ব্যাংকিং খাতের নানা অস্থিতিশীলতার কারণে আমানতকারীদের মধ্যে সৃষ্ট অস্বস্তি এবং পুঁজিবাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের চলমান আস্থার সংকট কাটাতে এক যুগান্তকারী ব্যবস্থার তাগিদ দিচ্ছেন অর্থনীতি ও বাজার বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, অহেতুক নেতিবাচক আলোচনার মাধ্যমে বাজারের ক্ষতি না করে সরকার, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের যৌথ উদ্যোগে একটি মেগা ‘এনআরবি মিউচুয়াল ফান্ড’ (NRB Mutual Fund) গঠন করা এখন সময়ের দাবি।
উন্নত বিশ্বে ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখলে কর ব্যবস্থা প্রয়োগ করা হলেও অর্থের শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। কিন্তু দেশে ব্যাংক খাতের সাম্প্রতিক অস্থিরতার কারণে সাধারণ মানুষ ও প্রবাসী বাংলাদেশীরা কষ্টার্জিত অর্থ ব্যাংকে রাখতে আগের মতো ভরসা পাচ্ছেন না। সঞ্চিত এই বিশাল বিপুল অর্থ কেবল অলস ব্যাংকিং অ্যাকাউন্টে না রেখে যদি একটি জবাবদিহিমূলক ও লাভজনক ফান্ডে রূপান্তর করা যায়, তবে আমানতকারী ও জাতীয় অর্থনীতি—উভয়ই উপকৃত হবে।
গত কিছুদিনে দেখা গেছে, শেয়ারবাজার নিয়ে অযাচিত বিভ্রান্তিকর মন্তব্য বাজারের স্বাভাবিক গতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বাজার সংস্কারে সরকারের সদিচ্ছা থাকা সত্ত্বেও একটি চিহ্নিত গোষ্ঠীর নেতিবাচক আলোচনার কারণে সাধারণ বিনিয়োগকারীরা প্যানিক সেলে বাধ্য হচ্ছেন। বাজার সংশ্লিষ্ট অভিজ্ঞদের মতে, বাজারকে নিজস্ব গতিতে চলতে দিয়ে এবং গুজবের মুখ বন্ধ করে এখন সবাই মিলে যৌথভাবে সহযোগিতার হাত বাড়ানো প্রয়োজন।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড রক্ষা করছেন প্রবাসীরা। তাদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপর ভর করেই দেশের অর্থনীতির চাকা ঘোরে। এই দেশপ্রেমিক প্রবাসীদের সঞ্চয়কে পুঁজিবাজারে নিয়ে আসতে সুনির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব সামনে আনা হয়েছে:
বিলিয়ন ডলারের বিশেষ ফান্ড: রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান, আইসিবি (ICB) এবং বৃহৎ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণে কয়েক বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি বা দুটি শক্তিশালী মিউচুয়াল ফান্ড গঠন করা।
প্রবাসীদের অগ্রাধিকার ও নিশ্চিত ডিভিডেন্ট: এই ফান্ডের মূল লক্ষ্য হবে প্রবাসীদের বিনিয়োগ সুরক্ষা করা এবং স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিয়মিত ভালো ক্যাশ ডিভিডেন্ট (Cash Dividend) প্রদান নিশ্চিত করা।
বিশাল বৈদেশিক মুদ্রার প্রবাহ: নিশ্চিত নিরাপত্তা ও ভালো রিটার্নের নিশ্চয়তা পেলে প্রবাসীরা সরাসরি কোটি কোটি ডলার এই ফান্ডে বিনিয়োগ করতে উৎসাহিত হবেন। এতে যেমন দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হবে, তেমনই শেয়ারবাজারে তৈরি হবে এক অভূতপূর্ব গতিশীলতা।
বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে কেবল স্লোগান বা আশ্বাসে কাজ হবে না; বরং প্রবাসীদের যুক্ত করে একটি বিশ্বস্ত কাঠামোগত ফান্ড তৈরি করতে পারলেই দেশের পুঁজিবাজার একটি স্থায়ী ও শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড়াবে। পুঁজিবাজারের উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের স্বার্থ সুরক্ষায় অনতিবিলম্বে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সরকার ও বিএসইসি (BSEC)-এর প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে।
মতামত