কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে চায়ের আড্ডার আড়ালে নাচ-গানসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের জন্য মুন্সীগঞ্জ থেকে এক তরুণীকে এনে আটকে রেখে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৫ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত পাঁচজনের মধ্যে মো. মোখলেছুর রহমান মিঠু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে ভূরুঙ্গামারী থানাধীন নলেয়া রশিদ মোড় এলাকা থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করা হয়। একই সময় মো. মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় চায়ের আড্ডার আড়ালে বিভিন্ন স্থান থেকে তরুণী এনে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে। গত ২৫ সেপ্টেম্বর মো. ফুল মিয়া ওরফে ফুলবরসহ কয়েকজন তিন তরুণীকে সেখানে নিয়ে আসেন বলে অভিযোগ। পরে দুজন চলে গেলেও আরশি আক্তার নামের ওই তরুণী সেখানে থেকে যান।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে তাকে আটকে রেখে সামাদের ঘাটের কাশিয়া বাড়ির কাশফুলের ক্ষেতে মো. মোখলেছুর রহমান মিঠু, মো. নাইনুল ইসলাম, মো. লিটন মিয়া, মো. আল আমিন ও মো. ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর পালাক্রমে ধর্ষণ করেন। এ সময় তার কাছে থাকা নগদ ৫ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ভুক্তভোগী মুন্সীগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী থানার মীরাপাড়া-হাজীপাড়া এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরে বাড়ি ফেরার মতো টাকা না থাকায় ভুক্তভোগী অভিযুক্তদের খুঁজতে নলেয়া রশিদ মোড় এলাকায় যান। সেখানে তাদের কাছে টাকা চাইলে তারা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। বিষয়টি স্থানীয়রা জানতে পেরে রাত ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই তরুণীকে উদ্ধার এবং মো. মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মো. মোখলেছুর রহমান মিঠু নলেয়া রশিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বাবার নাম মৃত আব্দুল গফুর।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর চারজন হলেন—মো. নাইনুল ইসলাম, পিতা মৃত নুর জামাল কসাই, সাং কাজিয়ার মোড়, নলেয়া; মো. লিটন মিয়া, পিতা মৃত গফুর, সাং নলেয়া রশিদ মোড়; মো. আল আমিন, পিতা মৃত ইউনুস আলী, সাং নলেয়া কুড়ার পাড়; এবং মো. ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর, পিতা মো. আজাহার আলী, সাং দক্ষিণ তিলাই খোঁচাবাড়ি। তাদের সবার থানা ভূরুঙ্গামারী, জেলা কুড়িগ্রাম।
ভূরুঙ্গামারী থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। উদ্ধার হওয়া তরুণীকে প্রয়োজনীয় আইনগত ও চিকিৎসা সহায়তার আওতায় নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে বলে জানা গেছে।
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়-দায়িত্ব সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
##
মতামত