বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

সকালের ৬ অভ্যাসে নিঃশব্দে ক্ষতি হচ্ছে লিভারের


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

সকালের ৬ অভ্যাসে নিঃশব্দে ক্ষতি হচ্ছে লিভারের
ছবি: সংগৃহীত

সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম থেকে উঠে চা পান করা, নাশতা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার এ ধরনের অভ্যাসকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু প্রতিদিনের রুটিনে থাকা কিছু আচরণ দীর্ঘমেয়াদে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লিভার খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এ অঙ্গে সমস্যা তৈরি হলেও শুরুতে অনেক সময় তা সহজে বোঝা যায় না। তাই দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছুটা সচেতনতা জরুরি।

১. নিয়মিত নাশতা না করা

ওজন কমানো বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে অনেকে সকালের খাবার বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস সবার জন্য উপযোগী নয়। রাতে দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার পর শরীরে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভারকে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন কাজে লাগাতে হয়। তাই সকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে। ওটস, সেদ্ধ ডিম, বাদাম বা চিয়া বীজের মতো খাবার এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।

২. দিন শুরুতেই বেশি মিষ্টি খাওয়া

মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম দেওয়া পাউরুটি, মাফিন বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়ে দিনের শুরু করাও ভালো অভ্যাস নয়। এসব খাবারে চিনি ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিনির বদলে মধু বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত গ্রহণের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

৩. খালি পেটে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সকালে খালি পেটে ভিটামিন, ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের তথাকথিত ‘হারবাল ক্লিনজ’ বা ভেষজ পণ্যের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। প্রয়োজন ছাড়া একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

৪. ঘুম থেকে উঠে একেবারেই সক্রিয় না হওয়া

অ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকা এবং দিনের শুরুতে কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড না করাও ভালো অভ্যাস নয়। লিভারসহ শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে উঠে অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ ব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে।

৫. ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা

লেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুন মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’কে অনেকেই লিভার পরিষ্কারের উপায় হিসেবে দেখেন। কিন্তু লিভার নিজেই শরীরের বিপাক ও বর্জ্য অপসারণের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই তথাকথিত ডিটক্স পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবারের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৬. আগের রাতের অনিয়মের প্রভাব

সকালের অনেক অভ্যাসের পেছনে আসলে আগের রাতের রুটিনও দায়ী। নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কিংবা রাত জেগে দীর্ঘ সময় মোবাইল-ল্যাপটপ ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব লিভারের কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

লিভার সুস্থ রাখতে তাই আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক’ পানীয় বা ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট না খাওয়ার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সকালের ৬ অভ্যাসে নিঃশব্দে ক্ষতি হচ্ছে লিভারের

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সকালের শুরুটা কেমন হচ্ছে, তার সঙ্গে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার সম্পর্ক রয়েছে। ঘুম থেকে উঠে চা পান করা, নাশতা এড়িয়ে যাওয়া কিংবা বিছানায় শুয়ে দীর্ঘ সময় মোবাইল ব্যবহার এ ধরনের অভ্যাসকে অনেকেই স্বাভাবিক মনে করেন। কিন্তু প্রতিদিনের রুটিনে থাকা কিছু আচরণ দীর্ঘমেয়াদে লিভারের স্বাভাবিক কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

লিভার খাবার থেকে প্রয়োজনীয় পুষ্টি প্রক্রিয়াজাত করা, চর্বি ও শর্করার বিপাক নিয়ন্ত্রণ এবং শরীর থেকে বিভিন্ন ক্ষতিকর উপাদান অপসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। এ অঙ্গে সমস্যা তৈরি হলেও শুরুতে অনেক সময় তা সহজে বোঝা যায় না। তাই দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছুটা সচেতনতা জরুরি।

১. নিয়মিত নাশতা না করা

ওজন কমানো বা ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের কারণে অনেকে সকালের খাবার বাদ দেন। তবে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার অভ্যাস সবার জন্য উপযোগী নয়। রাতে দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়ার পর শরীরে রক্তে শর্করার ভারসাম্য বজায় রাখতে লিভারকে সঞ্চিত গ্লাইকোজেন কাজে লাগাতে হয়। তাই সকালে হালকা ও পুষ্টিকর খাবার রাখা যেতে পারে। ওটস, সেদ্ধ ডিম, বাদাম বা চিয়া বীজের মতো খাবার এ ক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে।

২. দিন শুরুতেই বেশি মিষ্টি খাওয়া

মিষ্টি সিরিয়াল, জ্যাম দেওয়া পাউরুটি, মাফিন বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার দিয়ে দিনের শুরু করাও ভালো অভ্যাস নয়। এসব খাবারে চিনি ও ফ্রুক্টোজের পরিমাণ বেশি থাকতে পারে। অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজ গ্রহণ লিভারে চর্বি জমার সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদে ফ্যাটি লিভারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। চিনির বদলে মধু বা অন্য কোনো প্রাকৃতিক মিষ্টি ব্যবহার করলেও অতিরিক্ত গ্রহণের বিষয়টি মাথায় রাখা প্রয়োজন।

৩. খালি পেটে নিজের ইচ্ছায় ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট খাওয়া

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সকালে খালি পেটে ভিটামিন, ফুড সাপ্লিমেন্ট বা ব্যথানাশক ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে বিভিন্ন ধরনের তথাকথিত ‘হারবাল ক্লিনজ’ বা ভেষজ পণ্যের ক্ষেত্রেও সতর্ক থাকা জরুরি। প্রয়োজন ছাড়া একাধিক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

৪. ঘুম থেকে উঠে একেবারেই সক্রিয় না হওয়া

অ্যালার্ম বন্ধ করে দীর্ঘ সময় বিছানায় পড়ে থাকা এবং দিনের শুরুতে কোনো শারীরিক কর্মকাণ্ড না করাও ভালো অভ্যাস নয়। লিভারসহ শরীরের বিপাকীয় কার্যক্রম সচল রাখতে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা গুরুত্বপূর্ণ। ঘুম থেকে উঠে অল্প সময় হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং বা সহজ ব্যায়াম দিয়ে দিন শুরু করা যেতে পারে।

৫. ‘ডিটক্স ড্রিংক’-এর ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করা

লেবু, ভিনেগার, হলুদ বা রসুন মিশিয়ে তৈরি বিভিন্ন ‘ডিটক্স ড্রিংক’কে অনেকেই লিভার পরিষ্কারের উপায় হিসেবে দেখেন। কিন্তু লিভার নিজেই শরীরের বিপাক ও বর্জ্য অপসারণের গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। তাই তথাকথিত ডিটক্স পণ্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান ও সুষম খাবারের দিকে নজর দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

৬. আগের রাতের অনিয়মের প্রভাব

সকালের অনেক অভ্যাসের পেছনে আসলে আগের রাতের রুটিনও দায়ী। নিয়মিত দেরিতে ঘুমানো, ঘুমানোর আগে ভারী ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়া কিংবা রাত জেগে দীর্ঘ সময় মোবাইল-ল্যাপটপ ব্যবহার শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ ও বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব লিভারের কার্যক্রমেও পড়তে পারে।

লিভার সুস্থ রাখতে তাই আলাদা কোনো ‘ম্যাজিক’ পানীয় বা ব্যয়বহুল সাপ্লিমেন্টের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা এবং প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট না খাওয়ার মতো স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream