আধুনিক কর্মক্ষেত্র ও যাপনে টানা ঘণ্টার পর ঘণ্টা টেবিলে বসে কাজ করা, টিভি দেখা কিংবা স্মার্টফোন ব্যবহারের অলস জীবনশৈলী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। আন্তর্জাতিক সাময়িকী ‘প্লস মেডিসিন’ (PLOS Medicine)-এ প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক গবেষণায় সতর্ক করে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় নিষ্ক্রিয় বা বসে থাকার অভ্যাস শুধু হৃদরোগ নয়, ক্যানসার ও ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
যুক্তরাজ্যের ‘ইউকে বায়োব্যাংক’ (UK Biobank)-এর ৯১ হাজারেরও বেশি অংশগ্রহণকারীর পরিধানযোগ্য ডিজিটাল ট্র্যাকিং ডিভাইসের তথ্য বিশ্লেষণ করে গড়ে ১২ বছর ধরে এই পর্যবেক্ষণ চালানো হয়।
যারা একটানা বেশি সময় বসে থাকেন, তাদের ক্যানসার হওয়া এবং ক্যানসারে মারা যাওয়ার ঝুঁকি আশঙ্কাজনকভাবে বেশি।
একটানা বসে থাকার অভ্যাস প্রতি অতিরিক্ত ১ ঘণ্টার জন্য ক্যানসারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০% পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।
দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ক্রিয় জীবনযাপনের সাথে মূলত কোলোরেক্টাল ক্যানসার, স্তন ক্যানসার, লিভার ক্যানসার, কিডনি ক্যানসার, অগ্ন্যাশয়ের ক্যানসার, ডিম্বাশয়ের ক্যানসার, খাদ্যনালীর ক্যানসার এবং থাইরয়েড ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার প্রত্যক্ষ যোগসূত্র পাওয়া গেছে।
ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকা বা নিষ্ক্রিয় জীবনযাপন ক্যান্সার হওয়া এবং ক্যান্সারে মৃত্যুর ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটানা বসে থাকার প্রতি অতিরিক্ত ১ ঘণ্টার জন্য ক্যান্সারজনিত মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ১০% বৃদ্ধি পায়।
দীর্ঘদিন নিষ্ক্রিয় থাকার সাথে কোলোরেক্টাল, স্তন, লিভার, কিডনি, অগ্ন্যাশয়, ডিম্বাশয়, খাদ্যনালী এবং থাইরয়েড ক্যান্সারের সম্পর্ক পাওয়া গেছে।
দীর্ঘক্ষণ বসে থাকলে ওজন বাড়ে, যা অতিরিক্ত চর্বি জমা হতে সাহায্য করে। শরীরের অতিরিক্ত চর্বি দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের সৃষ্টি করে, যা ক্যান্সার কোষ গঠনের পরিবেশ তৈরি করে।
শারীরিক পরিশ্রমের অভাবে হরমোনের তারতম্য ঘটে, যা বিশেষ করে স্তন ক্যান্সারের মতো হরমোন-সংবেদনশীল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। প্রতিদিন ১ ঘণ্টা বসে থাকার বদলে হালকা কাজ করলে ক্যানসারে মৃত্যুঝুঁকি ১২% পর্যন্ত কমতে পারে। প্রতিদিন ৩০ মিনিট বসে থাকার বদলে হাঁটলে ঝুঁকি ৮% কমানো সম্ভব। প্রতিদিন মাত্র ৫ মিনিট তীব্র শারীরিক কার্যক্রম করলে মৃত্যুঝুঁকি ২২% পর্যন্ত কমতে পারে।
এটি একটি পর্যবেক্ষণভিত্তিক (Observational) গবেষণা। তাই দীর্ঘ সময় বসে থাকা সরাসরি ক্যান্সারের একমাত্র কারণ কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করতে আরও বিস্তর অনুসন্ধানের প্রয়োজন রয়েছে।
মতামত