নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত এক মাসে হাসপাতালটিতে ৭৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে ভর্তি রয়েছেন ৯ জন। এ অবস্থায় ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে ময়লা-আবর্জনা, ড্রেনে জমে থাকা বর্জ্য, ময়লা পানি ও দুর্গন্ধ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তির অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে গরমের কারণে অনেক ডেঙ্গু রোগী মশারি ব্যবহার না করায় হাসপাতালে থাকা অন্য রোগীদের মধ্যেও মশাবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, হাসপাতালের নিচতলায় ডেঙ্গু পুরুষ ওয়ার্ডের পাশের ড্রেনে ময়লা-আবর্জনা জমে আছে। ড্রেনের সামনে গ্রিল দিয়ে ঘেরা একটি পরিত্যক্ত স্থানেও আবর্জনার স্তূপ দেখা যায়। পর্যাপ্ত ডাস্টবিন না থাকায় রোগী ও স্বজনদের কেউ কেউ সেখানে বর্জ্য ফেলছেন বলে জানা গেছে। দীর্ঘ সময় ধরে এসব বর্জ্য পরিষ্কার না করায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
ডেঙ্গু নারী ওয়ার্ডের আশপাশেও বিভিন্ন স্থানে ময়লা পানি ও আবর্জনা পড়ে থাকতে দেখা যায়। রোগীদের অভিযোগ, এসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় দুর্গন্ধের পাশাপাশি মশার উপদ্রবও বেড়েছে। অসুস্থ অবস্থায় এমন পরিবেশে থাকতে গিয়ে তাঁদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
সম্প্রতি ঢাকার একটি পোশাক কারখানা থেকে ছুটি নিয়ে নীলফামারীর বাড়িতে ফেরেন আনোয়ারা বেগম। জ্বর ও শরীরব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর পরীক্ষায় তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন আনোয়ারা বলেন, হাসপাতালের আশপাশে থাকা ময়লা-আবর্জনা থেকে তীব্র দুর্গন্ধ আসে। অনেক সময় দুর্গন্ধ থেকে বাঁচতে নাক-মুখে হাত দিয়ে রাখতে হয়।
রোগীর স্বজন সালমা খাতুন বলেন, “ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার কারণে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছি। কিন্তু রুমে শুয়ে থাকলেও বাইরে থাকা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধ ভেতরে আসে। ডেঙ্গু রোগীদের আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি।”
নুরনাহার বেগম নামের আরেক স্বজন বলেন, তাঁর ভাতিজা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। গরমের কারণে মশারি টাঙানো হয়নি। তাঁর অভিযোগ, হাসপাতালের টয়লেট ও আশপাশের পরিবেশও অপরিচ্ছন্ন। টয়লেট থেকে দুর্গন্ধ আসায় রোগীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
রোগী মাসুদ রানা বলেন, “ওয়ার্ডের সামনে ড্রেন ও ময়লা-আবর্জনা পড়ে আছে। সেখানে পানি জমে থাকায় মশার উপদ্রব বেড়েছে। আবার রুমে ফ্যান কম থাকায় গরমও বেশি। এ কারণে মশারি টাঙানো হয়নি।”
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আসেন। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডেঙ্গু রোগীদের মশারি ব্যবহার নিশ্চিত করা না গেলে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশার মাধ্যমে অন্যদের মধ্যে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। রোগীদের মশারি ব্যবহারের জন্যও বারবার বলা হচ্ছে।
নীলফামারী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আব্দুল্লাহ হেল মাফি বলেন, “বর্তমানে হাসপাতালে যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের দেখভাল করা হচ্ছে। প্রতিদিন হাসপাতাল পরিষ্কার করা হয়। রোগীদের বারবার বলা সত্ত্বেও তাঁরা মশারি টাঙান না। এতে কিছুটা ঝুঁকি রয়েছে।”
রোগী ও স্বজনদের দাবি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ার প্রেক্ষাপটে শুধু চিকিৎসা নিশ্চিত করাই নয়, ওয়ার্ড ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা, ড্রেন ও জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং রোগীদের মশারি ব্যবহারে কার্যকর নজরদারি বাড়ানো জরুরি। এতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ও অন্যান্য রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।
মতামত