রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ধর্ষণ মামলার বিচার না চেয়ে আসামীকে স্বামী হিসেবে চায় নারী



ধর্ষণ মামলার বিচার না চেয়ে আসামীকে স্বামী হিসেবে চায় নারী
প্রতীকি ছবি

ধর্ষণ মামলার আসামীর বিচার না চেয়ে অভিযুক্ত আসামীকে স্বামী হিসেবে পেতে গতকাল রবিবার ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল এবং বিষখেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ধর্ষণ মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। মামলার যুক্তিতর্ক শুনানীকালে দুপুর সারে বারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক বাদীর হট্টগোলের মধ্যেই  রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. আককাস সিকদার ও আসামী পক্ষের এডভোকেট মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীরের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন। শুনানীচলাকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আইনজীবীগণ ও নারী পুলিশ সদস্যরা বার ডকে দাড়ানো বাদী রুনু আক্তারকে শান্ত করার চেস্টা করেন। এক পর্যায় রুনু আক্তার ট্রাইব্যুনালের বিচারককে হুমকি দিয়ে বলেন, স্যার আপনি যদি আসামী আলামিনের সাথে আমার বিয়ের ব্যবস্থা না করেন তাহলে আমি এ জীবন রাখবো না, বিষ খেয়ে আপনার সামনে আত্মহত্যা করবো। 

ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, রবিবার নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১২৫/২৩ এর যুক্তিতর্ক শুনানীর জন্য দিন ধার্যছিল। এ মামলার বাদী রাজাপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে এবং মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী রুনু আক্তার। আর আসামী রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই  এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের মো. ইউনুচ মোল্লার ছেলে মো. আল - আমিন মোল্লা। 

২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে রুনু আক্তারেক এএসআই আল আমিন একাধিকবার ধর্ষণ করেছে এ অভিযোগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ এ মামলা দায়ের করেন। সিআইডির এসআই মো. মুরসালিন গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ আলামিনকে অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আসামী আলআমিন গত ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে ট্রাইব্যুনালের তৎকালিন বিচারক এম এ হামিদ আলআমিনের জামিন মঞ্জুর করেন। গত ২৮ নভেম্বর ২০২৪ আসামী আল আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় বাদী, বাদীর নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য প্রদানের সময় থেকে রবিবার যুক্তিতর্ক শুনানীর দিন পর্যন্ত মামলার বাদী ট্রাব্যুনালে উচ্চস্বরে কথাবলেন এবং হট্টগোল করেন। 

মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, রবিবার যুক্তিতর্ক শুনানীকালে মামলার বাদী রুনা আক্তার " একাধিকবার কর্কশ ভাষায় আমার ওপরও চড়াও হয়েছেন, শুনানীতে আমাকে বারবার বেগপেতে হয়েছে। এক পর্যায় সে বিচারককে হুমকি দিয়েছেন এই বলে যে, আসামীর সাথে তাকে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, না হলে সে রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে নিজেকে শেষ করে দিবে। 

ট্রাইব্যুনারের পিপি আককাস সিকদার আরও বলেন,  ট্রাইব্যুনালের  বিচারককে শুধু মৌখিকভাবে নয় বাদী রুনু আক্তার একটি লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমেও তাঁর মনের মত উদ্ভোট দাবি করেছে। সেখানেও সে আসামী আলআমিনকে স্বামী হিসেবে পেতে ট্রাইব্যুনালের প্রতি চাপ সৃস্টি করেছে। এমনি বাদী রুনা আক্তার আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে আমাকেও হুমকি দিয়ে বলেছে, আমি যদি আসামী আলআমিনকে স্বামী হিসেবে না পাই তাহলে আপনাদের কাউকে ছাড়বো না। আমার নিজের জীবন দিয়ে বিচারকসহ আপনাদের ফাঁসিয়ে দেবো। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার বিচারে আসামীর মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড হতে পারে আবার খালাশও যেতে পারে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আসামীর সাথে ভিকটিমের বিয়ের আদেশ দিতে পারে না।  এটা আদালতের বাইরে মিচুয়াল হতে পারে। 

মামলার বাদী, রুনু আক্তার বলেন, আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কি লাভ। আমি যে কোনভাবে আলআমিনকে চাই।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ধর্ষণ মামলার বিচার না চেয়ে আসামীকে স্বামী হিসেবে চায় নারী

প্রকাশের তারিখ : ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

ধর্ষণ মামলার আসামীর বিচার না চেয়ে অভিযুক্ত আসামীকে স্বামী হিসেবে পেতে গতকাল রবিবার ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে হট্টগোল এবং বিষখেয়ে আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন ধর্ষণ মামলার বাদী রুনু আক্তার (৩০)। মামলার যুক্তিতর্ক শুনানীকালে দুপুর সারে বারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। 

ট্রাইব্যুনালের বিচারক ( জেলা ও দায়রা জজ) শরীফ মোহাম্মদ সানাউল হক বাদীর হট্টগোলের মধ্যেই  রাষ্ট্রপক্ষে ট্রাইব্যুনালের পিপি মো. আককাস সিকদার ও আসামী পক্ষের এডভোকেট মল্লিক মুহা. নাসির উদ্দিন কবীরের যুক্তিতর্ক গ্রহণ করেন। শুনানীচলাকালে ট্রাইব্যুনালের বিচারক, আইনজীবীগণ ও নারী পুলিশ সদস্যরা বার ডকে দাড়ানো বাদী রুনু আক্তারকে শান্ত করার চেস্টা করেন। এক পর্যায় রুনু আক্তার ট্রাইব্যুনালের বিচারককে হুমকি দিয়ে বলেন, স্যার আপনি যদি আসামী আলামিনের সাথে আমার বিয়ের ব্যবস্থা না করেন তাহলে আমি এ জীবন রাখবো না, বিষ খেয়ে আপনার সামনে আত্মহত্যা করবো। 

ঝালকাঠি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি এডভোকেট মো. আককাস সিকদার জানান, রবিবার নারী ও শিশু মামলা নম্বর ১২৫/২৩ এর যুক্তিতর্ক শুনানীর জন্য দিন ধার্যছিল। এ মামলার বাদী রাজাপুর থানার জগন্নাথপুর গ্রামের রুহুল আমিনের মেয়ে এবং মনির হোসেনের সাবেক স্ত্রী রুনু আক্তার। আর আসামী রাজাপুর থানার সাবেক এএসআই  এবং পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার উত্তর মুরাদিয়া গ্রামের মো. ইউনুচ মোল্লার ছেলে মো. আল - আমিন মোল্লা। 

২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর থেকে ২০২৩ সালের ২০ আগস্ট পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বিয়ের প্রলোভন ও মিথ্যা বিয়ের নাটক সাজিয়ে রুনু আক্তারেক এএসআই আল আমিন একাধিকবার ধর্ষণ করেছে এ অভিযোগে গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৩ এ মামলা দায়ের করেন। সিআইডির এসআই মো. মুরসালিন গত ১২ ডিসেম্বর ২০২৩ আলামিনকে অভিযুক্ত করে ট্রাইব্যুনালে প্রতিবেদন দাখিল করেন। আসামী আলআমিন গত ১৬ অক্টোবর ২০২৪ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করলে ট্রাইব্যুনালের তৎকালিন বিচারক এম এ হামিদ আলআমিনের জামিন মঞ্জুর করেন। গত ২৮ নভেম্বর ২০২৪ আসামী আল আমিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় অভিযোগ গঠন করে মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এ মামলায় বাদী, বাদীর নাবালক ছেলে মুবিন হোসেনসহ চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। সাক্ষ্য প্রদানের সময় থেকে রবিবার যুক্তিতর্ক শুনানীর দিন পর্যন্ত মামলার বাদী ট্রাব্যুনালে উচ্চস্বরে কথাবলেন এবং হট্টগোল করেন। 

মামলার আসামী পক্ষের আইনজীবী নাসির উদ্দিন কবীর বলেন, রবিবার যুক্তিতর্ক শুনানীকালে মামলার বাদী রুনা আক্তার " একাধিকবার কর্কশ ভাষায় আমার ওপরও চড়াও হয়েছেন, শুনানীতে আমাকে বারবার বেগপেতে হয়েছে। এক পর্যায় সে বিচারককে হুমকি দিয়েছেন এই বলে যে, আসামীর সাথে তাকে বিয়ের ব্যবস্থা করে দিতে হবে, না হলে সে রায়ের দিন ট্রাইব্যুনালে সবার সামনে নিজেকে শেষ করে দিবে। 

ট্রাইব্যুনারের পিপি আককাস সিকদার আরও বলেন,  ট্রাইব্যুনালের  বিচারককে শুধু মৌখিকভাবে নয় বাদী রুনু আক্তার একটি লিখিত দরখাস্তের মাধ্যমেও তাঁর মনের মত উদ্ভোট দাবি করেছে। সেখানেও সে আসামী আলআমিনকে স্বামী হিসেবে পেতে ট্রাইব্যুনালের প্রতি চাপ সৃস্টি করেছে। এমনি বাদী রুনা আক্তার আমার ব্যক্তিগত চেম্বারে গিয়ে আমাকেও হুমকি দিয়ে বলেছে, আমি যদি আসামী আলআমিনকে স্বামী হিসেবে না পাই তাহলে আপনাদের কাউকে ছাড়বো না। আমার নিজের জীবন দিয়ে বিচারকসহ আপনাদের ফাঁসিয়ে দেবো। তিনি আরও বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারার বিচারে আসামীর মৃত্যুদণ্ড বা কারাদণ্ড হতে পারে আবার খালাশও যেতে পারে। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল আসামীর সাথে ভিকটিমের বিয়ের আদেশ দিতে পারে না।  এটা আদালতের বাইরে মিচুয়াল হতে পারে। 

মামলার বাদী, রুনু আক্তার বলেন, আমি ধর্ষণ মামলা করেছি আল আমিনকে স্বামী হিসেবে ফেরত পেতে। তাকে সাজা দিয়ে আমার কি লাভ। আমি যে কোনভাবে আলআমিনকে চাই।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream