বাংলাদেশের খাবারের প্রশংসা করতে গিয়ে প্রকাশ্যে গরুর মাংস (বিফ) খাওয়ার কথা স্বীকার করে নেট দুনিয়ায় তীব্র কটাক্ষ ও বিতর্কের মুখে পড়েছেন পশ্চিমবঙ্গের বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। এমতাবস্থায় প্রবীণ এই অভিনেতার সমর্থনে মতামত প্রকাশ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ‘মা’ ধারাবাহিক খ্যাত অভিনেত্রী ‘ঝিলিক’ ওরফে তিথি বসু।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬) আনন্দবাজার ও হিন্দুস্তান টাইমস বাংলার পৃথক প্রতিবেদন থেকে এই বিতর্কের কথা জানা যায়।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের আতিথেয়তা ও রূপালি জগতের অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ওপারের খাবার বিশেষ করে ইলিশ ও বিফ রান্নার ভুয়সী প্রশংসা করেন বিশ্বজিৎ চক্রবর্তী। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর একশ্রেণীর নেটিজেনরা হিন্দু ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তুলে প্রবীণ এই অভিনেতার প্রতি কটূক্তি শুরু করেন।
বিতর্ক উসকে দিয়ে অভিনেত্রী দাবি করেন, কলকাতার বিনোদন জগতের অনেকেই প্রকাশ্যে না বললেও আড়ালে বিফ খেয়ে থাকেন। তিনি বলেন, “আমাদের ধারাবাহিকেই এমন অনেক ব্রাহ্মণ শিল্পী ছিলেন যারা সেটে বসে গরুর মাংসের গল্প করতেন। ২০১০ সাল নাগাদ কলকাতার জনপ্রিয় জায়গায় যখন গরুর মাংস বিক্রি হতো, সেখানে অনেক হিন্দু ও খ্যাতনামা গায়ক-কর্মকর্তাদের ভিড় করতে দেখেছি।”
খাদ্যাভ্যাস নিয়ে খোলামেলা মন্তব্য করতে গিয়ে তিথি যোগ করেন, “বাস্তব এটাই যে বহু মানুষ গরুর মাংস খায়। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে মুসলিমদের চেয়ে হিন্দুরাই বেশি খায়। যারা প্রকাশ্যে বলে না, তারাও আড়ালে খায়। কার কী ধর্ম বা খাদ্যাভ্যাস—তা অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া উচিত নয়।”
তিথি বসুর এই মন্তব্যের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর ওপর চড়াও হয়েছেন ক্ষুব্ধ নেটিজেনরা। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, “তুমিও বিফ খাও? তোমার ওপর থেকে সব শ্রদ্ধা চলে গেল”, কিংবা “হিন্দুর নামে তুমি কলঙ্ক!”। কেউ কেউ পরামর্শ দিয়ে লিখেছেন, এমন স্পর্শকাতর বিষয়ে কথা না বলাই তাঁর জন্য ভালো ছিল। সব মিলিয়ে বিশ্বজিৎ চক্রবর্তীর সমর্থনে কথা বলতে গিয়ে ওপার বাংলার সিনেপাড়ায় এখন আলোচনার শীর্ষে তিথি বসু।
মতামত