সৌদি আরবে ওমরাহ পালনকালে প্রবাসী বাংলাদেশীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এ সময় প্রবাসীরা তাঁদের বিদেশের মাটিতে ভিসা প্রতারণা, কর্মসংস্থানের চরম অনিশ্চয়তা, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য এবং ধারাবাহিক হয়রানির নানামুখী অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
প্রবাসীদের অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দেশ থেকে মধ্যপ্রাচ্যে পাড়ি জমাতে একজন শ্রমিকের বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। বিদেশে ভালো চাকরি ও আকর্ষণীয় বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে দালালরা মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিলেও সৌদিতে পৌঁছানোর পর বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন রূপ নেয়।
মিথ্যা আশ্বাস ও বেতনের অনিশ্চয়তা: দেশে থাকতে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের বেতন (প্রায় ৬০ হাজার টাকা) এবং কয়েক মাস পর বেতন বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তা মিলছে না। কাজ না পাওয়া কিংবা কিছুদিন পর ছাঁটাইয়ের কারণে থাকা-খাওয়ার তীব্র সংকটে দিন কাটাচ্ছেন অনেকে।
প্রবাসীদের অনেকেই শেষ সম্বল বা বসতবাড়ি বিক্রি করে বিদেশে পাড়ি দিয়েছেন। তবে এসে প্রতিশ্রুত কাজ না পাওয়ায় পুরো পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।
স্বদেশী দালালদের মাধ্যমেই প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন প্রবাসীরা। চাকরির ভয় ও আইনি হয়রানির আশঙ্কায় অনেকেই মুখ ফুটে প্রতিবাদ করতে পারছেন না। বছরের পর বছর প্রবাসে থেকেও কাঙ্ক্ষিত নিরাপত্তা বা আর্থিক স্বস্তি মিলছে না।
প্রবাসী বাংলাদেশীরা সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর মাধ্যমে এসব জ্বলন্ত সংকট সরকারের উচ্চপর্যায়ে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে তুলে ধরার দাবি জানান। কর্মী পাঠানোর আগে দেশে দালালচক্র প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের নিরাপত্তা, নির্ধারিত বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানিয়েছেন প্রবাসীরা।
মতামত