‘শেমলেস’ সিরিজে নগ্ন দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন এমি রমস। পর্দায় অভিনয় করা এসব ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের প্রভাব তাঁর ব্যক্তিজীবনেও পড়েছিল। সম্প্রতি মারিয়া শারাপোভার অনুষ্ঠান ‘প্রিটি টাফ’-এ অতিথি হয়ে নিজের সেই অভিজ্ঞতার কথা জানান এমি। তবে শুধু তিনি নন, আরও অনেক তারকাই জানিয়েছেন, পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয়ের কারণে ব্যক্তিজীবনে নানা পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে তাঁদের। এন্টারটেইনমেন্ট উইকলির প্রতিবেদন অবলম্বনে এমন ৭ তারকার কথা তুলে ধরা হলো।
‘কিলিং ইভ’ খ্যাত অভিনেত্রী জোডি কোমারও পর্দায় ঘনিষ্ঠ দৃশ্যে অভিনয় নিয়ে পরিবারের প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়েছিলেন। ২০১৭ সালে ‘দ্য হোয়াইট প্রিন্সেস’ সিরিজে অভিনয়ের সময় বেশ কয়েকটি অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখা যায় তাঁকে।
সে সময় ‘ডব্লিউ’ ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কোমার জানান, এসব দৃশ্য দেখে তাঁর বাবা অস্বস্তি বোধ করতেন। বিষয়টি নিয়ে বাবার সঙ্গে কথা বলাও তাঁর জন্য সহজ ছিল না।
কোমারের ভাষায়, স্ক্রিপ্টে এমন দৃশ্য থাকলে একজন অভিনেতার সামনে অনেক সময় সীমিত বিকল্পই থাকে। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে তাঁর অস্বস্তি কিছুটা কমেছে বলেও জানান তিনি। পরিবারের সঙ্গে বসে নিজের অন্তরঙ্গ দৃশ্য দেখার কথা অবশ্য ভাবেন না অভিনেত্রী।
লিনা ডানাম ‘গার্লস’ সিরিজে লিনা ডানামকে নগ্ন দৃশ্যে দেখা গেছে। সিরিজটি প্রচারের সময়ও এসব দৃশ্য নিয়ে গণমাধ্যমে বিস্তর আলোচনা হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর পরিবারের প্রতিক্রিয়াটা ছিল কিছুটা ভিন্ন। তাঁর বাবা শিল্পী এবং নগ্ন শরীর নিয়ে শিল্পচর্চা করেন। ফলে বাবার তাঁর নগ্ন দৃশ্য দেখা নিয়ে বিশেষ অস্বস্তি ছিল না লিনা ডানামের। তবে মা লরি সিমন্সের বিষয়টি সহজ ছিল না। ডানাম এক সাক্ষাৎকারে জানান, তাঁর মা এসব দৃশ্য দেখতে গিয়ে অস্বস্তি বোধ করতেন।
সিমন্স নিজেও পরে বলেছিলেন, মেয়েকে পর্দায় এমন অবস্থায় দেখতে একজন মা হিসেবে তাঁর অস্বস্তি হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সিরিজটির বাকি বিষয় তিনি পছন্দ করতেন।
কিট হ্যারিংটন‘গেম অব থ্রোনস’-এর জন স্নো হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত কিট হ্যারিংটনও সাম্প্রতিক সময়ে নিজের নগ্ন দৃশ্য নিয়ে রসিকতা করেছেন। ‘ইন্ডাস্ট্রি’ সিরিজে তাঁর চরিত্রকে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে দেখা যায়।
‘অ্যাক্টরস অন অ্যাক্টরস’ অনুষ্ঠানে সাবেক ‘গেম অব থ্রোনস’ সহশিল্পী পিটার ডিংকলেজের সঙ্গে আলাপচারিতায় হ্যারিংটন বলেন, যত বেশি এমন দৃশ্যে অভিনয় করছেন, ততই তাঁর মনে হচ্ছে—হয়তো এবার থামা উচিত।কারণ, এখন তিনি বাবা। তাঁর চিন্তা, একদিন তাঁর সন্তানই হয়তো প্রশ্ন করবে, ‘বাবা পর্দায় সব সময় নগ্ন কেন?’এর আগে জিমি ফ্যালনের অনুষ্ঠানে হ্যারিংটন জানিয়েছিলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি’র চতুর্থ মৌসুমের প্রায় ৯০ শতাংশ সময় তাঁকে নগ্ন অবস্থায় দেখা যায়। শুরুতে চরিত্রটির কিছু বিশেষ বৈশিষ্ট্যের কথা জেনে তিনি এমন দৃশ্যে অভিনয়ের বিষয়ে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু পরে পরিস্থিতি তাঁর ধারণার চেয়েও অনেক দূর এগিয়ে যায়।
এখন বিষয়টি নিয়ে মজা করলেও সন্তানদের বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পর্দার এসব দৃশ্য নিয়ে তাঁকে যে অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হবে, সেটি বুঝতে পারছেন অভিনেতা।
মার্গো রবি‘দ্য উলফ অব ওয়াল স্ট্রিট’ ছিল মার্গো রবির ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ছবি। ২০১৩ সালের এই ছবিতে বেশ কিছু অন্তরঙ্গ দৃশ্যে অভিনয় করেছিলেন তিনি।তবে পরিবারের সদস্যরা ছবিটি কীভাবে নেবেন, তা নিয়ে শুরু থেকেই চিন্তিত ছিলেন রবি। এমনকি শুরুতে পরিবারের কাছে তিনি বিষয়টি লুকিয়েছিলেন।ভ্যানিটি ফেয়ার-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রবি জানান, প্রথমে পরিবারকে তিনি বলেননি যে ছবিতে তাঁর নগ্ন দৃশ্য রয়েছে। পরে স্বীকার করলেও জানান, এসব দৃশ্যে নাকি বডি ডাবল ব্যবহার করা হয়েছে এবং তাঁর মুখ প্রযুক্তির সাহায্যে যুক্ত করা হবে।পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি বিশ্বাস করে ফেলেছিলেন। পরে অবশ্য ধীরে ধীরে সত্যিটা জানান অভিনেত্রী।
শেষ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে একধরনের চুক্তি করেন তিনি—তাঁরা যদি সিনেমাটি দেখতে চান, আগে বইটি পড়ে নিতে হবে। বই পড়ার পরও যদি সিনেমাটি দেখতে চান, তবেই দেখতে পারবেন।
এমি রসম‘শেমলেস’ সিরিজে ফিওনা গ্যালাগারের চরিত্রে অভিনয় করে জনপ্রিয় হন এমি রসম। এই সিরিজে তাঁর চরিত্রের নানা অন্তরঙ্গ দৃশ্য ছিল। আর সেগুলোই একটা সময় তাঁর প্রেমের জীবনে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে মারিয়া শারাপোভার ‘প্রিটি টাফ’ অনুষ্ঠানে রসম বলেন, ‘শেমলেস’-এর নগ্ন দৃশ্য তাঁর ডেটিং জীবনে বেশ জটিলতা তৈরি করেছিল।তাঁর ভাষায়, যাঁদের সঙ্গে তিনি সম্পর্কে জড়িয়েছেন, তাঁদের অনেকেরই তাঁকে নিয়ে আগে থেকেই কিছু ধারণা তৈরি হয়ে থাকত। পর্দায় তাঁকে যেভাবে দেখা গেছে, ব্যক্তিজীবনেও তাঁকে সেভাবেই দেখার প্রবণতা ছিল তাঁদের মধ্যে।একজনের কথা বিশেষভাবে মনে আছে রসমের। ওই ব্যক্তি ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। রসমের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ালে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে সমস্যা হবে কি না, তা নিয়েও তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন।রসমের কাছে পুরো কথোপকথনটিই ছিল অদ্ভুত। তাঁর প্রশ্ন ছিল—একজন অভিনেতার পর্দার চরিত্র বা দৃশ্য কীভাবে তাঁর ব্যক্তিগত পরিচয়ের সঙ্গে এক করে দেখা যায়?
হান্টার শ্যাফার‘ইউফোরিয়া’ তারকা হান্টার শ্যাফারের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও অস্বস্তিকর ছিল। কারণ, তাঁর মা–বাবা দুজনই যাজক। ২০২৪ সালে ‘কল হার ড্যাডি’ পডকাস্টে শ্যাফার জানিয়েছিলেন, ‘ইউফোরিয়া’র প্রথম পর্বে তাঁর চরিত্রের বেশ কিছু প্রাপ্তবয়স্ক ও সহিংস দৃশ্য ছিল। পরিবারের কাছে এসব দৃশ্যের কথা জানানোর সময় তাঁর অস্বস্তি হচ্ছিল।তাঁর চিন্তা ছিল শুধু মা–বাবাকে নিয়ে নয়। তাঁর বাবা-মায়ের গির্জার মানুষজনও একদিন টেলিভিশনে তাঁকে ওই চরিত্রে দেখতে পাবেন।
শ্যাফার বলেন, তাঁর বাবা-মায়ের গির্জার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে উদার হলেও বিষয়টি তাঁদের জন্য সহজ ছিল না। নিজের অভিনয়ের কারণে মা–বাবাকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে—এ জন্য তাঁর খারাপও লাগত।
মতামত