শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

রক্তে কেনা ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ: কেন বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানকে মুখোমুখি দাঁড় করানো ঐতিহাসিক ভুল



রক্তে কেনা ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ: কেন বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানকে মুখোমুখি দাঁড় করানো ঐতিহাসিক ভুল
ছবি: সংগ্রহীত

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে বছরের পর বছর ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন তাড়া করে ফিরছে, যে দুই জাতীয় বীরের ওপর ভর করে এ দেশের স্বাধীন ভূখণ্ডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, ইতিহাস ও রাজনীতিতে আমরা কি তাঁদের সঠিক ও যোগ্য আসনে বসাতে পেরেছি?

যখন রাজনীতি প্রতিপক্ষকে মুছে ফেলার নোংরা প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে, তখন বস্তুনিষ্ঠ সত্য আড়ালে চলে যায় এবং দিনশেষে গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থারই পতন ঘটে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের বজ্রকণ্ঠ এবং ২৬-২৭শে মার্চের কালুরঘাটের সাহসিক বিদ্রোহ, এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনাকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে যে বিভাজনের রাজনীতি চলেছে, সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের সেটিরই এক কঠোর শিক্ষা দেয়।

তথ্যভিত্তিক নথি, সামরিক ইতিহাস ও সমসাময়িক সংবাদপত্র পর্যালোচনা করলে একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান কেউ কারও প্রতিপক্ষ ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন একই স্বাধীন বাংলাদেশের রূপায়নের দুই পরিপূরক স্থপতি।

জীবনের চরম ঝুঁকিতে ‘আই রিভোল্ট’ এবং কালুরঘাটের অভয়বাণী

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে যখন পাকিস্তান সামরিক বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে গণহত্যা শুরু করে, তখন চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যা করেছিলেন, তা ছিল নিজের ও পরিবারের জীবন বাজি রাখা এক ঐতিহাসিক ঝুঁকি।

সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করার পাকিস্তানি নির্দেশ অমান্য করে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন সেই বিখ্যাত বাক্য, "আই রিভোল্ট" (আমি বিদ্রোহ করলাম)। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বন্দি করে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

এরপর ২৬ ও ২৭শে মার্চ কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়ার সেই বজ্রকণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। ২৭শে মার্চের ঘোষণায় তিনি স্পষ্ট কণ্ঠে সামরিক জওয়ান ও সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

"আমি মেজর জিয়াউর রহমান, আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি..."

সেই চরম অনিশ্চয়তা ও নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমানের এই সাহসিক বার্তা দিশেহারা বাঙালি জাতিকে এই বিশ্বাস জুগিয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে এবং আমরা জয়ী হব।

বঙ্গবন্ধুর অনবদ্য রাজনৈতিক ভিত্তি: জিয়ার ঘোষণার মূল শক্তি

জিয়াউর রহমানের জীবনবাজি রাখা বিদ্রোহ ও ঘোষণা যদি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূচনা করে থাকে, তবে তার পেছনের আইনি, নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করেছিলেন বাঙালি জাতি কী চায়। ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” ঘোষণার মাধ্যমে তিনি প্রতিটি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতি না থাকলে কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তার একক ঘোষণায় গোটা দেশ রাতারাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না।

সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ ও ঘোষণা, এ দুটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়: জিয়াউর রহমান কখনো বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করেননি

পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি হলেও, এই দুই বীরের জীবদ্দশায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

১. ১৯৭২ সালের 'একটি জাতির জন্ম' নিবন্ধ

১৯৭২ সালে 'সাপ্তাহিক বিচিত্রা'র বিশেষ সংখ্যায় জিয়াউর রহমান একটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে "জাতির পিতা" এবং "আমাদের মহান নেতা" হিসেবে সম্বোধন করে লেখেন:

"৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের কাছে প্রতিরোধের শেষ গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে এসেছিল।"

২. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বীর উত্তম পদক

বঙ্গবন্ধু সরকারও মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়ার বীরত্বকে খাটো করেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানকে তাঁর সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীর উত্তম' পদকে ভূষিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

প্রতিপক্ষকে মুছে ফেলার রাজনীতি এবং তার পরিণতি

জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় কখনো শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করেননি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের এই ঐতিহাসিক অবদান, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও কালুরঘাটের ঘোষণাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করার কৌশল গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানকে খাটো করার এই রাজনৈতিক চেষ্টা জাতিকে এক গভীর বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়।

রাজনীতির পরম সত্য হলো, সম্মানী মানুষকে সম্মান না দিলে নিজের সম্মানও টিকে থাকে না। এক পক্ষকে বড় করার জন্য যদি অন্য পক্ষের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক বিপর্যয়ই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

জাতীয় ঐক্যের বার্তা

আজ যদি বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলও একই ভুল করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে ইতিহাস থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টা করে, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। কালক্রমে তাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত স্থপতি আর শহীদ জিয়াউর রহমান প্রথম প্রহরের জীবনবাজি রাখা বীর ঘোষক, কাউকে খাটো না করে দুজনকে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়াই জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের একমাত্র পথ।"

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান, দুজনকেই তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সঠিক ইতিহাস ফিরিয়ে দেওয়াই হতে পারে একটি বৈষম্যহীন, ঐক্যবদ্ধ ও সভ্য বাংলাদেশ গড়ার একমাত্র উপায়।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬


রক্তে কেনা ইতিহাস ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ: কেন বঙ্গবন্ধু ও জিয়াউর রহমানকে মুখোমুখি দাঁড় করানো ঐতিহাসিক ভুল

প্রকাশের তারিখ : ০২ অক্টোবর ২০২৬

featured Image

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রাঙ্গণে বছরের পর বছর ধরে একটি মৌলিক প্রশ্ন তাড়া করে ফিরছে, যে দুই জাতীয় বীরের ওপর ভর করে এ দেশের স্বাধীন ভূখণ্ডের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল, ইতিহাস ও রাজনীতিতে আমরা কি তাঁদের সঠিক ও যোগ্য আসনে বসাতে পেরেছি?

যখন রাজনীতি প্রতিপক্ষকে মুছে ফেলার নোংরা প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে, তখন বস্তুনিষ্ঠ সত্য আড়ালে চলে যায় এবং দিনশেষে গোটা রাজনৈতিক ব্যবস্থারই পতন ঘটে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চের বজ্রকণ্ঠ এবং ২৬-২৭শে মার্চের কালুরঘাটের সাহসিক বিদ্রোহ, এই দুই ঐতিহাসিক ঘটনাকে একে অপরের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে যে বিভাজনের রাজনীতি চলেছে, সমসাময়িক রাজনৈতিক বাস্তবতা আমাদের সেটিরই এক কঠোর শিক্ষা দেয়।

তথ্যভিত্তিক নথি, সামরিক ইতিহাস ও সমসাময়িক সংবাদপত্র পর্যালোচনা করলে একটি সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান কেউ কারও প্রতিপক্ষ ছিলেন না; বরং তাঁরা ছিলেন একই স্বাধীন বাংলাদেশের রূপায়নের দুই পরিপূরক স্থপতি।

জীবনের চরম ঝুঁকিতে ‘আই রিভোল্ট’ এবং কালুরঘাটের অভয়বাণী

১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ গভীর রাতে যখন পাকিস্তান সামরিক বাহিনী 'অপারেশন সার্চলাইট'-এর নামে গণহত্যা শুরু করে, তখন চট্টগ্রামের অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-অধিনায়ক তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান যা করেছিলেন, তা ছিল নিজের ও পরিবারের জীবন বাজি রাখা এক ঐতিহাসিক ঝুঁকি।

সোয়াত জাহাজ থেকে অস্ত্র খালাস করার পাকিস্তানি নির্দেশ অমান্য করে তিনি উচ্চারণ করেছিলেন সেই বিখ্যাত বাক্য, "আই রিভোল্ট" (আমি বিদ্রোহ করলাম)। পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের বন্দি করে তিনি সহকর্মীদের নিয়ে সশস্ত্র যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন।

এরপর ২৬ ও ২৭শে মার্চ কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়ার সেই বজ্রকণ্ঠ ছড়িয়ে পড়ে পুরো দেশে। ২৭শে মার্চের ঘোষণায় তিনি স্পষ্ট কণ্ঠে সামরিক জওয়ান ও সাধারণ মানুষকে উদ্দেশ্য করে বলেন:

"আমি মেজর জিয়াউর রহমান, আমাদের মহান নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি..."

সেই চরম অনিশ্চয়তা ও নিশ্চিত মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে জিয়াউর রহমানের এই সাহসিক বার্তা দিশেহারা বাঙালি জাতিকে এই বিশ্বাস জুগিয়েছিল যে, যুদ্ধ শুরু হয়ে গেছে এবং আমরা জয়ী হব।

বঙ্গবন্ধুর অনবদ্য রাজনৈতিক ভিত্তি: জিয়ার ঘোষণার মূল শক্তি

জিয়াউর রহমানের জীবনবাজি রাখা বিদ্রোহ ও ঘোষণা যদি রক্তক্ষয়ী সংগ্রামের সূচনা করে থাকে, তবে তার পেছনের আইনি, নৈতিক ও রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করেছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা এনে দিয়ে বঙ্গবন্ধু প্রমাণ করেছিলেন বাঙালি জাতি কী চায়। ৭ই মার্চের রেসকোর্স ময়দানে “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম” ঘোষণার মাধ্যমে তিনি প্রতিটি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়েছিলেন। এই সুদীর্ঘ রাজনৈতিক প্রস্তুতি না থাকলে কেবল একজন সামরিক কর্মকর্তার একক ঘোষণায় গোটা দেশ রাতারাতি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ত না।

সুতরাং, বঙ্গবন্ধুর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম এবং জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক বিদ্রোহ ও ঘোষণা, এ দুটি ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন করে দেখার কোনো সুযোগ নেই।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়: জিয়াউর রহমান কখনো বঙ্গবন্ধুকে অসম্মান করেননি

পরবর্তীকালে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কাদা ছোড়াছুড়ি হলেও, এই দুই বীরের জীবদ্দশায় পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

১. ১৯৭২ সালের 'একটি জাতির জন্ম' নিবন্ধ

১৯৭২ সালে 'সাপ্তাহিক বিচিত্রা'র বিশেষ সংখ্যায় জিয়াউর রহমান একটি ঐতিহাসিক প্রবন্ধ লেখেন। সেখানে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে "জাতির পিতা" এবং "আমাদের মহান নেতা" হিসেবে সম্বোধন করে লেখেন:

"৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণ আমাদের কাছে প্রতিরোধের শেষ গ্রিন সিগন্যাল হিসেবে এসেছিল।"

২. রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও বীর উত্তম পদক

বঙ্গবন্ধু সরকারও মুক্তিযুদ্ধে মেজর জিয়ার বীরত্বকে খাটো করেনি। স্বাধীন বাংলাদেশে জিয়াউর রহমানকে তাঁর সাহসিকতার জন্য রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সামরিক খেতাব 'বীর উত্তম' পদকে ভূষিত করা হয় এবং পরবর্তীতে তাঁকে সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।

প্রতিপক্ষকে মুছে ফেলার রাজনীতি এবং তার পরিণতি

জিয়াউর রহমান তাঁর জীবদ্দশায় কখনো শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক অবদানকে অস্বীকার করেননি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা জিয়াউর রহমানের এই ঐতিহাসিক অবদান, মুক্তিযুদ্ধের ভূমিকা ও কালুরঘাটের ঘোষণাকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করার কৌশল গ্রহণ করেন। জিয়াউর রহমানকে খাটো করার এই রাজনৈতিক চেষ্টা জাতিকে এক গভীর বিভাজনের দিকে ঠেলে দেয়।

রাজনীতির পরম সত্য হলো, সম্মানী মানুষকে সম্মান না দিলে নিজের সম্মানও টিকে থাকে না। এক পক্ষকে বড় করার জন্য যদি অন্য পক্ষের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা হয়, তবে তার পরিণতি কতটা ভয়াবহ হতে পারে, শেখ হাসিনার দেশত্যাগ এবং আওয়ামী লীগের বর্তমান রাজনৈতিক বিপর্যয়ই তার স্পষ্ট প্রমাণ।

জাতীয় ঐক্যের বার্তা

আজ যদি বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলও একই ভুল করে এবং শেখ মুজিবুর রহমানের অবদানকে ইতিহাস থেকে পুরোপুরি মুছে ফেলার চেষ্টা করে, তবে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। কালক্রমে তাদেরও একই পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না।

"বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার অবিসংবাদিত স্থপতি আর শহীদ জিয়াউর রহমান প্রথম প্রহরের জীবনবাজি রাখা বীর ঘোষক, কাউকে খাটো না করে দুজনকে তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়াই জাতীয় রাজনৈতিক ঐক্যের একমাত্র পথ।"

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং শহীদ জিয়াউর রহমান, দুজনকেই তাঁদের প্রাপ্য সম্মান ও সঠিক ইতিহাস ফিরিয়ে দেওয়াই হতে পারে একটি বৈষম্যহীন, ঐক্যবদ্ধ ও সভ্য বাংলাদেশ গড়ার একমাত্র উপায়।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream