বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট নির্ধারণ ইসির


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট নির্ধারণ ইসির
ছবি: সংগৃহীত

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সম্ভাব্য সাতটি ধাপের তারিখ ঘোষণার বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় ‘বিব্রত’ বোধ করছে ইসি। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, ভোটের তারিখ নির্ধারণে যেসব বিষয় ও তথ্য-উপাত্ত আমলে নেওয়া হয়, সেসব তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কারণে ভোটের তারিখ নির্ধারণে এমন ভুল হয়েছে। এই অবস্থায় ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করছে ইসি। শিগগিরই কমিশন সভা করে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিব্রত কমিশন। তারা মনে করেন, তারিখ নির্ধারণে নিজেদের ভুল ও অদূরদর্শিতা ছিল সত্য। তবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা ইসির জন্য সম্মানজনক নয়। 

ইসি গত রোববার ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য তারিখগুলো হচ্ছে- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের (২০২৭) ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইউপির নির্বাচন ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ভোটের তারিখ সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে আগামী ১৩ ডিসেম্বর। অথচ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর। আগামী ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। ওইদিন দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে। 

ইসি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকেরা কাজ করে থাকেন। পরীক্ষা বহাল রাখা হলে ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ নেই।  

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে ইসি। ওইদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সরকারি দল বিএনপি। অথচ ওইদিন তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসি। 

সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য কিছু তারিখে পরিবর্তন আনবে কমিশন। তবে এবার আনুষ্ঠানিক কমিশন সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বুধবার নির্বাচন কমিশনারদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমনই আলোচনা হয়েছে।  

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। 

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ইসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা। এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


খালেদা জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকী ও বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউপি ভোট নির্ধারণ ইসির

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী এবং জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার দিনে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোটের তারিখ নির্ধারণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনের সম্ভাব্য সাতটি ধাপের তারিখ ঘোষণার বিষয়টি কমিশনের নজরে এসেছে। এ ঘটনায় ‘বিব্রত’ বোধ করছে ইসি। নির্বাচন কমিশন মনে করছে, ভোটের তারিখ নির্ধারণে যেসব বিষয় ও তথ্য-উপাত্ত আমলে নেওয়া হয়, সেসব তথ্য যথাযথভাবে উপস্থাপন করতে পারেননি ইসি সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ কারণে ভোটের তারিখ নির্ধারণে এমন ভুল হয়েছে। এই অবস্থায় ভোটের তারিখে পরিবর্তন আনার কথা চিন্তা করছে ইসি। শিগগিরই কমিশন সভা করে এ বিষয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। ইসির সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুজন নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ঘোষণার পর সরকারের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে বিব্রত কমিশন। তারা মনে করেন, তারিখ নির্ধারণে নিজেদের ভুল ও অদূরদর্শিতা ছিল সত্য। তবে মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও প্রতিমন্ত্রী যেভাবে বক্তব্য দিয়েছেন তা ইসির জন্য সম্মানজনক নয়। 

ইসি গত রোববার ও সোমবার অনানুষ্ঠানিক বৈঠক করে সাত ধাপে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করে। ইসির ঘোষণা অনুযায়ী, সম্ভাব্য তারিখগুলো হচ্ছে- প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ আগামী বছরের (২০২৭) ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং সপ্তম ও শেষ ধাপের ভোট ২৭ মে। এর মধ্যে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ধাপে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক ইউপির নির্বাচন ধরা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপের ভোটের তারিখ সম্ভাব্য তারিখ হচ্ছে আগামী ১৩ ডিসেম্বর। অথচ জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৮, ১০, ১৩ ও ১৫ ডিসেম্বর। আগামী ১৩ ডিসেম্বর গণিত পরীক্ষা হওয়ার কথা রয়েছে। ওইদিন দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ রাখা হয়েছে। 

ইসি ও শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইউপি নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র হিসেবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যবহার করা হয়। ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে শিক্ষকেরা কাজ করে থাকেন। পরীক্ষা বহাল রাখা হলে ৮ থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো ধরনের নির্বাচন আয়োজন করার সুযোগ নেই।  

তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য তারিখ ৩০ ডিসেম্বর নির্ধারণ করেছে ইসি। ওইদিন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। এই দিন বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে সরকারি দল বিএনপি। অথচ ওইদিন তৃতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনের ভোটের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করেছে ইসি। 

সূত্রমতে, বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠেয় আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের পর ইউপি নির্বাচনের সম্ভাব্য কিছু তারিখে পরিবর্তন আনবে কমিশন। তবে এবার আনুষ্ঠানিক কমিশন সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বুধবার নির্বাচন কমিশনারদের অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এমনই আলোচনা হয়েছে।  

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ যুগান্তরকে বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় যে আলোচনা ও পরামর্শ উঠে আসবে, তা বিবেচনায় নিয়ে পরবর্তীতে ইউপি ভোটের তারিখ চূড়ান্ত করা হবে। 

এদিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন ও ইউপি নির্বাচন সামনে রেখে বৃহস্পতিবার ইসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা। এ সভায় মন্ত্রিপরিষদ সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream