রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট: হামিদুর রহমান


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| ফটো কার্ড

সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট: হামিদুর রহমান
ছবি: সংগৃহীত

সরকার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ছয় মাস সরকার পরিচালনার জন্য খুব বেশি সময় না হলেও বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মিন্টো রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন। সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়লেও গণরায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি ও তেল সংকট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এতে যান চলাচল ও কৃষিকাজ ব্যাহত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০টি প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

গ্যাস সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলের সমন্বয়ক। তার দাবি, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি পোশাক খাতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, অর্ডার বাতিল হলে তা প্রতিবেশী দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে হামিদুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। গুম, খুন ও অপহরণসহ নানা অপরাধ বাড়ছে দাবি করে ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলার তথ্য তুলে ধরেন তিনি। রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনা, বিরোধী দলের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ১১ দলের এই নেতা। তার মতে, দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন হলেও বিরোধী দলের প্রস্তাবকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এ অবস্থায় রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন হামিদুর রহমান। তিনি জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। পরে পথে পাঁচটি পথসভা শেষে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী জনসভা হবে।

তিনি জানান, ১১ দলের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিষয়টি নতুন করে দাবিতে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগরীর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, গণভোটের রায়সহ সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া হলে তা সরকারের জন্যও কল্যাণকর হবে; অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


সংকট মোকাবিলায় সরকারের অদক্ষতা জাতির কাছে স্পষ্ট: হামিদুর রহমান

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

সরকার বিভিন্ন সংকট মোকাবিলায় দক্ষতার পরিচয় দিতে পারছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১ দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি বলেন, ছয় মাস সরকার পরিচালনার জন্য খুব বেশি সময় না হলেও বিকল্প পরিকল্পনা ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা নিয়ে আর অপেক্ষা করার সুযোগ নেই।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মিন্টো রোডে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই আন্দোলনের চেতনা এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের যে দাবি উঠেছিল, সংসদে ১১ দলের প্রতিনিধিরা শুরু থেকেই তা বাস্তবায়নে ভূমিকা রাখছেন। সাংবিধানিক সংস্কার নিয়ে গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ ভোট পড়লেও গণরায় অনুযায়ী সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার বিষয়টি বাস্তবায়ন করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ সারি ও তেল সংকট নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে। এতে যান চলাচল ও কৃষিকাজ ব্যাহত হলেও সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে বিশেষ কমিটি গঠনের পাশাপাশি বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১০টি প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেগুলো আমলে নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

গ্যাস সংকট নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন ১১ দলের সমন্বয়ক। তার দাবি, গ্যাসের অভাবে শিল্পকারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এবং বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী প্রায় ১ হাজার ২০০ বেকারি বন্ধ হয়ে গেছে। তৈরি পোশাক খাতেও এর প্রভাব পড়ছে বলে উল্লেখ করে তিনি সতর্ক করেন, অর্ডার বাতিল হলে তা প্রতিবেশী দেশে চলে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সমালোচনা করে হামিদুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর নিত্যপণ্যের দাম দ্রুত বেড়েছে। বাজার সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত তদারকিতে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। গুম, খুন ও অপহরণসহ নানা অপরাধ বাড়ছে দাবি করে ৫১৮টি শিশু অপহরণের মামলার তথ্য তুলে ধরেন তিনি। রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যার ঘটনা, বিরোধী দলের ওপর হামলা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করেন তিনি।

দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্ব বন্ধে সরকারের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হয়নি বলেও অভিযোগ করেন ১১ দলের এই নেতা। তার মতে, দেশের অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় রাজনৈতিক ঐকমত্য প্রয়োজন হলেও বিরোধী দলের প্রস্তাবকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে না।

এ অবস্থায় রাজপথে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন হামিদুর রহমান। তিনি জানান, আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা থেকে রংপুরের উদ্দেশে দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৭টায় মানিক মিয়া এভিনিউতে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শুরু হবে। পরে পথে পাঁচটি পথসভা শেষে রংপুর জেলা স্কুল মাঠে সমাপনী জনসভা হবে।

তিনি জানান, ১১ দলের ছয় দফা দাবি এখন সাত দফায় পরিণত হয়েছে। দুর্নীতি, দখলদারিত্ব ও চাঁদাবাজির বিষয়টি নতুন করে দাবিতে যুক্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

এর আগে ঢাকা মহানগরী উত্তর জামায়াতের উদ্যোগে ১৯ সেপ্টেম্বরের লংমার্চ সফল করার লক্ষ্যে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মহানগরীর আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিনসহ জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, গণভোটের রায়সহ সাত দফা দাবি দ্রুত মেনে নেওয়া হলে তা সরকারের জন্যও কল্যাণকর হবে; অন্যথায় জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দাবি আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream