এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর উত্তরণ যেন মসৃণ, টেকসই ও স্থিতিশীল হয়, সে বিষয়ে গুরুত্ব দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তাঁর মতে, এলডিসি উত্তরণ কোনো দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বাধা তৈরি না করে বরং অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করতে হবে।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ‘এলডিসি-জিআইএফ মেকানিজম ইন্ট্রোডাকশন অ্যান্ড হাই-লেভেল ডায়ালগ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলো এখনো বিভিন্ন কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও উৎপাদন সক্ষমতার ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। এর সঙ্গে ভূরাজনৈতিক সংঘাত, সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের অনিশ্চয়তা, মূল্যস্ফীতি এবং অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন সংকট যুক্ত হয়ে পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলছে।
তিনি বলেন, শিল্পায়নের প্রসার, সমন্বিত উদ্যোগ, জ্বালানি খাতে রূপান্তর এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির মাধ্যমে উত্তরণ প্রক্রিয়াকে টেকসই করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে এই উত্তরণ যেন দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীল ও অপরিবর্তনীয় হয়, সেদিকেও নজর দিতে হবে।
এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য আর্থিক ও প্রযুক্তিগত সহায়তার পাশাপাশি সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এসব দেশের প্রয়োজনের তুলনায় প্রযুক্তি হস্তান্তরের পরিমাণ এখনো যথেষ্ট নয়।
ড. তিতুমীর আশা প্রকাশ করেন, এলডিসি গ্রিন ইন্ডাস্ট্রিয়ালাইজেশন ফ্যাসিলিটেশন (এলডিসি-জিআইএফ) উদ্যোগ প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পখাতে তার ব্যবহার বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে এটি উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, অর্থনীতিতে কাঠামোগত পরিবর্তন এবং টেকসই এলডিসি উত্তরণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।
মতামত