ঢাকার মিরপুরে হামলার শিকার বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ কার্যালয় ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। রোববার পরিদর্শনে গিয়ে হামলার সময় পুলিশের ভূমিকা ও নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
রাড্ডা এমসিএইচ দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। প্রায় ৫০ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রসূতি ও শিশুদের চিকিৎসাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। বৃহস্পতিবার হামলার সময় ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে প্রতিষ্ঠানটির চারটি ভবনসহ পুরো স্থাপনা ভেঙে ফেলা হয়। হামলার পর সেখানে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লিমিটেড’-এর একটি সাইনবোর্ডও টাঙিয়ে দেওয়া হয়।
রোববার পরিদর্শনে গিয়ে এনসিপির কর্মীরা ওই সাইনবোর্ডটি সরিয়ে ফেলেন এবং দোকানদার সমিতির আরও কিছু নিদর্শন মুছে দেন।
পরিদর্শন শেষে আসিফ মাহমুদ বলেন, রাড্ডার ভেতরে থাকা ওষুধ, ইনজেকশন ও চিকিৎসা সরঞ্জাম লুট করে নেওয়া হয়েছে। এমনকি দরিদ্র শিশুদের জন্য রাখা টিকাও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ব্যবসায়ী ও ধনীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজির পাশাপাশি মিরপুরে রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং ইসিবি চত্বরে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার মতো ঘটনা ঘটেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ‘মবতন্ত্রের কবর রচনা’ সংক্রান্ত বক্তব্য উল্লেখ করে আসিফ মাহমুদ বলেন, বাস্তবে গত দুই দিনে একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, একটি স্টুডিওসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, হামলার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি ছিল এবং সিসিটিভি ফুটেজেও পুলিশকে সেখানে দেখা গেছে। তার দাবি, এক্সকেভেটর ও ট্রাক আনার পরও পুলিশ তা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি। বরং ভাঙচুর শুরু হওয়ার পর পুলিশ সেখান থেকে চলে যায়।
পুলিশের এই ভূমিকাকে পুরোনো বাংলা সিনেমার সঙ্গে তুলনা করে আসিফ মাহমুদ বলেন, ঘটনার সময় কার্যকর পদক্ষেপ না নিয়ে পরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসার ঘটনা দেখা গেছে।
মতামত