রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: পর্যটনমন্ত্রী


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: পর্যটনমন্ত্রী
ছবি: সংগৃহীত

পর্যটন খাতে বাংলাদেশের জিডিপিতে অবদান বাড়িয়ে ৩ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের আশা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে পিপিপি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও লিজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা বাংলাদেশ ভ্রমণে ভালো ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের আরও ভালো সেবা দিতে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে পর্যটনের প্রয়োজনীয় উপাদান থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস ভিডিওবার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


পর্যটনে জিডিপির অবদান ৭ শতাংশে নিতে চাই: পর্যটনমন্ত্রী

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

পর্যটন খাতে বাংলাদেশের জিডিপিতে অবদান বাড়িয়ে ৩ থেকে ৭ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এমপি। এ লক্ষ্য অর্জনে সরকারি-বেসরকারি খাত এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার-২০২৬ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড আয়োজিত অনুষ্ঠানে ১৩টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হয়।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে পরিণত করার প্রতিশ্রুতি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে রয়েছে। সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করা, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের সম্প্রসারণ এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

কক্সবাজারকে আঞ্চলিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার কাজ চলছে জানিয়ে তিনি বলেন, কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তরের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বিমানবন্দরটি উদ্বোধনের আশা রয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশ থেকে কক্সবাজারে সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

দেশের ১ হাজার ৪৯৮টি পর্যটন স্পটে পিপিপি, জয়েন্ট ভেঞ্চার ও লিজিংয়ের মাধ্যমে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। উদ্যোক্তারা এগিয়ে এলে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে। এ ছাড়া ৫৫৪টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে ঘিরে সাংস্কৃতিক পর্যটন বিকাশে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়েছে।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে তারা বাংলাদেশ ভ্রমণে ভালো ও স্মরণীয় অভিজ্ঞতা পান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী বলেন, পরিকল্পিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের পর্যটন খাতকে এগিয়ে নিতে হবে। পর্যটকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টি সংসদীয় কমিটিতে উত্থাপন করা হবে।

ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি জি এম আজিজুর রহমান জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ট্যুরিস্ট পুলিশ কাজ করছে। পর্যটকদের আরও ভালো সেবা দিতে পুলিশ সদস্যদের বিশেষ প্রশিক্ষণও দেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে পর্যটকদের আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নিতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাড়ানোর পাশাপাশি কক্সবাজার ও কুয়াকাটায় বিচ কার্নিভাল আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, দেশে পর্যটনের প্রয়োজনীয় উপাদান থাকলেও সমন্বিত উদ্যোগের অভাবে প্রত্যাশিত অগ্রগতি হয়নি। পর্যটন নীতিমালা ও মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ চলছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, পর্যটন মহাপরিকল্পনার কাজ দ্রুত শুরু হবে। বিদেশি পর্যটক আকর্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের হয়রানি বন্ধ এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার, এনডিসি সভাপতিত্ব করেন। এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রুহুল আমীন থিমভিত্তিক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। ইউএন ট্যুরিজমের মহাসচিব মিজ পাইখা আল নুওয়াইস ভিডিওবার্তার মাধ্যমে অনুষ্ঠানে যুক্ত হন।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream