ঘাড় ধরে বের করে দিব’ বলে প্রকাশ্যে হুমকি দেন। এ ছাড়া বিমান ও পর্যটনমন্ত্রীকে নিয়েও অশালীন মন্তব্য করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, আখতারুজ্জামানের সঙ্গে থাকা কয়েকজন প্রটোকল সহকারী বিমানবন্দরের সংরক্ষিত গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা (কেপিআই) এলাকায় মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ সময় দায়িত্ব পালনরত নিরাপত্তা সুপারভাইজার ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন তাদের ভিডিও ধারণে বিরত থাকতে বললে আখতারুজ্জামান ক্ষুব্ধ হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি নিরাপত্তা সুপারভাইজারকে গালিগালাজের পাশাপাশি শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন। এ ছাড়া অন্যান্য যাত্রীর জন্য রাখা জমজমের পানির বোতল ট্রলি থেকে ছুড়ে ফেলে ক্ষতিসাধন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এক প্রতিনিধির সঙ্গে মারমুখী আচরণের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

বাদীর অভিযোগ, অভিযুক্তের এসব কর্মকাণ্ডের ফলে বিমানবন্দরের মতো সংবেদনশীল ও সুরক্ষিত স্থাপনায় সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। একই সঙ্গে বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।

পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্‌ঘাটনে বিমানবন্দরের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করা হবে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক অতীত নিয়েও বিতর্ক রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি অতীতে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিভিন্ন সময়ে মোট পাঁচবার তাকে বহিষ্কার করা হয়েছিল বলে জানা যায়। পরবর্তী সময়ে তার প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের পদ বাতিল করা হয়।

বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্তাধীন। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায় নির্ধারিত হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream