রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট ডিলার পয়েন্ট বন্ধ রেখে মজুদের অভিযোগ



দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট  ডিলার পয়েন্ট বন্ধ রেখে মজুদের অভিযোগ

দিনাজপুরে তীব্র আকার ধারণ করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট। সরবরাহ কম থাকায় ডিলার ও এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কয়েকজন ডিলার তাদের দোকান ও গোডাউন বন্ধ রেখে সিলিন্ডার অন্যত্র মজুদ করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

সংকটের কারণে বাজারে বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম গ্যাস, যমুনা, স্মার্ট, ভ্যাসকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ব্র্যান্ডের গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা।

বর্তমানে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন ছোট দোকানে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

শহরের কালিতলা, বালুবাড়ী, বাহাদুরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা জানান, কয়েকদিন ধরে এলপিজি গ্যাসের জন্য দোকান থেকে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম। আবার কোনো কোনো ডিলার পয়েন্টে সিলিন্ডার থাকলেও দোকান বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

ক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘গ্যাসের জন্য কয়েকটি দোকানে ঘুরেছি। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও ২ হাজার টাকার বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা মোছা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘সরকারি দাম শুনি এক রকম, কিন্তু বাজারে কিনতে গেলে আরেক দাম। দোকানদাররা বলছেন তাদের কাছেই গ্যাস নেই। অনেক দোকানে সিলিন্ডার দেখা গেলেও বিক্রি করতে চাইছেন না। সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টি খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রেতা .আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে যদি পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে, তাহলে বাজারে এত সংকট হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে আনা দরকার।

এদিকে সংকটের বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় সিলিন্ডার কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি হচ্ছে।

কালিতলার ইসলাম ট্রেডার্সের ডিলার রেঞ্জু ইসলাম বলেন, ‘ডিপো পয়েন্ট থেকেই আমাদের গ্যাস বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তার ওপর সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আমরা ইচ্ছা করে গ্যাস মজুদ করে রাখছি না।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করেন কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য গ্যাস মজুদ করে রাখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ম মেনে গ্যাস বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


দিনাজপুরে এলপিজি গ্যাসের তীব্র সংকট ডিলার পয়েন্ট বন্ধ রেখে মজুদের অভিযোগ

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরে তীব্র আকার ধারণ করেছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকট। সরবরাহ কম থাকায় ডিলার ও এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে কয়েকজন ডিলার তাদের দোকান ও গোডাউন বন্ধ রেখে সিলিন্ডার অন্যত্র মজুদ করে রাখছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 পরে বেশি দামে বিক্রির আশায় কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করছেন ক্রেতারা।

সংকটের কারণে বাজারে বসুন্ধরা, ওমেরা, বিএম গ্যাস, যমুনা, স্মার্ট, ভ্যাসকোসহ বিভিন্ন কোম্পানির ১২ কেজি ওজনের এলপিজি সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কোনো কোনো এলাকায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও কাঙ্ক্ষিত ব্র্যান্ডের গ্যাস না পেয়ে খালি হাতে ফিরছেন ক্রেতারা।

বর্তমানে দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন ছোট দোকানে ১২ কেজি ওজনের একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৯০০ টাকা থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অথচ সরকারি নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৫৮৫ টাকা। ফলে প্রতি সিলিন্ডারে নির্ধারিত দামের চেয়ে প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বেশি গুনতে হচ্ছে ভোক্তাদের।

শহরের কালিতলা, বালুবাড়ী, বাহাদুরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার ক্রেতারা জানান, কয়েকদিন ধরে এলপিজি গ্যাসের জন্য দোকান থেকে দোকানে ঘুরতে হচ্ছে। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও নেওয়া হচ্ছে বাড়তি দাম। আবার কোনো কোনো ডিলার পয়েন্টে সিলিন্ডার থাকলেও দোকান বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। এতে সংকট আরও তীব্র হচ্ছে।

ক্রেতা আবদুর রহমান বলেন, ‘গ্যাসের জন্য কয়েকটি দোকানে ঘুরেছি। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও পাওয়া গেলেও ২ হাজার টাকার বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে। রান্নার জন্য গ্যাস প্রয়োজন হওয়ায় বাধ্য হয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

আরেক ক্রেতা মোছা. শারমিন আক্তার বলেন, ‘সরকারি দাম শুনি এক রকম, কিন্তু বাজারে কিনতে গেলে আরেক দাম। দোকানদাররা বলছেন তাদের কাছেই গ্যাস নেই। অনেক দোকানে সিলিন্ডার দেখা গেলেও বিক্রি করতে চাইছেন না। সাধারণ মানুষের জন্য বিষয়টি খুবই কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ক্রেতা .আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘এক দোকান থেকে আরেক দোকানে ঘুরেও গ্যাস পাচ্ছি না। শেষ পর্যন্ত বেশি টাকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। ডিলার পয়েন্টে যদি পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকে, তাহলে বাজারে এত সংকট হওয়ার কথা নয়। বিষয়টি প্রশাসনের নজরদারিতে আনা দরকার।

এদিকে সংকটের বিষয়ে বিক্রেতারা বলছেন, ডিপো পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে গ্যাস কিনতে হচ্ছে। পাশাপাশি সরবরাহ কম থাকায় চাহিদার তুলনায় সিলিন্ডার কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি হচ্ছে।

কালিতলার ইসলাম ট্রেডার্সের ডিলার রেঞ্জু ইসলাম বলেন, ‘ডিপো পয়েন্ট থেকেই আমাদের গ্যাস বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তার ওপর সরবরাহ কম থাকায় চাহিদা বেড়েছে। যে কারণে কিছুটা বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে আমরা ইচ্ছা করে গ্যাস মজুদ করে রাখছি না।

দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, এলপিজি গ্যাসের সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে। কেউ যদি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করেন কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরির জন্য গ্যাস মজুদ করে রাখেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের নিয়ম মেনে গ্যাস বিক্রির নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream