শনিবার রাতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। পরে এক ভিডিও বার্তায় সালমান দাবি করেন, বিএনপির লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ায় তার স্টুডিওতে হামলা চালানো হয়েছে।
তবে সালমানের এই বক্তব্যের সঙ্গে ভিন্নমত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তার দাবি, পুরো ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই মন্তব্য করেছেন সালমান।
রোববার এক ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন দাবি করেন, নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ এবং তার বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একটি মামলা রয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই জমি নিয়ে আগে থেকেই বিরোধ ছিল।
রাশেদ খাঁন লিখেছেন, নিউগিনি প্রোপার্টিজের ভেতরে দুই পক্ষের জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরেই সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। তার দাবি, নিউগিনি প্রোপার্টিজের সংলগ্ন এলাকায় সাবেক কয়েকজন সরকারি কর্মকর্তার ২৩ কাঠা জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৮ কাঠা জমি নিয়ে বিরোধ চলছে।
রাশেদের ভাষ্য, সাবেক কর্মকর্তাদের অভিযোগ—প্রভাব খাটিয়ে ওই ৮ কাঠা জমি নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক নাজিম উদ্দীন দখল করেছেন। সম্প্রতি নাজিম উদ্দীনের কাছ থেকে ৫ হাজার বর্গফুট জায়গা ভাড়া নিয়ে স্টুডিও করেছিলেন সালমান মুক্তাদির।
তিনি আরও দাবি করেন, নিউগিনি প্রোপার্টিজের মালিক সম্প্রতি এমনভাবে তিনটি নতুন গেট নির্মাণ করেন, যাতে ভেতরে থাকা অন্য জমির মালিকরা প্রবেশ করতে না পারেন। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে সাবেক সরকারি কর্মকর্তারা লোকজন নিয়ে গেট ভাঙতে গেলে নাজিম উদ্দীনের সম্পদ মনে করে সালমানের স্টুডিওতেও ভাঙচুর করা হয় বলে দাবি করেন রাশেদ।
রাশেদ খাঁনের দাবি, পুরো ঘটনার সঙ্গে বিএনপি বা কোনো রাজনৈতিক দলের সম্পৃক্ততা নেই। তার মতে, জমি দখল ও পাল্টা দখলের বিরোধ থেকেই এ ঘটনা ঘটেছে।
তিনি বলেন, সালমান মুক্তাদিরের উচিত ছিল ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষের বক্তব্য নেওয়ার পর মন্তব্য করা। পুরো বিষয়টি না জেনে বিএনপির লোকজনকে চাঁদা না দেওয়ার কারণে স্টুডিও ভাঙচুর হয়েছে—এমন বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
রাশেদ খাঁন বলেন, সালমানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তারা ব্যথিত। তার দাবি, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ শাস্তি হবে এবং সালমান ন্যায়বিচার পাবেন।
মতামত