মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে বিপ্লব পাশী (৩২) হত্যা মামলায় শাওন পাশী (৪৩) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)-৯।
গ্রেপ্তার শাওন পাশী উপজেলার ভূরভুরিয়া চা বাগান এলাকার বর্দি প্রসাদ পাশীর ছেলে। তিনি মামলার এজাহারনামীয় ২ নম্বর আসামি।
এসআরবি-৯,সিপিসি-২,শ্রীমঙ্গল সূত্রে জানা গেছে,গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে বিপ্লব পাশী মদ্যপ অবস্থায় বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ঘরবাড়ি ভাঙচুর করেন এবং তাঁর মা ও ভাই বিজয় পাশীকে মারধরের জন্য তেড়ে যান।
এ সময় বিজয় পাশী বিপ্লবের হাতে থাকা একটি কাঠের বর্গা কেড়ে নিয়ে তাঁর মাথায় আঘাত করেন। এতে বিপ্লব গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজন তাঁকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে পাঠান। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এসআরবি-৯-এর প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরে বিপ্লবের মরদেহ বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। অভিযোগ রয়েছে,তাঁর কাকা (চাচা) শাওন পাশীর প্ররোচনায় পরিবারের সদস্যরা গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৩টার দিকে মরদেহ আগুনে পুড়িয়ে সৎকার করেন।
এ ঘটনায় বিপ্লবের মা বাদী হয়ে শ্রীমঙ্গল থানায় মামলা করেন। মামলাটি ২১ সেপ্টেম্বর দায়ের করা হয়। এতে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ২০১ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে এসআরবি-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা ৩৫ মিনিটের দিকে শ্রীমঙ্গল পৌরসভার ভানুগাছ রোড রেলগেট এলাকায় অভিযান চালিয়ে শাওন পাশীকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার শাওন পাশীকে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শ্রীমঙ্গল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
এসআরবি-৯,সিলেটের মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
মতামত