বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেই শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত যান


সত্যজিৎ দাস
সত্যজিৎ দাস জেলা প্রতিনিধি
| ফটো কার্ড

বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেই শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত যান
পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলে টমটমের লম্বা লাইন

কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা,ইজিবাইক ও ভ্যানের সংখ্যা। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার। বৈধ চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যারেজ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনায় অবৈধ সংযোগে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী,উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল করছে। এর মধ্যে শুধু পৌর শহর ও বাজার এলাকায় চলাচল করছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। এসব যানবাহনের মধ্যে ৫৯৫টির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে এর বাইরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যান চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, একটি ইজিবাইকে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। সম্পূর্ণ চার্জ দিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে এবং এতে প্রায় আট থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ব্যাটারি চার্জে গড়ে প্রায় তিন ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এ হিসাবে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলাচলকারী সব ধরনের ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে মাসে আনুমানিক ২১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বর্তমান হিসাবে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী,শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৬৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের মাসিক গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট। ফলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিংয়ে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ স্থানীয় মোট ব্যবহারের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ও চার্জিং পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে,রাতের দিকে গ্যারেজগুলোতে একসঙ্গে একাধিক অটোরিকশা,ইজিবাইক ও ভ্যান রাখা হচ্ছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি কয়েক ঘণ্টা ধরে চার্জ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,কিছু গ্যারেজে বৈধ মিটারের বাইরে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও মিটার কারসাজির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

চালকদের কয়েকজন জানান,অনেকেই রাতে গাড়ি গ্যারেজে রেখে ব্যাটারি চার্জ করান। এ জন্য গাড়িপ্রতি গ্যারেজ মালিককে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। বৈধ সংযোগে চার্জ দিলে ব্যয় বেশি হওয়ায় কিছু গ্যারেজ মালিক অবৈধ সংযোগের দিকে ঝুঁকছেন বলে তাদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বলেন, দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং হয়। অন্যদিকে অনেক গ্যারেজে রাতভর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চার্জিং পয়েন্টের জন্য আমাদের ১১৫টি বৈধ সংযোগ রয়েছে। অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।’

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘চাহিদার তুলনায় আমরা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়,চাহিদা অনুযায়ী সেটিই বিতরণ করা হয়। জ্বালানি ঘাটতির কারণেও লোডশেডিং হচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ও মালিক-চালকদের তথ্য সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টমটম মালিক ও চালকদের তথ্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনিবন্ধিত আরও অনেক যান চলাচল করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়ছে। বিভিন্ন তথ্যে দেশে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা কয়েক দশ লাখে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে ব্যাটারি চার্জে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। কোথাও কোথাও অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে,শ্রীমঙ্গলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি এখন স্থানীয় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা বাড়ানো, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়মিত নজরদারি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে এসব চার্জিং পয়েন্ট স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিষয় : শ্রীমঙ্গল বিদ্যুৎ ঘাটতি

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬


বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেই শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত যান

প্রকাশের তারিখ : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা,ইজিবাইক ও ভ্যানের সংখ্যা। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার। বৈধ চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যারেজ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনায় অবৈধ সংযোগে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী,উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল করছে। এর মধ্যে শুধু পৌর শহর ও বাজার এলাকায় চলাচল করছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। এসব যানবাহনের মধ্যে ৫৯৫টির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে এর বাইরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যান চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, একটি ইজিবাইকে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। সম্পূর্ণ চার্জ দিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে এবং এতে প্রায় আট থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ব্যাটারি চার্জে গড়ে প্রায় তিন ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এ হিসাবে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলাচলকারী সব ধরনের ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে মাসে আনুমানিক ২১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বর্তমান হিসাবে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী,শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৬৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের মাসিক গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট। ফলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিংয়ে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ স্থানীয় মোট ব্যবহারের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য।

সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ও চার্জিং পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে,রাতের দিকে গ্যারেজগুলোতে একসঙ্গে একাধিক অটোরিকশা,ইজিবাইক ও ভ্যান রাখা হচ্ছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি কয়েক ঘণ্টা ধরে চার্জ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,কিছু গ্যারেজে বৈধ মিটারের বাইরে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও মিটার কারসাজির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।

চালকদের কয়েকজন জানান,অনেকেই রাতে গাড়ি গ্যারেজে রেখে ব্যাটারি চার্জ করান। এ জন্য গাড়িপ্রতি গ্যারেজ মালিককে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। বৈধ সংযোগে চার্জ দিলে ব্যয় বেশি হওয়ায় কিছু গ্যারেজ মালিক অবৈধ সংযোগের দিকে ঝুঁকছেন বলে তাদের অভিযোগ।

স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বলেন, দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং হয়। অন্যদিকে অনেক গ্যারেজে রাতভর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চার্জিং পয়েন্টের জন্য আমাদের ১১৫টি বৈধ সংযোগ রয়েছে। অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।’

লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘চাহিদার তুলনায় আমরা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়,চাহিদা অনুযায়ী সেটিই বিতরণ করা হয়। জ্বালানি ঘাটতির কারণেও লোডশেডিং হচ্ছে।’

শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ও মালিক-চালকদের তথ্য সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টমটম মালিক ও চালকদের তথ্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনিবন্ধিত আরও অনেক যান চলাচল করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়ছে। বিভিন্ন তথ্যে দেশে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা কয়েক দশ লাখে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে ব্যাটারি চার্জে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। কোথাও কোথাও অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে,শ্রীমঙ্গলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি এখন স্থানীয় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা বাড়ানো, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়মিত নজরদারি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে এসব চার্জিং পয়েন্ট স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream