মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো স্বামী



লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো স্বামী
লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো স্বামী


লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধু আফরোজা বেগম (১৮) উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী ও একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।


অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় আফরোজাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।


নিহতের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার রাতে আফরোজা তাঁর বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এরপর ফোনটি কেটে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্বামী দীন ইসলাম শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য টাকা প্রয়োজন।


স্বজনদের ভাষ্য, টাকা পাঠাতে দেরি হলে পরে দীন ইসলাম জানান, আফরোজা মারা গেছেন। গতকাল সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। লাশের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও ক্ষতচিহ্ন থাকায় সহজেই বোঝা যায় আফরোজাকে নির্যাতন ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে গাজীপুর থেকে একটি লাশবাহী গাড়িতে করে আফরোজার মরদেহ এনে স্বামীর বাড়ির উঠানে রেখে স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।


স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, আফরোজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে মানতে নারাজ পরিবার। নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, আফরোজার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখেই তারা পালিয়ে যায়। 


কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬


লালমনিরহাটে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর মরদেহ উঠানে ফেলে পালালো স্বামী

প্রকাশের তারিখ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image


লালমনিরহাটের কালীগঞ্জে পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা এক গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করে। নিহত গৃহবধু আফরোজা বেগম (১৮) উপজেলার চলবলা ইউনিয়নের নিথক গ্রামের দীন ইসলামের (২৪) স্ত্রী ও একই উপজেলার চন্দ্রপুর ইউনিয়নের নওদাবাস গ্রামের আলফেস আলীর মেয়ে।


অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূর রক্তাক্ত মরদেহ স্বামীর বাড়ির উঠানে ফেলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামী ও স্বজনদের বিরুদ্ধে।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে আফরোজার সঙ্গে দীন ইসলামের বিয়ে হয়। বিয়ের পর তাঁরা গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল এবং বিভিন্ন সময় আফরোজাকে শারীরিক নির্যাতন করা হতো।


নিহতের স্বজনদের দাবি, গত শনিবার রাতে আফরোজা তাঁর বাবাকে ফোন করে স্বামীর নির্যাতনের কথা জানান। এ সময় তিনি বলেন, ‘আর বুঝি আমাকে জীবিত পাবা না, এরা এবার আমাকে মেরেই ফেলবে।’ এরপর ফোনটি কেটে যায়। কিছুক্ষণ পর তাঁর স্বামী দীন ইসলাম শ্বশুরকে ফোন করে জানান, আফরোজা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এবং চিকিৎসার জন্য টাকা প্রয়োজন।


স্বজনদের ভাষ্য, টাকা পাঠাতে দেরি হলে পরে দীন ইসলাম জানান, আফরোজা মারা গেছেন। গতকাল সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্সে তাঁর লাশ গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। লাশের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত ও ক্ষতচিহ্ন থাকায় সহজেই বোঝা যায় আফরোজাকে নির্যাতন ও কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।


স্থানীয়রা জানান, সোমবার সকালে গাজীপুর থেকে একটি লাশবাহী গাড়িতে করে আফরোজার মরদেহ এনে স্বামীর বাড়ির উঠানে রেখে স্বামী ও তাঁর পরিবারের লোকজন দ্রুত সেখান থেকে চলে যান।


স্বজনরা আরও অভিযোগ করেন, আফরোজার শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় তাঁর মৃত্যুকে স্বাভাবিক হিসেবে মানতে নারাজ পরিবার। নিহতের চাচাতো বোন শাপলা বেগম বলেন, আফরোজার শরীরের এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে আঘাতের চিহ্ন নেই। লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে রেখেই তারা পালিয়ে যায়। 


কালীগঞ্জ থানার ওসি আবু সিদ্দিক বলেন, খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন করা হয়েছে। মরদেহের সঙ্গে ঢাকার উত্তরা শিন শিন জাপান হাসপাতালের কিছু কাগজপত্র পাওয়া গেছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিতে তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream