জুলাই বিপ্লবের অন্যতম শহীদ, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ নিহত্যার ঘটনায় বড় ধরনের শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং সাঈদ হত্যায় যুক্ত থাকার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ৩ জন শিক্ষকসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে চাকরি থেকে চিরতরে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ১২৩তম সাধারণ সভায় এই সিদ্ধান্তের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সিন্ডিকেট সদস্য।
প্রশাসনের চূড়ান্ত আদেশে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষকরা হলেন— গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল (আসাদ) এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর ও রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম।
একইসঙ্গে চাকরি হারানো কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা হলেন— তৎকালীন সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান (তুফান), সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ, অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান (বাবু), নিরাপত্তাকর্মী নুর আলম মিয়া এবং এমএলএসএস পদে কর্মরত মোহাম্মদ নুরুন্নবী মণ্ডল ও এ কে এম আমির হোসেন।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের আন্দোলন চলাকালে ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি, শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং আবু সাঈদ নিহতের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। কমিটির দেওয়া প্রতিবেদন ও সুপারিশের ভিত্তিতে পর্যালোচনা শেষে সিন্ডিকেট সভা এই প্রশাসনিক অ্যাকশন গ্রহণ করে। উল্লেখ্য, এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ আলোচিত এই হত্যা মামলার অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে বেরোবি সংলগ্ন প্রধান সড়কে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ। রাজপথে তার সেই বুক পেতে দেওয়ার সাহসিকতা পুরো দেশজুড়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে বেগবান করে তোলে, যা পরবর্তীতে চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়। শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বরখাস্তের এই সিদ্ধান্তকে ক্যাম্পাসে বিচার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক বড় ইতিবাচক পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
মতামত