রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ গুলনাহার বেগমের



৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ গুলনাহার বেগমের

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পরও মোছা. গুলনাহার বেগম (৫৫) নামে এক নারীর সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে গুলনাহার বেগমকে খুঁজে বের করার দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নিখোঁজ নারীর স্বামী, সন্তান, স্বজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে দ্রুত গুলনাহার বেগমের সন্ধান বের করতে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিখোঁজ গুলনাহার বেগম দিনাজপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. জার্জিস আলীর স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে গুলনাহার বেগমকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রুমি সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে জাকিয়া সুলতানা রুমি অল্প সময়ের জন্য পাশের কক্ষে যান। প্রায় পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তার মা হাসপাতালের বেডে নেই। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর গুলনাহার বেগমের সন্তান, স্বামী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতাল চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 পরে ২৮ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বড় ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম। জিডি নম্বর ২৬৯৭।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা থাকার পরও হাসপাতালের বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ দিয়ে রোগী বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য বা ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজের ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলেও তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন রোগী হাসপাতালের মতো একটি নিরাপদ স্থানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে গুলনাহার বেগম কখন, কোন পথ দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়েছেন বা কেউ তাকে বের করে নিয়ে গেছেন কি না—তা দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানান তারা।

নিখোঁজ গুলনাহার বেগমের বড় ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম বলেন, ‘আমরা ৯ ভাই-বোন। মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছি এবং নিরলসভাবে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান পাইনি। মাকে না পেয়ে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত মাকে খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুনবী বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


৫ দিনেও খোঁজ মেলেনি দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নিখোঁজ গুলনাহার বেগমের

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পরও মোছা. গুলনাহার বেগম (৫৫) নামে এক নারীর সন্ধান মেলেনি। এ ঘটনায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। শনিবার বিকেল ৫টার দিকে গুলনাহার বেগমকে খুঁজে বের করার দাবিতে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে নিখোঁজ নারীর স্বামী, সন্তান, স্বজনসহ স্থানীয় এলাকাবাসী অংশ নেন। মানববন্ধন থেকে দ্রুত গুলনাহার বেগমের সন্ধান বের করতে প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানানো হয়।

নিখোঁজ গুলনাহার বেগম দিনাজপুর সদর উপজেলার ২ নম্বর সুন্দরবন ইউনিয়নের বীরগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি মো. জার্জিস আলীর স্ত্রী।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, অসুস্থ হয়ে পড়লে গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে গুলনাহার বেগমকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার বড় মেয়ে জাকিয়া সুলতানা রুমি সার্বক্ষণিক তার সঙ্গে ছিলেন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর সোমবার সকাল আনুমানিক ৬টার দিকে জাকিয়া সুলতানা রুমি অল্প সময়ের জন্য পাশের কক্ষে যান। প্রায় পাঁচ মিনিট পর ফিরে এসে তিনি দেখতে পান, তার মা হাসপাতালের বেডে নেই। এরপর হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও আশপাশের এলাকায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর গুলনাহার বেগমের সন্তান, স্বামী, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকাবাসী হাসপাতাল চত্বরসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়েও তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

 পরে ২৮ সেপ্টেম্বর দিনাজপুর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তার বড় ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম। জিডি নম্বর ২৬৯৭।

মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিসি ক্যামেরা থাকার পরও হাসপাতালের বিভিন্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার পথ দিয়ে রোগী বের হয়ে যাওয়ার দৃশ্য বা ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজের ঘটনার পরও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলেও তারা দাবি করেন।

বক্তারা আরও বলেন, একজন রোগী হাসপাতালের মতো একটি নিরাপদ স্থানে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করে গুলনাহার বেগম কখন, কোন পথ দিয়ে হাসপাতাল থেকে বের হয়েছেন বা কেউ তাকে বের করে নিয়ে গেছেন কি না—তা দ্রুত শনাক্ত করার দাবি জানান তারা।

নিখোঁজ গুলনাহার বেগমের বড় ছেলে মুজাহিদুল ইসলাম জিম বলেন, ‘আমরা ৯ ভাই-বোন। মাকে খুঁজে পাওয়ার জন্য আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করেছি এবং নিরলসভাবে খোঁজাখুঁজি চালিয়ে যাচ্ছি। কিন্তু এখনো কোনো সন্ধান পাইনি। মাকে না পেয়ে আমরা সবাই ভেঙে পড়েছি। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত মাকে খুঁজে বের করার দাবি জানাচ্ছি।

এ বিষয়ে দিনাজপুর কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নুরুনবী বলেন, ‘নিখোঁজ ব্যক্তির সন্ধানে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream