রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে



কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে
কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ১৯৬৩ সালে স্থাপিত জাতীয় গ্রিডের ১৩২ কেভি (১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্ট) উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপজেলার শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকা সংলগ্ন এই লাইনের ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারের তার হেলে পড়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে ঝুলে রয়েছে। এর নিচে ও আশপাশে চরম আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন অর্ধশত পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই সঞ্চালন লাইনটি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সঞ্চালন লাইনটি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে চালুর হতে পুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। কালের বিবর্তনে পিলারের বেহাল দশা এবং তারের ভার বৃদ্ধি তথা বয়সের ভারে হাই ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার গুলো নিচের দিকে নেমে এসেছে। অথচ এই উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলোর ঠিক নিচ দিয়েই প্রতিদিন বহু সাধারণ মানুষ চলাচল করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ের কৃষিকাজে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দীন জানান, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই গাছের ডালপালা বা পাতা এই তারের ওপর পড়ে বিকট শব্দে শর্টসার্কিট হয়। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল নামের এক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাই ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের তারগুলো দ্রুত আরও উঁচুতে তুলে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

​সরেজমিনে শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে তারগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌখিকভাবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জিএমডি রাঙামাটি, পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর কান্তি নাথের সাথে রবিবার আলাপকালে

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় ওইসব এলাকায় কোন বসতি ছিলনা, তাই টাওয়ার গুলোও অনেকটা দূরত্বে স্থাপিত হয়। ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের পুরাতন এই লাইনটি দূরত্বের কারণে কিছুটা নেমে গেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছুদিন আগে আমরা ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে বিস্তারীত পর্যবেক্ষণ করে এসেছি। এবং এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। কাজটি কারতে একটু সময় লাগবে। কারণ, এসব কাজ করার পূর্বে কিছু টেকনিক্যাল কাজ যাচাই বাছাই করে আর্ন্তজাতিক টেন্ডার আহবান করা হবে। টেন্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু হবে। সঞ্চালন লাইনটি  সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত গিয়েছে। ইতিমধ্যে হাটহাজারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে  সঞ্চালন লাইনটিও আর্ন্তজাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে স্ংস্কার কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জাতীয় পাওয়ার গ্রীড কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি এলাকার ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিমুক্ত করা।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কাপ্তাইয়ে ষাট বছরের ১৩২ কেভি লাইন পরিণত হয়েছে মরণফাঁদে

প্রকাশের তারিখ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ১৯৬৩ সালে স্থাপিত জাতীয় গ্রিডের ১৩২ কেভি (১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্ট) উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন সঞ্চালন লাইনটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উপজেলার শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকা সংলগ্ন এই লাইনের ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারের তার হেলে পড়ে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট উঁচুতে ঝুলে রয়েছে। এর নিচে ও আশপাশে চরম আতঙ্ক নিয়ে বসবাস করছেন অর্ধশত পরিবার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর থেকেই জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য এই সঞ্চালন লাইনটি স্থাপন করা হয়। প্রতিষ্ঠাকালীন সময়ে সঞ্চালন লাইনটি নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট উচ্চতায় ছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৬ দশকেরও বেশি সময় ধরে চালুর হতে পুরাতন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনটিতে বড় ধরনের কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। কালের বিবর্তনে পিলারের বেহাল দশা এবং তারের ভার বৃদ্ধি তথা বয়সের ভারে হাই ভোল্টেজের বৈদ্যুতিক তার গুলো নিচের দিকে নেমে এসেছে। অথচ এই উচ্চ ভোল্টেজের তারগুলোর ঠিক নিচ দিয়েই প্রতিদিন বহু সাধারণ মানুষ চলাচল করেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ের কৃষিকাজে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দীন জানান, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই গাছের ডালপালা বা পাতা এই তারের ওপর পড়ে বিকট শব্দে শর্টসার্কিট হয়। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল নামের এক ব্যক্তির প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে হাই ভোল্টের সঞ্চালন লাইনের তারগুলো দ্রুত আরও উঁচুতে তুলে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার জোর দাবি জানান তিনি।

​সরেজমিনে শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে তারগুলো অত্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় ঝুলে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মৌখিকভাবে একাধিকবার সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দপ্তরে বিষয়টি জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনো স্থায়ী প্রতিকার পাওয়া যায়নি।

এবিষয়ে জিএমডি রাঙামাটি, পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর কান্তি নাথের সাথে রবিবার আলাপকালে

তিনি জানান, প্রতিষ্ঠাকালীন সময় ওইসব এলাকায় কোন বসতি ছিলনা, তাই টাওয়ার গুলোও অনেকটা দূরত্বে স্থাপিত হয়। ফলে দীর্ঘ ছয় দশকের পুরাতন এই লাইনটি দূরত্বের কারণে কিছুটা নেমে গেছে। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। কিছুদিন আগে আমরা ওই এলাকায় সরেজমিন গিয়ে বিস্তারীত পর্যবেক্ষণ করে এসেছি। এবং এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রনালয়ে জানানো হয়েছে। কাজটি কারতে একটু সময় লাগবে। কারণ, এসব কাজ করার পূর্বে কিছু টেকনিক্যাল কাজ যাচাই বাছাই করে আর্ন্তজাতিক টেন্ডার আহবান করা হবে। টেন্ডার পাওয়ার পর কাজ শুরু হবে। সঞ্চালন লাইনটি  সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত গিয়েছে। ইতিমধ্যে হাটহাজারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে  সঞ্চালন লাইনটিও আর্ন্তজাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে স্ংস্কার কাজ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, কোনো বড় ধরনের প্রাণহানি বা মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জাতীয় পাওয়ার গ্রীড কর্তৃপক্ষের উচিত অবিলম্বে কাপ্তাইয়ের শীলছড়ি এলাকার ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ অংশটি সংস্কার করে সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকিমুক্ত করা।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream