শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ক্লিয়ারেন্সে ২ হাজার টাকা দাবি, দরাদরির পর ৭০০ টাকা নিলেন এএসআই



ক্লিয়ারেন্সে ২ হাজার টাকা দাবি, দরাদরির পর ৭০০ টাকা নিলেন এএসআই

‎শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিমের বিরুদ্ধে। পরে দরাদরির একপর্যায়ে ৭০০ টাকা দেওয়ার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

‎ওই অডিওতে টাকার পরিমাণ কমানোর জন্য আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগীকে আকুতি-মিনতি করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে এএসআই নাজিমকে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।

‎ভুক্তভোগী মো. রবিন মাদবর (২৩) জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের সেলিম মাদবরের ছেলে।

‎রবিনের দাবি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এএসআই নাজিম তাকে ফোন করে থানায় যেতে বলেন। পরে থানায় গিয়ে এএসআই নাজিমের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মোবাইল ফোনে কথোপকথনটি রেকর্ড করেন তিনি।

‎ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে রবিনকে বলতে শোনা যায়, স্যার প্লিজ, আপনার পায়ে ধরি। এত টাকা কই পামু? কাজটা না করলে বিপদে পড়ে যামু। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি ২ হাজার টাকা কোথা থেকে দিমু?

‎জবাবে এএসআই নাজিমকে বলতে শোনা যায়, আচ্ছা, তুমি ১ হাজার দেও। তখন রবিন বলেন, আমার কাছে টাকা নাই স্যার। আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি।

অডিওতে আরও শোনা যায়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে এএসআই নাজিম আপত্তি করেন। একপর্যায়ে তিনি অশালীন ভাষায় বলেন, তোমারে কোন … কইছে ৫০০ টাকায় ক্লিয়ারেন্স হয়ে যায়?

‎অডিওর পরবর্তী অংশে রবিনকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, এইযে এইখানে টাকা রাখছি। রবিনের দাবি, দীর্ঘ সময় অনুরোধ ও দরাদরির পর শেষ পর্যন্ত তিনি ৭০০ টাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেন।

‎রবিন বলেন, তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রয়োজনীয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে পারবেন না বলে জানান। পরে অনুরোধ করে টাকার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ৭০০ টাকা দেওয়ার কথা হয় এবং তিনি ওই টাকা দেন বলে দাবি করেন।

‎তবে টাকা দাবি ও নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই নাজিম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রবিনের বাবার ভোটার আইডি কার্ড ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ছিল না। সেগুলো দিয়ে যেতে বলেছিলাম। সে দিয়ে গেছে।

‎ভুক্তভোগীর কাছে টাকা চাওয়া ও টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই নাজিম বলেন, এমন কিছু হয়নি।

‎এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬


ক্লিয়ারেন্সে ২ হাজার টাকা দাবি, দরাদরির পর ৭০০ টাকা নিলেন এএসআই

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

‎শরীয়তপুরের জাজিরা থানায় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দাবির অভিযোগ উঠেছে থানার সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) নাজিমের বিরুদ্ধে। পরে দরাদরির একপর্যায়ে ৭০০ টাকা দেওয়ার কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

‎ওই অডিওতে টাকার পরিমাণ কমানোর জন্য আবেদন জানিয়ে ভুক্তভোগীকে আকুতি-মিনতি করতে শোনা যায়। একই সঙ্গে এএসআই নাজিমকে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করতে শোনা যায়।

‎ভুক্তভোগী মো. রবিন মাদবর (২৩) জাজিরা উপজেলার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামের সেলিম মাদবরের ছেলে।

‎রবিনের দাবি, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য অনলাইনে আবেদন করার পর তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া এএসআই নাজিম তাকে ফোন করে থানায় যেতে বলেন। পরে থানায় গিয়ে এএসআই নাজিমের সঙ্গে কথা বলার সময় নিজের মোবাইল ফোনে কথোপকথনটি রেকর্ড করেন তিনি।

‎ছড়িয়ে পড়া অডিও রেকর্ডে রবিনকে বলতে শোনা যায়, স্যার প্লিজ, আপনার পায়ে ধরি। এত টাকা কই পামু? কাজটা না করলে বিপদে পড়ে যামু। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আমি ২ হাজার টাকা কোথা থেকে দিমু?

‎জবাবে এএসআই নাজিমকে বলতে শোনা যায়, আচ্ছা, তুমি ১ হাজার দেও। তখন রবিন বলেন, আমার কাছে টাকা নাই স্যার। আমি রাজমিস্ত্রির কাজ করি।

অডিওতে আরও শোনা যায়, পুলিশ ক্লিয়ারেন্সের জন্য ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠলে এএসআই নাজিম আপত্তি করেন। একপর্যায়ে তিনি অশালীন ভাষায় বলেন, তোমারে কোন … কইছে ৫০০ টাকায় ক্লিয়ারেন্স হয়ে যায়?

‎অডিওর পরবর্তী অংশে রবিনকে বলতে শোনা যায়, “স্যার, এইযে এইখানে টাকা রাখছি। রবিনের দাবি, দীর্ঘ সময় অনুরোধ ও দরাদরির পর শেষ পর্যন্ত তিনি ৭০০ টাকা ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে দেন।

‎রবিন বলেন, তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। প্রয়োজনীয় পুলিশ ক্লিয়ারেন্স নিতে গিয়ে ২ হাজার টাকা দাবি করা হলে তিনি তা দিতে পারবেন না বলে জানান। পরে অনুরোধ করে টাকার পরিমাণ কমানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ৭০০ টাকা দেওয়ার কথা হয় এবং তিনি ওই টাকা দেন বলে দাবি করেন।

‎তবে টাকা দাবি ও নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এএসআই নাজিম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রবিনের বাবার ভোটার আইডি কার্ড ও বিদ্যুৎ বিলের কাগজ ছিল না। সেগুলো দিয়ে যেতে বলেছিলাম। সে দিয়ে গেছে।

‎ভুক্তভোগীর কাছে টাকা চাওয়া ও টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এএসআই নাজিম বলেন, এমন কিছু হয়নি।

‎এ বিষয়ে জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া সার্কেল) মোহাম্মদ মহিউদ্দিন মিরাজ বলেন, বিষয়টি আমার নজরে আসেনি। যদি এরকম কিছু হয়ে থাকে, তাহলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream