সরকারের একটি অংশ এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা একটি পক্ষ আওয়ামী লীগকে আবার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে ঝিনাইদহে খুলনা বিভাগীয় জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক শিক্ষা শিবিরে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
গোলাম পরওয়ারের দাবি, আওয়ামী লীগকে ‘ইনক্লুসিভ’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার সম্ভাব্য পথ খুঁজছে সরকারের একটি অংশ। এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে দিল্লির অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বিএনপির কয়েকজন নেতার পক্ষ থেকে আওয়ামী লীগকে দেশে ফেরানোর সঙ্গে জামায়াতের কোনো যোগসূত্র রয়েছে এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি তা অস্বীকার করেন। গোলাম পরওয়ার বলেন, এ ধরনের দাবি অসত্য ও হাস্যকর। যারা এমন অভিযোগ করছেন, তাদের কাছেই এর প্রমাণ চেয়েছেন তিনি।
তিনি আরও দাবি করেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আওয়ামী লীগের লোকজন রাজধানীর গুলশান, ধানমন্ডিসহ অন্তত ২০টি জেলায় মিছিল করেছে। তার প্রশ্ন, গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশ সক্রিয় থাকার পরও প্রশাসনের ভেতরে থাকা আওয়ামী লীগের অনুসারীদের সহযোগিতা ছাড়া এসব কর্মকাণ্ড কীভাবে সম্ভব হলো।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, সরকারের একটি অংশ এবং প্রশাসনে থাকা আওয়ামী লীগের অনুসারীরা দলটির কর্মকাণ্ড চালাতে ভেতর থেকে সহযোগিতা করছে। অথচ আওয়ামী লীগের মিছিল ও কর্মকাণ্ডের দায় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের ওপর চাপিয়ে মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরার প্রসঙ্গে গোলাম পরওয়ার বলেন, জামায়াতের নেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া ব্যক্তিদের আবার রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার সঙ্গে তাদের কোনো সম্পর্ক থাকার অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তার দাবি, জামায়াতকে রাজনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতেই এ ধরনের তথ্য ছড়ানো হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের বৃহত্তর স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে আগের নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছে জামায়াত। তবে ওই নির্বাচনে ফলাফল প্রভাবিত করা হয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাদের বক্তব্য থেকেও এমন তথ্য পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, দেশের স্বার্থে নির্বাচনের ফল মেনে নেওয়া হলেও সরকার এটিকে জামায়াতের দুর্বলতা হিসেবে দেখছে। তার দাবি, সরকারকে সহযোগিতা করে গেলেও তাদের পক্ষ থেকে জামায়াতের প্রতি রাজনৈতিক বিদ্বেষমূলক বক্তব্য ও আচরণ করা হচ্ছে।
দেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়েও সমালোচনা করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। তার ভাষ্য, দুর্নীতি এখন শুধু শহর বা সরকারি প্রশাসনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর বিস্তার প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও ঘটেছে।
জামায়াতের ‘ছায়া মন্ত্রিসভা’ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে জ্বালানি সংকটসহ সমসাময়িক ৩৮টি সমস্যা মোকাবিলায় সরকারকে বিনা খরচে বিশেষজ্ঞ সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার সেই প্রস্তাবকে গুরুত্ব দেয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সম্প্রতি ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে শেখ হাসিনার সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, গণঅভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দিয়ে ভারত সরকার সহযোগিতা করছে। তার দাবি, এসব বক্তব্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।
মতামত