জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অবস্থান বিশ্বনেতাদের সামনে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পৌঁছে এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরকে ‘ঐতিহাসিক’ হিসেবে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, দীর্ঘ সময় পর জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত একটি গণতান্ত্রিক ও প্রতিনিধিত্বশীল সরকারের প্রধান হিসেবে তারেক রহমান জাতিসংঘের বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
তিনি বলেন, এর আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘে বাংলাদেশের অবস্থান, স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ ভাবনা তুলে ধরেছেন। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রীও দেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ও জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।
মাহদী আমিন জানান, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার পর তাঁদের পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে তারেক রহমানের জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার বিষয়টিকেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরের সময়কালও তুলনামূলকভাবে সংক্ষিপ্ত বলে জানান তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র। বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ও ফিরে আসায় দুই দিন এবং নিউইয়র্কে অবস্থানের চার দিন মিলিয়ে মোট ছয় দিনের সফর এটি। এ সময়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী একাধিক দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেবেন।
মাহদী আমিন বলেন, নিউইয়র্কে চার কর্মদিবসে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হবে।
সফরসঙ্গীদের বহর ছোট রাখার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে অতীতে বড় বহর ও অতিরিক্ত ব্যয়ের যে প্রবণতা ছিল, এবার তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এবারের আনুষ্ঠানিক প্রতিনিধিদলে ৩৫ জন রয়েছেন। এর বাইরে নিরাপত্তা, গণমাধ্যম এবং প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত কর্মকর্তারা রয়েছেন।
তিনি বলেন, সীমিত পরিসরের এই প্রতিনিধিদলের মূল লক্ষ্য হচ্ছে প্রধানমন্ত্রী যাতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক বৈঠকে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, জনগণের অধিকার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের বিষয়গুলো কার্যকরভাবে তুলে ধরতে পারেন।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি সম্পর্কে মাহদী আমিন জানান, স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৮টায় জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত ওয়েলকাম ব্রেকফাস্ট রিসিপশনে অংশ নেওয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি শুরু হবে। এরপর সকাল ৯টায় সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন তিনি। সফরকালে প্রতিদিনের কূটনৈতিক বৈঠক ও কর্মসূচির সারসংক্ষেপ গণমাধ্যমকে জানানো হবে বলেও জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, জাতিসংঘে বাংলাদেশের উপ-স্থায়ী প্রতিনিধি এ কে এম ওয়াহিদুজ্জামান, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. সুজাউদ্দৌলাসহ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস টিমের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত