বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

ফের বিতর্কের ঝড়

শাহজালাল মাজারের দানের টাকার ৬৫% বেতন-ভাতায়, উন্নয়নে মাত্র ৩৫%


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

শাহজালাল মাজারের দানের টাকার ৬৫% বেতন-ভাতায়, উন্নয়নে মাত্র ৩৫%
শাহজালাল মাজারের দানের টাকার ৬৫% বেতন-ভাতায়, উন্নয়নে মাত্র ৩৫%

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। সংগৃহীত অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কমিটির সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখা হবে। হিসাবটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। আর বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে ব্যবহার করা হবে।

নতুন এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ-বিদেশে থাকা হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ভক্ত ও আশেকানদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের প্রশ্ন, মাজারের দানের অর্থের এত বড় অংশ দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করার প্রয়োজনীয়তা কতটা এবং এ অর্থের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

ভক্ত-আশেকানদের একাংশের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুধু টাকা গণনা করাই যথেষ্ট নয়; কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও দৈনন্দিন খাতে যে ৬৫ শতাংশ অর্থ রাখা হচ্ছে, তারও খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ ও নিয়মিত নিরীক্ষা প্রয়োজন। যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন কাঠামোতেও ফিরে আসতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

তবে সরকারি সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ অর্থ সরাসরি খাদেমদের দেওয়ার কথা বলা হয়নি। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে ব্যবহার করা হবে। ফলে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই অর্থের ব্যয় নির্ধারণ, অনুমোদন, হিসাব সংরক্ষণ ও অডিটের ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ থাকবে।

চার দফায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা

মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগ নিয়ে প্রকাশ্যে গণনা শুরুর পর চার দফায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এ সময় ৭ আনা স্বর্ণ ও দুটি সৌদি ৫ রিয়ালের নোটসহ অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া যায়।

১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্য পাওয়া যায়। এ দফায় একটি গরু ও ৬৫টি ছাগলও ছিল। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে বিতরণ করা হয় এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।

১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় ১৯ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার পাওয়া যায়।

সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। সেদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার পাওয়া যায়।

চার দফায় মূল দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থের মোট পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এর বাইরে রয়েছে বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ, রৌপ্য ও অন্যান্য দানসামগ্রী।

এই চার দফার নগদ অর্থের ওপর নতুন ৩৫:৬৫ অনুপাতটি হিসাবের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রয়োগ করলে উন্নয়ন খাতে প্রায় ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ হয়। তবে এটি চার দফার আগের সংগৃহীত নগদ অর্থের ওপর করা একটি হিসাবমাত্র; নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই অর্থের প্রকৃত বরাদ্দের তথ্য নয়।

নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো

স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। পাশাপাশি একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মাজার পরিচালনায় সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন আহ্বায়ক এবং মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।

কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

পুরনো বিতর্কের পর নতুন সিদ্ধান্ত

মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে গত ১৮ জুন আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এ উদ্যোগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা হয়।

এরপর প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে টাকা গণনা শুরু হয়। গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থাপনার জন্য যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই মাস পর কমিটি নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।

এখন ভক্ত-আশেকানদের প্রত্যাশা, দানের টাকা গণনার পাশাপাশি কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় কত যাচ্ছে এবং উন্নয়ন তহবিলে কত জমা হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।

হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের সঙ্গে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরীক্ষাযোগ্য হিসাব নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


শাহজালাল মাজারের দানের টাকার ৬৫% বেতন-ভাতায়, উন্নয়নে মাত্র ৩৫%

প্রকাশের তারিখ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সের টাকা ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত ঘিরে ফের বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এখন থেকে প্রতিদিন দানের টাকা গণনা করা হবে। সংগৃহীত অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে এবং বাকি ৬৫ শতাংশ দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে ব্যয় করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে সিলেট সার্কিট হাউসে আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে কমিটির সদস্যসচিব ও সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজের জন্য সোনালী ব্যাংকের হিসাবে জমা রাখা হবে। হিসাবটি জেলা প্রশাসক ও মাজারের মোতোয়াল্লির যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হবে। আর বাকি ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে ব্যবহার করা হবে।

নতুন এ সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশ-বিদেশে থাকা হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর ভক্ত ও আশেকানদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলছেন। তাদের প্রশ্ন, মাজারের দানের অর্থের এত বড় অংশ দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় ব্যয় করার প্রয়োজনীয়তা কতটা এবং এ অর্থের বিস্তারিত হিসাব কীভাবে জনসম্মুখে প্রকাশ করা হবে।

ভক্ত-আশেকানদের একাংশের দাবি, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুধু টাকা গণনা করাই যথেষ্ট নয়; কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও দৈনন্দিন খাতে যে ৬৫ শতাংশ অর্থ রাখা হচ্ছে, তারও খাতভিত্তিক হিসাব প্রকাশ ও নিয়মিত নিরীক্ষা প্রয়োজন। যথাযথ জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে দানের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে পুরনো বিতর্ক নতুন কাঠামোতেও ফিরে আসতে পারে বলেও তারা আশঙ্কা করছেন।

তবে সরকারি সিদ্ধান্তে ৬৫ শতাংশ অর্থ সরাসরি খাদেমদের দেওয়ার কথা বলা হয়নি। সিদ্ধান্তে বলা হয়েছে, এ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নির্বাহে ব্যবহার করা হবে। ফলে মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—এই অর্থের ব্যয় নির্ধারণ, অনুমোদন, হিসাব সংরক্ষণ ও অডিটের ব্যবস্থা কতটা স্বচ্ছ থাকবে।

চার দফায় ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা

মাজারের দানবাক্স ও দানের ডেগ নিয়ে প্রকাশ্যে গণনা শুরুর পর চার দফায় বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পাওয়া গেছে। গত ২২ জুন প্রথম দফায় দানবাক্স থেকে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এর সঙ্গে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার চেক যুক্ত হলে মোট অর্থ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। এ সময় ৭ আনা স্বর্ণ ও দুটি সৌদি ৫ রিয়ালের নোটসহ অন্যান্য সামগ্রীও পাওয়া যায়।

১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুদ্রা, স্বর্ণ ও রৌপ্য পাওয়া যায়। এ দফায় একটি গরু ও ৬৫টি ছাগলও ছিল। এর মধ্যে গরু ও ৪০টি ছাগল রান্না করে বিতরণ করা হয় এবং অবশিষ্ট ২৫টি ছাগল বিক্রি করে পাওয়া ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়।


১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ খুলে পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা। এ সময় ১৯ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাসহ স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার পাওয়া যায়।


সবশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। সেদিনও দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি স্বর্ণ ও রৌপ্যের অলঙ্কার পাওয়া যায়।


চার দফায় মূল দানবাক্স থেকে পাওয়া নগদ অর্থের মোট পরিমাণ ২ কোটি ২৪ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা। এর বাইরে রয়েছে বিদেশি মুদ্রা, স্বর্ণ, রৌপ্য ও অন্যান্য দানসামগ্রী।


এই চার দফার নগদ অর্থের ওপর নতুন ৩৫:৬৫ অনুপাতটি হিসাবের দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রয়োগ করলে উন্নয়ন খাতে প্রায় ৭৮ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং দৈনন্দিন ব্যয় ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ ৯৭ হাজার টাকার সমপরিমাণ হয়। তবে এটি চার দফার আগের সংগৃহীত নগদ অর্থের ওপর করা একটি হিসাবমাত্র; নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ওই অর্থের প্রকৃত বরাদ্দের তথ্য নয়।


নতুন ব্যবস্থাপনা কাঠামো


স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে মাজার কমিটির পক্ষে একজন ম্যানেজার নিয়োগ দেওয়া হবে। তিনি অবসরপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন অথবা অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা হবেন। পাশাপাশি একজন হিসাবরক্ষক ও একজন অফিস সহকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হয়েছে।


মাজার পরিচালনায় সাত সদস্যের কমিটি গঠন করা হবে। জেলা প্রশাসক থাকবেন আহ্বায়ক এবং মাজারের মোতোয়াল্লি সদস্যসচিব। কমিটিতে সিটি করপোরেশন, সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিলেট মহানগর পুলিশ, জেলা পরিষদ ও পুলিশ সুপারের একজন করে প্রতিনিধি থাকবেন। নিয়োগপ্রাপ্ত ম্যানেজার কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব পালন করবেন।


কমিটি মাজারের নিরাপত্তা ও উন্নয়ন বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।


পুরনো বিতর্কের পর নতুন সিদ্ধান্ত


মাজারের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা আনতে গত ১৮ জুন আগের দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে মাজারে থাকা ঐতিহাসিক তিনটি দানের ডেগও সিলগালা করা হয়। এ উদ্যোগ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা ও সমালোচনা হয়।


এরপর প্রকাশ্যে দানবাক্স খুলে টাকা গণনা শুরু হয়। গত ২৩ জুন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে ব্যবস্থাপনার জন্য যৌক্তিক ও সমন্বিত কাঠামোর সুপারিশ দেওয়ার কথা থাকলেও প্রায় আড়াই মাস পর কমিটি নতুন সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে।


এখন ভক্ত-আশেকানদের প্রত্যাশা, দানের টাকা গণনার পাশাপাশি কোন খাতে কত টাকা ব্যয় হচ্ছে, কর্মচারীদের বেতন-ভাতায় কত যাচ্ছে এবং উন্নয়ন তহবিলে কত জমা হচ্ছে—এসব তথ্য নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।


হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানের অর্থের সঙ্গে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ জড়িয়ে আছে। তাই দানের অর্থের ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও নিরীক্ষাযোগ্য হিসাব নিশ্চিত করার দাবি আরও জোরালো হচ্ছে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream