শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

দুপুরে খাবার পরেই কেন ঘুম আসে?


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

দুপুরে খাবার পরেই কেন ঘুম আসে?
প্রতীকি ছবি

দুপুরের খাবার পেট পুরে খাওয়ার পরেই কি চোখে ভারী হয়ে ঘুম নেমে আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় খাবারের পর তৈরি হওয়া এই তীব্র অলসতা বা ক্লান্তিবোধকে বলা হয় ‘ফুড কোমা’ বা ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’।

 কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে হুট করে নেমে আসা এই ঝিমুনি ভাব কাজের তীব্র ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকা ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে শরীর হঠাৎ এই বিশ্রামাবস্থায় চলে যায়।

সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ ডা. আইলিন ক্যান্ডে ব্যাখ্যা করেছেন খাবারের পর এমন তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরির মূল কারণ এবং তা থেকে সতেজ থাকার কৌশল।💤 খাবারের পর কেন ঘুম পায়?সাধারণত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এই তন্দ্রাভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রধান কয়েকটি শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া:হজমপ্রক্রিয়া ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: খাওয়ার পর শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শরীরকে ‘বিশ্রাম ও হজম’ (Rest and Digest) মোডে নিয়ে যায়।

রক্তে শর্করার ওঠানামা (রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া): অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (যেমন: সাদা ভাত, মিষ্টি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত পানীয়) খেলে রক্তে হুট করে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়লে পরবর্তীতে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত নেমে যায়, যাকে রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। 

এর ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত বোধ করে।হরমোনের প্রভাব: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে শরীর ‘ট্রিপটোফ্যান’ তৈরি করে, যা পরে ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়।অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: অতি-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার খালি হওয়ার গতি ধীর করে দেয় এবং বিপাকীয় চাপ বাড়ায়, ফলে ঝিমুনি ভাব তৈরি হয়।এছাড়া রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম, দেহের অভ্যন্তরীণ সার্কাডিয়ান ছন্দ (Circadian Rhythm), পানিশূন্যতা ও কিছু ওষুধের প্রভাবেও দুপুরবেলার এই ঘুমভাব দ্বিগুণ হতে পারে।

 দুপুরে সতেজ ও কর্মক্ষম থাকার উপায়বিষয়করণীয়সুষম খাদ্য নির্বাচনখাবারে গোটা শস্য (Whole Grains), হালকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমিত সমন্বয় রাখুন।পরিশোধিত কার্ব কমানোঅতিরিক্ত সাদা ভাত, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি কিংবা কোমল পানীয় পরিহার করে শাকসবজি ও ফাইবারের পরিমাণ বাড়ান।একবারে বেশি না খাওয়াদুপুরে ভারী খাবারের বদলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

কখন এটি শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে?ভারী খাবারের পর সাময়িক ক্লান্তি সাধারণ হলেও, খাবারের পরিমাণ নির্বিশেষে যদি প্রতিবারই তীব্র ক্লান্তি আসে এবং তার সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা বারবার প্রস্রাবের বেগ।অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া।চোখে ঝাপসা দেখা বা ঘন ঘন মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।এ জাতীয় দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলোর নেপথ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো সুপ্ত নিদ্রাহীনতার ব্যাধি (Sleep Apnea) থাকতে পারে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


দুপুরে খাবার পরেই কেন ঘুম আসে?

প্রকাশের তারিখ : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

দুপুরের খাবার পেট পুরে খাওয়ার পরেই কি চোখে ভারী হয়ে ঘুম নেমে আসে? চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় খাবারের পর তৈরি হওয়া এই তীব্র অলসতা বা ক্লান্তিবোধকে বলা হয় ‘ফুড কোমা’ বা ‘পোস্টপ্রান্ডিয়াল সোমনোলেন্স’।

 কর্মব্যস্ত দিনের মাঝে হুট করে নেমে আসা এই ঝিমুনি ভাব কাজের তীব্র ব্যাঘাত ঘটায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যতালিকা ও দৈনন্দিন কিছু অভ্যাসের কারণে শরীর হঠাৎ এই বিশ্রামাবস্থায় চলে যায়।

সাক্ষাৎকারে বিশেষজ্ঞ ডা. আইলিন ক্যান্ডে ব্যাখ্যা করেছেন খাবারের পর এমন তন্দ্রাচ্ছন্নতা তৈরির মূল কারণ এবং তা থেকে সতেজ থাকার কৌশল।💤 খাবারের পর কেন ঘুম পায়?সাধারণত খাবার খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টার মধ্যে এই তন্দ্রাভাব সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এর নেপথ্যে রয়েছে প্রধান কয়েকটি শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়া:হজমপ্রক্রিয়া ও প্যারাসিমপ্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্র: খাওয়ার পর শরীরের রক্তপ্রবাহের বড় অংশ অন্ত্রের দিকে প্রবাহিত হয় এবং স্নায়ুতন্ত্র শরীরকে ‘বিশ্রাম ও হজম’ (Rest and Digest) মোডে নিয়ে যায়।

রক্তে শর্করার ওঠানামা (রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া): অতিরিক্ত পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট (যেমন: সাদা ভাত, মিষ্টি, পেস্ট্রি বা চিনিযুক্ত পানীয়) খেলে রক্তে হুট করে গ্লুকোজের মাত্রা বেড়ে যায়। তা নিয়ন্ত্রণে ইনসুলিন নিঃসরণ বাড়লে পরবর্তীতে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত নেমে যায়, যাকে রিঅ্যাকটিভ হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। 

এর ফলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত বোধ করে।হরমোনের প্রভাব: প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার থেকে শরীর ‘ট্রিপটোফ্যান’ তৈরি করে, যা পরে ঘুম ও মেজাজ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন সেরোটোনিন ও মেলাটোনিনে রূপান্তরিত হয়।অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার: অতি-চর্বিযুক্ত খাবার পাকস্থলী থেকে খাবার খালি হওয়ার গতি ধীর করে দেয় এবং বিপাকীয় চাপ বাড়ায়, ফলে ঝিমুনি ভাব তৈরি হয়।এছাড়া রাতে অপর্যাপ্ত ঘুম, দেহের অভ্যন্তরীণ সার্কাডিয়ান ছন্দ (Circadian Rhythm), পানিশূন্যতা ও কিছু ওষুধের প্রভাবেও দুপুরবেলার এই ঘুমভাব দ্বিগুণ হতে পারে।

 দুপুরে সতেজ ও কর্মক্ষম থাকার উপায়বিষয়করণীয়সুষম খাদ্য নির্বাচনখাবারে গোটা শস্য (Whole Grains), হালকা প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমিত সমন্বয় রাখুন।পরিশোধিত কার্ব কমানোঅতিরিক্ত সাদা ভাত, প্রক্রিয়াজাত মিষ্টি কিংবা কোমল পানীয় পরিহার করে শাকসবজি ও ফাইবারের পরিমাণ বাড়ান।একবারে বেশি না খাওয়াদুপুরে ভারী খাবারের বদলে পরিমিত পরিমাণে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।

কখন এটি শারীরিক জটিলতার ইঙ্গিত হতে পারে?ভারী খাবারের পর সাময়িক ক্লান্তি সাধারণ হলেও, খাবারের পরিমাণ নির্বিশেষে যদি প্রতিবারই তীব্র ক্লান্তি আসে এবং তার সাথে নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি:অতিরিক্ত তৃষ্ণা বা বারবার প্রস্রাবের বেগ।অস্বাভাবিকভাবে ওজন বৃদ্ধি বা হ্রাস পাওয়া।চোখে ঝাপসা দেখা বা ঘন ঘন মনোযোগ হারিয়ে ফেলা।এ জাতীয় দীর্ঘস্থায়ী উপসর্গগুলোর নেপথ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, থাইরয়েডের সমস্যা কিংবা অন্য কোনো সুপ্ত নিদ্রাহীনতার ব্যাধি (Sleep Apnea) থাকতে পারে।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream