রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৯০ বছরের কেপি পাহাড়ি



পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৯০ বছরের কেপি পাহাড়ি
পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৯০ বছরের কেপি পাহাড়ি

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর এলাকায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাবু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রায় ৯০ বছর বয়সী কেপি পাহাড়ি ও তাঁর ছেলে শ্যামল পাহাড়ির দাবি, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির ৫ শতক জমি নিজেদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বাবু মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে জোর করে বাঁশ কাটা, বিভিন্ন ফলদ গাছ কেটে ফেলা, নতুন করে গাছ লাগানো এবং টিনের ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। পরে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শ্যামল পাহাড়ি।

কেপি পাহাড়ি ও তাঁর ছেলে শ্যামল পাহাড়ি ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৮৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমির মধ্যে ধানের জমির পাশাপাশি বসতবাড়িও রয়েছে। কেপি পাহাড়ির অন্য দুই শরিক তাঁদের অংশ বিক্রি করলেও তিনি ও তাঁর ছেলে তাঁদের অংশ বিক্রি করেননি।

পরিবারটির অভিযোগ, বাবু মিয়া কেপি পাহাড়ির এক ওয়ারিশের কাছ থেকে জমি কেনার পর এখন তাঁদের দখলে থাকা ৫ শতক জমিও নিজের বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা কাটা ও ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শ্যামল পাহাড়ি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জায়গা ভোগদখল করে আসছি। এখন বাবু মিয়া আমাদের ৫ শতক জায়গা নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। আমরা এখন নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।’

স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মেহেদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের ন্যায্য জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছি। পরিবারটির সঙ্গে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবু মিয়া। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি ১০০ শতক জায়গা তাঁর ওয়ারিশের কাছ থেকে কিনেছি। আমার জায়গা আমি নিচ্ছি। কাগজপত্র না দেখলে তো বিষয়টি বুঝবেন না।’

কেপি পাহাড়ির স্বজনরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তাঁরা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য মন্ত্রী ঘোড়াঘাট থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

ঘোড়াঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, ‘আমরা এই অসহায় পরিবারের পাশে আছি। তাঁরা যাতে ন্যায্য সমাধান পান, সে জন্য সার্বিক সহযোগিতা করব।’

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষকে ডাকব। তাঁদের কাগজপত্র দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যাতে একটি সুষ্ঠু সমাধান হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয়দের দাবি, উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের পাশাপাশি বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ০৪ অক্টোবর ২০২৬


পৈতৃক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ, নিরাপত্তাহীনতায় ৯০ বছরের কেপি পাহাড়ি

প্রকাশের তারিখ : ০৪ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর এলাকায় পৈতৃক সূত্রে পাওয়া জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে বাবু মিয়া নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। প্রায় ৯০ বছর বয়সী কেপি পাহাড়ি ও তাঁর ছেলে শ্যামল পাহাড়ির দাবি, তাঁদের পৈতৃক সম্পত্তির ৫ শতক জমি নিজেদের বলে দাবি করে জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা করছেন বাবু মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।

ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, বিরোধপূর্ণ ওই জমিতে জোর করে বাঁশ কাটা, বিভিন্ন ফলদ গাছ কেটে ফেলা, নতুন করে গাছ লাগানো এবং টিনের ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও সমাধান হয়নি। পরে পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে ঘোড়াঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন শ্যামল পাহাড়ি।

কেপি পাহাড়ি ও তাঁর ছেলে শ্যামল পাহাড়ি ঘোড়াঘাট পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা। পরিবারের দাবি, পৈতৃক সূত্রে পাওয়া প্রায় ৮৫ শতক জমি দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা ভোগদখল করে আসছেন। ওই জমির মধ্যে ধানের জমির পাশাপাশি বসতবাড়িও রয়েছে। কেপি পাহাড়ির অন্য দুই শরিক তাঁদের অংশ বিক্রি করলেও তিনি ও তাঁর ছেলে তাঁদের অংশ বিক্রি করেননি।

পরিবারটির অভিযোগ, বাবু মিয়া কেপি পাহাড়ির এক ওয়ারিশের কাছ থেকে জমি কেনার পর এখন তাঁদের দখলে থাকা ৫ শতক জমিও নিজের বলে দাবি করছেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে জমিতে প্রবেশ করে গাছপালা কাটা ও ঘর নির্মাণের চেষ্টা করা হচ্ছে।

শ্যামল পাহাড়ি বলেন, ‘আমরা দীর্ঘদিন ধরে পৈতৃক জায়গা ভোগদখল করে আসছি। এখন বাবু মিয়া আমাদের ৫ শতক জায়গা নিজের দাবি করে দখলের চেষ্টা করছেন। স্থানীয়ভাবে কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু কোনো সমাধান হয়নি। আমরা এখন নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়েও শঙ্কায় আছি।’

স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মেহেদুল ইসলাম বলেন, ‘ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর এই পরিবারটি অত্যন্ত অসহায়। তাদের ন্যায্য জায়গা দখলের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা অভিযোগ করেছে। বিষয়টি নিয়ে আমি কয়েকবার মীমাংসার চেষ্টা করেছি। পরিবারটির সঙ্গে মারধরের ঘটনাও ঘটেছে বলে তারা জানিয়েছে।’

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাবু মিয়া। মুঠোফোনে তিনি বলেন, ‘আমি ১০০ শতক জায়গা তাঁর ওয়ারিশের কাছ থেকে কিনেছি। আমার জায়গা আমি নিচ্ছি। কাগজপত্র না দেখলে তো বিষয়টি বুঝবেন না।’

কেপি পাহাড়ির স্বজনরা জানান, জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি তাঁরা সমাজকল্যাণমন্ত্রীর কাছে জানিয়েছেন। তাঁদের দাবি, বিষয়টির সুষ্ঠু সমাধানের জন্য মন্ত্রী ঘোড়াঘাট থানার ওসিকে ব্যবস্থা নিতে বলেছেন।

ঘোড়াঘাট পৌরসভার সাবেক মেয়র আব্দুস সাত্তার মিলন বলেন, ‘আমরা এই অসহায় পরিবারের পাশে আছি। তাঁরা যাতে ন্যায্য সমাধান পান, সে জন্য সার্বিক সহযোগিতা করব।’

ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমরা দুই পক্ষকে ডাকব। তাঁদের কাগজপত্র দেখলে বিষয়টি পরিষ্কার হবে। যাতে একটি সুষ্ঠু সমাধান হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

স্থানীয়দের দাবি, উভয় পক্ষের জমির কাগজপত্র যাচাই করে প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণের পাশাপাশি বিরোধের শান্তিপূর্ণ সমাধান করা হোক। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream