উজিরপুর (বরিশাল) প্রতিনিধি:
বরিশালের উজিরপুরে প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন আরসিসি আর্চ সেতু এখন স্থানীয় মানুষের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। নান্দনিক স্থাপত্যশৈলী ও মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশের কারণে প্রতিদিনই দূরদূরান্ত থেকে মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় করছেন। স্থানীয়দের অনেকেই এর নকশাকে রাজধানীর হাতিরঝিল এলাকার সেতুর সঙ্গে তুলনা করছেন।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় উজিরপুর উপজেলার সানুহার আরঅ্যান্ডএইচ-ধামুরা জিসি-জল্লা-সাতলা জিসি সড়কের ৭৮৬০ মিটার চেইনেজে ধামুরা খালের ওপর ৫৫ দশমিক ০৬ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি আর্চ সেতুটি নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পে বাংলাদেশ সরকার (জিওবি) ও আইডিএ যৌথভাবে অর্থায়ন করেছে।
সেতুটির মোট প্রকল্প ব্যয় ৯ কোটি ৯৪ লাখ ২৩ হাজার ৫৭০ টাকা। এর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২৩ সালের ৪ মে এবং নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হয় ২০২৬ সালের ২৮ এপ্রিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করেছে এলজিইডি এবং কাজটি সম্পন্ন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এম/এস এমএই-শামস-উপকূল (জেভি)।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কোনো ধরনের কালক্ষেপণ ছাড়াই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেতুটির নির্মাণকাজ সফলভাবে শেষ করা হয়। পরবর্তীতে উদ্বোধনের পর তা যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এর ফলে সানুহার-ধামুরা-জল্লা-সাতলা সড়কে চলাচলকারী সাধারণ মানুষকে আর আগের মতো খাল পারাপারে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে না। সেতুটি চালু হওয়ায় এ অঞ্চলের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও সহজ ও গতিশীল হয়েছে।
সেতুটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ এর দৃষ্টিনন্দন নির্মাণশৈলী। ধামুরা খালের ওপর নির্মিত আর্চ আকৃতির এই সেতুটি দূর থেকেই মানুষের নজর কাড়ে। সেতুর আধুনিক স্থাপত্যের সঙ্গে খাল ও আশপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলে তৈরি হয়েছে এক মনোরম দৃশ্য। বিশেষ করে বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সেতু ও এর আশপাশের এলাকায় দর্শনার্থীদের উপচেপড়া উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ লিটু মিয়া জানান, একসময় সেতুটি ভেঙে যাওয়ায় সাতলা-বরিশাল রুটে সরাসরি বাস চলাচল সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল। এমনকি ধামুরা খাল পারাপারেও এলাকাবাসীকে নানা ভোগান্তির শিকার হতে হতো। নতুন এই সেতুটি নির্মাণের ফলে মানুষের দীর্ঘদিনের যোগাযোগ-সংক্রান্ত দুর্ভোগের অবসান ঘটেছে। একই সঙ্গে দৃষ্টিনন্দন এই স্থাপনাটি পুরো এলাকার সৌন্দর্য বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে। এখন এটি কেবল যোগাযোগের মাধ্যমই নয়, উজিরপুরের একটি দর্শনীয় স্থানেও পরিণত হয়েছে।
উপজেলা প্রকৌশলী সুব্রত রায় বলেন, সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা এবং নিরলস প্রচেষ্টার ফলেই সেতুটির নির্মাণকাজ মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। কাজের গুণগত মান বজায় রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, সেতুটিকে ঘিরে যদি পরিকল্পিত সৌন্দর্যবর্ধন, আধুনিক আলোকসজ্জা ও দর্শনার্থীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি অত্র অঞ্চলের অন্যতম সেরা পর্যটন কেন্দ্রে রূপ নিতে পারে। এতে একদিকে যেমন এলাকার পর্যটন সম্ভাবনা বিকশিত হবে, অন্যদিকে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
মতামত