মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩
Bangla FM

সর্বজনীন পেনশনে আসছে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে বিল


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

সর্বজনীন পেনশনে আসছে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে বিল
ছবি: সংগৃহীত

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক একটি স্কিম যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আইনের খসড়া প্রস্তুত করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে নতুন স্কিম চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল পরিচালনা, মুনাফা নির্ধারণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, সর্বজনীন পেনশনের ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আইনের খসড়া তৈরি করে সংসদে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, নতুন স্কিমের পরিচালন কাঠামো, বিনিয়োগ পদ্ধতি ও কারিগরি বিভিন্ন দিক নির্ধারণে কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দেশীয় পরামর্শকেরা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দায় নির্ধারণে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির আওতায় নতুন স্কিম চালু হলে সর্বজনীন পেনশনে আলাদা বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো তৈরি হবে। এর ফলে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় সর্বজনীন পেনশনের সুযোগ বাড়ানো, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নতুন অংশগ্রহণকারী যুক্ত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নতুন স্কিমে তহবিলের অর্থ কোথায় ও কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কীভাবে সামলানো হবে এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এই বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত আজীবন পেনশন পাবেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ থেকে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে তা বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধার আওতায় নেই, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে কী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

বিদেশগামী কর্মীদেরও পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এটি কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ দুই দিক বিবেচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে। কোন ধরনের মডেলে এটি করা সম্ভব এবং এতে তহবিলের ওপর আর্থিক প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনে ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ ও ‘প্রবাস’ এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত চার স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহক প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত হয়েছেন এবং জমা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন; জমা পড়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণকারী না বাড়ায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর সুবিধা পাওয়ার বয়স বাড়ানো, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধন প্রণোদনা বাড়ানো এসব উদ্যোগ তারই অংশ।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের অনুমোদনের ফলে বিদ্যমান চার স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এটি চালুর আগে আইন প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি চূড়ান্ত করা এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ শেষ করতে হবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই স্কিমটির বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সর্বজনীন পেনশনে আসছে শরিয়াহভিত্তিক স্কিম, সংসদে বিল

প্রকাশের তারিখ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় প্রথমবারের মতো শরিয়াহভিত্তিক একটি স্কিম যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ জন্য প্রয়োজনীয় আইনগত কাঠামো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। আইনের খসড়া প্রস্তুত করে জাতীয় সংসদে পাঠানোর প্রক্রিয়াও এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের (এনপিএ) পরিচালনা পর্ষদ ইতোমধ্যে নতুন স্কিম চালুর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে। এখন শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগ, তহবিল পরিচালনা, মুনাফা নির্ধারণ এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার বিস্তারিত কাঠামো তৈরির কাজ চলছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. মো. সুরাতুজ্জামান বলেন, সর্বজনীন পেনশনের ইসলামিক বা শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে আইনের খসড়া তৈরি করে সংসদে পাঠানো হবে।

তিনি জানান, নতুন স্কিমের পরিচালন কাঠামো, বিনিয়োগ পদ্ধতি ও কারিগরি বিভিন্ন দিক নির্ধারণে কাজ চলছে। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দেশীয় পরামর্শকেরা এ প্রক্রিয়ায় যুক্ত রয়েছেন। পাশাপাশি স্কিমটির আর্থিক সক্ষমতা এবং দীর্ঘমেয়াদি দায় নির্ধারণে অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, আইন ও কারিগরি প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শরিয়াহসম্মত বিনিয়োগনীতির আওতায় নতুন স্কিম চালু হলে সর্বজনীন পেনশনে আলাদা বিনিয়োগ ও পরিচালনা কাঠামো তৈরি হবে। এর ফলে শরিয়াহভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ পেনশন সুবিধা নিতে আগ্রহীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

গত ১৭ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ে জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের পরিচালনা পর্ষদের চতুর্থ সভায় শরিয়াহভিত্তিক সংস্করণ চালুর প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় সর্বজনীন পেনশনের সুযোগ বাড়ানো, বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা উন্নত করা এবং নতুন অংশগ্রহণকারী যুক্ত করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

নতুন স্কিমে তহবিলের অর্থ কোথায় ও কীভাবে বিনিয়োগ করা হবে, পরিচালন ব্যয় কীভাবে নির্ধারিত হবে এবং সম্ভাব্য ঝুঁকি কীভাবে সামলানো হবে এসব বিষয় পর্যালোচনা করে কাঠামো চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

এর পাশাপাশি বিদ্যমান সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের সুবিধাও বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কোনো পেনশনার মারা গেলে তার স্বামী বা স্ত্রী ৮০ বছর বয়স পর্যন্ত পেনশন সুবিধা পাবেন। আগে এই বয়সসীমা ছিল ৭৫ বছর। পেনশনার নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত আজীবন পেনশন পাবেন।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে পেনশন তহবিলের বিনিয়োগ থেকে গ্রাহকদের মুনাফার হারও বাড়ানো হয়েছে। ১১ দশমিক ৬৮ শতাংশ থেকে তা বাড়িয়ে ১১ দশমিক ৭২ শতাংশ করা হয়েছে।

এদিকে সরকারি মালিকানাধীন যেসব প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানির কর্মীরা প্রচলিত সরকারি পেনশন সুবিধার আওতায় নেই, তাদের ‘প্রগতি’ স্কিমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কোন কোন প্রতিষ্ঠানকে কী প্রক্রিয়ায় যুক্ত করা হবে, তা পরবর্তী সময়ে নির্ধারণ করা হবে।

বিদেশগামী কর্মীদেরও পেনশন ব্যবস্থার আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিদেশে যাওয়ার আগে তাদের ‘প্রবাস’ স্কিম সম্পর্কে জানানো এবং নিবন্ধনের সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে সর্বজনীন পেনশনে পেনশন পাওয়ার বয়স ৬০ বছর। এটি কমিয়ে ৫৫ বছর করার প্রস্তাব নিয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভায় আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। অ্যাকচুয়ারিয়াল বিশ্লেষণের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

পেনশন তহবিল থেকে অংশগ্রহণকারীদের ঋণ দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তহবিলের বিনিয়োগ থেকে কাঙ্ক্ষিত রিটার্ন এবং ঋণ দেওয়ার ফলে পেনশনভোগীদের স্বার্থ দুই দিক বিবেচনা করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।

পেনশন ব্যবস্থার সঙ্গে স্বাস্থ্যবিমা যুক্ত করার বিষয়েও কাজ চলছে। কোন ধরনের মডেলে এটি করা সম্ভব এবং এতে তহবিলের ওপর আর্থিক প্রভাব কী হতে পারে, তা বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পেনশনের মুনাফা দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

নতুন গ্রাহক বাড়াতে নিবন্ধন কার্যক্রমে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রণোদনা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার, ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে নিবন্ধন করা হচ্ছে। আগে একজন নতুন গ্রাহক নিবন্ধনে ১৫ টাকা প্রণোদনা দেওয়া হলেও এখন তা বাড়িয়ে ২৫ টাকা করা হয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সরকারি নিরীক্ষার পাশাপাশি একটি বেসরকারি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ফার্ম দিয়ে আর্থিক কার্যক্রম নিরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক নিরাপত্তার আওতায় আনার লক্ষ্য নিয়ে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু হয়। বর্তমানে ‘প্রগতি’, ‘সুরক্ষা’, ‘সমতা’ ও ‘প্রবাস’ এই চারটি স্কিম চালু রয়েছে।

জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত চার স্কিমে মোট নিবন্ধিত গ্রাহক প্রায় ৩ লাখ ৮০ হাজার। তাদের জমা অর্থের পরিমাণ প্রায় ২৮৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ‘সমতা’ স্কিমে ২ লাখ ৮৭ হাজার ২২৪ জন নিবন্ধিত হয়েছেন এবং জমা হয়েছে ৫৬ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। ‘প্রবাস’ স্কিমে নিবন্ধিত হয়েছেন ১ হাজার ১৭১ জন; জমা পড়েছে ১১ কোটি ৮৭ লাখ টাকা।

প্রত্যাশিত হারে অংশগ্রহণকারী না বাড়ায় সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাকে আরও বিস্তৃত করতে একাধিক নতুন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। শরিয়াহভিত্তিক স্কিম চালু, পেনশনারের মৃত্যুর পর স্বামী বা স্ত্রীর সুবিধা পাওয়ার বয়স বাড়ানো, বিনিয়োগের মুনাফা নির্ধারণ, সরকারি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অন্তর্ভুক্তি এবং নিবন্ধন প্রণোদনা বাড়ানো এসব উদ্যোগ তারই অংশ।

শরিয়াহভিত্তিক স্কিমের অনুমোদনের ফলে বিদ্যমান চার স্কিমের পাশাপাশি নতুন একটি কাঠামো তৈরির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে এটি চালুর আগে আইন প্রণয়ন, সংসদীয় প্রক্রিয়া, বিনিয়োগনীতি চূড়ান্ত করা এবং প্রয়োজনীয় অ্যাকচুয়ারিয়াল ও কারিগরি বিশ্লেষণ শেষ করতে হবে। এসব ধাপ সম্পন্ন হওয়ার পরই স্কিমটির বাস্তবায়নের পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারিত হবে।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream