মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
শ্রীমঙ্গলে গ্রান্ড সুলতান থেকে মোহাজিরাবাদ সড়কের কাজ অবিলম্বে শুরু করার দাবীতে মানববন্ধন

শ্রীমঙ্গলে গ্রান্ড সুলতান থেকে মোহাজিরাবাদ সড়কের কাজ অবিলম্বে শুরু করার দাবীতে মানববন্ধন

দেওয়ান মাসুকুর রহমান:  নিজস্ব প্রতিবেদক | শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার), ০৪ অক্টোবর ২০২৬ : দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা শ্রীমঙ্গল উপজেলার পিচের মুখ গ্রান্ড সুলতান- রাধানগর–মোহাজিরাবাদ সড়কের নির্মাণকাজ অবিলম্বে পুনরায় শুরু, দ্রুত ও মানসম্মতভাবে সম্পন্ন করার দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী। এবং পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবিও করেছে এলাকাবাসী। মানববন্ধন শেষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) কার্যালয়ে গিয়ে একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। তবে স্মারকলিপি প্রদানের সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না।রোববার (০৪ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে গ্র্যান্ড সুলতান টি রিসোর্ট এন্ড গল্পের সম্মুখে পিচেরমুখ এলাকায় আয়োজিত এই শান্তিপূর্ণ মানববন্ধনে এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। দ্বারিকাপাল মহিলা ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক অনিরুদ্ধ সেনগুপ্তের সভাপতিত্বে এবং আহসানুল্লাহ সুমনের সঞ্চালনায় এ মানববন্ধন সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল থাকায় প্রতিদিন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, রোগী, কৃষক, ব্যবসায়ী, শ্রমিক, নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর সড়কের নির্মাণকাজ শুরু হলেও অল্প কিছু অংশের কাজ সম্পন্ন করে তা হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়। অথচ গত ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের মধ্যে কাজটি সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। রাস্তার কাজ শেষ না করেই পুরো সড়কে সোলিং ও প্লাস্টারের কাজ করায় জনগণের দুর্ভোগ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে। বর্তমানে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত, কাদা ও পানি জমে থাকায় মুমূর্ষু রোগীকে নিয়ে শহরমুখী হওয়া বা হাসপাতালে যাওয়া অত্যন্ত দুরূহ হয়ে পড়েছে।এলাকাবাসী জানান, গ্রান্ড সুলতান - পিচেরমুখ–মোহাজিরাবাদ এলাকাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পর্যটন ও কৃষিপ্রধান অঞ্চল। এখানে শতাধিক বাগান ও অসংখ্য রিসোর্ট রয়েছে। এসব বাগান থেকে লেবু, আনারস, কাঁঠাল, কলা ও চা পাতার মতো নানা কৃষিপণ্য এবং দেশি-বিদেশি পর্যটক নিয়মিত এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করেন। সড়কের বেহাল দশার কারণে উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নেওয়া সম্ভব না হওয়ায় তা নষ্ট হচ্ছে এবং কৃষক ও ব্যবসায়ীরা আর্থিকভাবে মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।স্মারকলিপির মূল দাবিগুলো:মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসীর পক্ষে শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে যে স্মারকলিপি দেওয়া হয়, তাতে ৫ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়:১. গ্রান্ড সুলতান - রাধানগর–মোহাজিরাবাদ সড়কের নির্মাণকাজ অবিলম্বে পুনরায় শুরু করতে হবে।২. কাজটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মানসম্মত ও টেকসইভাবে সম্পন্ন করতে হবে।৩. কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত সড়কের গর্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলো জরুরি ভিত্তিতে সংস্কার করে জনসাধারণের চলাচলের উপযোগী রাখতে হবে।৪. নির্মাণকাজের মান ও অগ্রগতি যথাযথভাবে তদারকি করতে হবে।৫. কাজ পুনরায় শুরু ও সম্পন্ন করার বিষয়ে এলাকাবাসীকে নির্দিষ্ট সময়সূচি জানানো এবং তা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।সংবাদ সংগ্রহের সময় জানা যায়, স্মারকলিপিটি জমা দেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন না; তবে এলাকাবাসীর পক্ষে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে স্মারকলিপিটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। স্মারকলিপি প্রদানকালে স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও এলাকাবাসীর পক্ষে মো. জামাল খান, তাজুল ইসলাম, আয়নাল হাসান, নাজির মিয়া, নূরুল আলম সোহাগ, মো. আলাউদ্দিন, মো. মামুনুর রশীদ, মো. সালাহউদ্দিন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।বক্তারা হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, দ্রুত সড়ক সংস্কার ও নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করা না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবেন। এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেই শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত যান

কম ভাড়া ও সহজলভ্যতার কারণে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দ্রুত বাড়ছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা,ইজিবাইক ও ভ্যানের সংখ্যা। একই সঙ্গে এসব যানবাহনের ব্যাটারি চার্জ দিতে বাড়ছে বিদ্যুতের ব্যবহার। বৈধ চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি বিভিন্ন গ্যারেজ ও ব্যক্তিমালিকানাধীন স্থাপনায় অবৈধ সংযোগে ব্যাটারি চার্জ দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি রাজস্ব হারাচ্ছে বিদ্যুৎ বিভাগ।শ্রীমঙ্গল পৌরসভা ও স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী,উপজেলায় প্রায় ৭ হাজার অটোরিকশা, ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত ভ্যান চলাচল করছে। এর মধ্যে শুধু পৌর শহর ও বাজার এলাকায় চলাচল করছে প্রায় ২ হাজার ৫০০টি। এসব যানবাহনের মধ্যে ৫৯৫টির লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তবে স্থানীয়ভাবে এর বাইরেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ব্যাটারিচালিত যান চলাচল করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের হিসাবে, একটি ইজিবাইকে সাধারণত চার থেকে পাঁচটি ১২ ভোল্টের ব্যাটারি থাকে। সম্পূর্ণ চার্জ দিতে পাঁচ থেকে সাত ঘণ্টা সময় লাগে এবং এতে প্রায় আট থেকে ১০ ইউনিট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত ভ্যানের ব্যাটারি চার্জে গড়ে প্রায় তিন ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। এ হিসাবে শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলাচলকারী সব ধরনের ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ব্যাটারি চার্জে মাসে আনুমানিক ২১ লাখ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহৃত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা। বর্তমান হিসাবে এর আর্থিক মূল্য প্রায় ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা।মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের তথ্য অনুযায়ী,শ্রীমঙ্গল উপজেলায় তাদের প্রায় ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৬৬ জন গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের মাসিক গড় বিদ্যুৎ ব্যবহার প্রায় ১ কোটি ৮০ লাখ ইউনিট। ফলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের চার্জিংয়ে ব্যবহৃত বিদ্যুতের পরিমাণ স্থানীয় মোট ব্যবহারের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্য।সরেজমিনে পৌর শহরের বিভিন্ন এলাকা ও চার্জিং পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে,রাতের দিকে গ্যারেজগুলোতে একসঙ্গে একাধিক অটোরিকশা,ইজিবাইক ও ভ্যান রাখা হচ্ছে। এসব যানবাহনের ব্যাটারি কয়েক ঘণ্টা ধরে চার্জ দেওয়া হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ,কিছু গ্যারেজে বৈধ মিটারের বাইরে সংযোগ নেওয়া হয়েছে। কোথাও কোথাও মিটার কারসাজির মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।চালকদের কয়েকজন জানান,অনেকেই রাতে গাড়ি গ্যারেজে রেখে ব্যাটারি চার্জ করান। এ জন্য গাড়িপ্রতি গ্যারেজ মালিককে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ টাকা দিতে হয়। বৈধ সংযোগে চার্জ দিলে ব্যয় বেশি হওয়ায় কিছু গ্যারেজ মালিক অবৈধ সংযোগের দিকে ঝুঁকছেন বলে তাদের অভিযোগ।স্থানীয় বাসিন্দা রায়হান আহমেদ বলেন, দিনে বিদ্যুৎ থাকলেও সন্ধ্যার পর বিভিন্ন সময়ে লোডশেডিং হয়। অন্যদিকে অনেক গ্যারেজে রাতভর একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে কি না, তা কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার সুজিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘চার্জিং পয়েন্টের জন্য আমাদের ১১৫টি বৈধ সংযোগ রয়েছে। অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযান চলমান রয়েছে।’লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন,‘চাহিদার তুলনায় আমরা কম বিদ্যুৎ পাচ্ছি। যে পরিমাণ বিদ্যুৎ পাওয়া যায়,চাহিদা অনুযায়ী সেটিই বিতরণ করা হয়। জ্বালানি ঘাটতির কারণেও লোডশেডিং হচ্ছে।’শ্রীমঙ্গল পৌরসভা সূত্রে জানা গেছে, ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা ও মালিক-চালকদের তথ্য সংগ্রহ করে পরিচয় শনাক্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টমটম মালিক ও চালকদের তথ্য থানায় পাঠানো হয়েছে। তবে শহর ও উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অনিবন্ধিত আরও অনেক যান চলাচল করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত যানবাহনের দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে বিদ্যুতের ব্যবহারও বাড়ছে। বিভিন্ন তথ্যে দেশে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা কয়েক দশ লাখে পৌঁছেছে। জাতীয় পর্যায়ে ব্যাটারি চার্জে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে। কোথাও কোথাও অনুমোদিত চার্জিং স্টেশনের পাশাপাশি অবৈধ সংযোগের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।সংশ্লিষ্টদের মতে,শ্রীমঙ্গলে ব্যাটারিচালিত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টি এখন স্থানীয় ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। অবৈধ সংযোগ বন্ধের পাশাপাশি বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা বাড়ানো, যানবাহনের প্রকৃত সংখ্যা নিরূপণ এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর নিয়মিত নজরদারি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সংকটের সময়ে এসব চার্জিং পয়েন্ট স্থানীয় সরবরাহ ব্যবস্থায় কতটা প্রভাব ফেলছে, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বিদ্যুৎ ঘাটতির মধ্যেই শ্রীমঙ্গলে বাড়ছে ব্যাটারিচালিত যান

শ্রীমঙ্গলে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে আহত একটি বিরল প্রজাতির উল্টোলেজি বানর (পিগ-টেইলড ম্যাকাক) উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার শ্যামলী আবাসিক এলাকা থেকে বানরটিকে উদ্ধার করেন স্থানীয় বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা।স্থানীয় বাসিন্দা ও বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশন সূত্রে জানা যায়,দুপুরে শ্যামলী আবাসিক এলাকায় একটি বানর বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হয়ে মাটিতে পড়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা দ্রুত বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে খবর দেন।খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল,সঞ্জিত দেব ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত বানরটিকে উদ্ধার করেন। পরে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য সেটিকে শ্রীমঙ্গল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়।বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল বলেন, শ্রীমঙ্গল ও আশপাশের বনাঞ্চল ক্রমে সংকুচিত হওয়া এবং খাদ্যসংকটের কারণে বন্যপ্রাণীরা প্রায়ই লোকালয়ে চলে আসছে। এতে লোকালয়ে আসার পথে বিভিন্ন দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত হচ্ছে তারা।তিনি বলেন,স্থানীয়রা সচেতন হয়ে দ্রুত খবর দেওয়ায় বানরটিকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।স্বপন দেব সজল আরও বলেন, লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে বর্তমানে উল্টোলেজি বানরের মাত্র কয়েকটি ছোট দল বা ‘ট্রুপ’ অবশিষ্ট রয়েছে। পুরুষ,স্ত্রী ও বাচ্চা মিলিয়ে সাধারণত প্রতিটি দলে ২০ থেকে ২৫টি বানর থাকে। বনের ভেতর দিয়ে যাওয়া রেললাইন ও সড়ক, খাদ্যসংকট এবং শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী লোকালয়ে বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হওয়ার মতো ঘটনায় এদের সংখ্যা দিন দিন কমছে।সঞ্জিত দেব জানান,উল্টোলেজি বানর ম্যাকাক গণের একটি প্রজাতি। এরা কুলু বান্দর,শুকরলেজি বানর,ছোটলেজি বানর,উলু বান্দর, সিংহ বানর ও সিঙ্গা বানর নামেও পরিচিত। সাধারণত নিচু এলাকার প্রাথমিক ও মাঝারি ধরনের বন,উপকূলীয় এলাকা, জলাভূমি ও পাহাড়ি বনে এদের দেখা যায়। বাংলাদেশে মূলত সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগের মিশ্র চিরসবুজ বনে এদের আবাস।তিনি বলেন,উল্টোলেজি বানরের দেহের দৈর্ঘ্য সাধারণত ৪০ থেকে ৬০ সেন্টিমিটার এবং লেজ ১৮ থেকে ২৫ সেন্টিমিটার। ওজন প্রায় সাড়ে ৪ থেকে ১২ কেজি। শূকরের মতো ছোট লেজটি ওপরের দিকে বাঁকানো থাকে। এরা দিবাচর এবং বৃক্ষ ও ভূমি উভয় পরিবেশে চলাফেরা করে। ফল, মূল, কচি পাতা,কুঁড়ি,কীটপতঙ্গ,কাঁকড়া ও বিভিন্ন ছোট প্রাণী এদের প্রধান খাবার। খাদ্যসংকটে কখনো কখনো শস্যখেতেও ঢুকে পড়ে।পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব বলেন, আবাসস্থল ধ্বংস,খাদ্যসংকট,সড়ক ও রেলপথে দুর্ঘটনা এবং বৈদ্যুতিক তারে স্পৃষ্ট হওয়ার মতো নানা কারণে বাংলাদেশে উল্টোলেজি বানরের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে ‘সংকটাপন্ন’ (Vulnerable) হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে। বাংলাদেশেও এটি সংরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে বিবেচিত।তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশে মূলত লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও পার্বত্য চট্টগ্রামের গভীর বনাঞ্চলে উল্টোলেজি বানরের দেখা মেলে। তবে মৌলভীবাজারে এ প্রজাতির সুনির্দিষ্ট মোট সংখ্যা নিয়ে কোনো নির্ভুল প্রাতিষ্ঠানিক পরিসংখ্যান নেই। বন্যপ্রাণী গবেষক ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জেলাটিতে এদের সংখ্যা অত্যন্ত কম এবং প্রজাতিটি তীব্র ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।বন্যপ্রাণীপ্রেমীরা বলছেন,বনাঞ্চল ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা,লোকালয়ে বৈদ্যুতিক তার নিরাপদ করা এবং বন্যপ্রাণী দেখলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানোর মাধ্যমে এ ধরনের দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব।

শ্রীমঙ্গলে আহত উল্টোলেজি বানর উদ্ধার
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream