শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬, ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩
Bangla FM

ভ্যান হারিয়ে রাস্তায় কান্না, ১৪ বছরের রেজোয়ানের পাশে প্রশাসন



ভ্যান হারিয়ে রাস্তায় কান্না, ১৪ বছরের রেজোয়ানের পাশে প্রশাসন
সংগৃহীত ছবি

বাবা অসুস্থ, সংসারে অভাব। পরিবারের খরচে সহযোগিতা করতে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালাত ১৪ বছরের রেজোয়ান। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে সেই ভ্যানটিও হারিয়ে এখন দিশেহারা সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। ভ্যান হারানোর পর রাস্তায় বসে তার কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের। মানবিক দিক বিবেচনায় রেজোয়ানের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি রেজোয়ানের জন্য নতুন একটি ভ্যান কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

রেজোয়ান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহাগড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের অলিয়ার হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রেজোয়ান। পরে তারাগঞ্জ বাজারে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুর যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যানটি ভাড়া নেন। ৫০০ টাকায় সৈয়দপুর যাওয়া-আসার কথা হওয়ায় রেজোয়ান তাদের নিয়ে রওনা হয়।

সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর ওই দুই ব্যক্তি কৌশলে তাকে ভ্যান থেকে দূরে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল বিক্রির কথা বলে একজন নামাজ পড়তে যাওয়ার অজুহাত দেন। পরে অপর ব্যক্তি রেজোয়ানকে পান কিনে আনতে পাঠান।

পান নিয়ে ফিরে এসে রেজোয়ান দেখতে পায়, সেখানে ভ্যানটি নেই। একই সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মুহূর্তেই অসহায় হয়ে পড়ে সে। পরিবারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হারিয়ে রাস্তার পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি।

রেজোয়ানের কান্নার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে তা দ্রুত মানুষের নজরে আসে এবং সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতেও আসে।

সৈয়দপুর ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, রেজোয়ানের পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে একটি নতুন ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের আয় আবারও সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ রেজোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির চেহারা, শারীরিক গঠন, কথাবার্তা ও চলাফেরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রেজোয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যান নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রেজোয়ানের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। রেজোয়ানের মতো শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

শনিবার, ২৯ আগস্ট ২০২৬


ভ্যান হারিয়ে রাস্তায় কান্না, ১৪ বছরের রেজোয়ানের পাশে প্রশাসন

প্রকাশের তারিখ : ২৮ আগস্ট ২০২৬

featured Image

বাবা অসুস্থ, সংসারে অভাব। পরিবারের খরচে সহযোগিতা করতে পড়াশোনার পাশাপাশি ব্যাটারিচালিত ভ্যান চালাত ১৪ বছরের রেজোয়ান। কিন্তু প্রতারণার শিকার হয়ে সেই ভ্যানটিও হারিয়ে এখন দিশেহারা সপ্তম শ্রেণির এই শিক্ষার্থী। ভ্যান হারানোর পর রাস্তায় বসে তার কান্নার দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে।

ঘটনাটি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশের পর বিষয়টি নজরে আসে সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের। মানবিক দিক বিবেচনায় রেজোয়ানের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা। তিনি রেজোয়ানের জন্য নতুন একটি ভ্যান কিনে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

রেজোয়ান নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার উত্তর বাহাগড়ী ডাঙ্গাপাড়া গ্রামের অলিয়ার হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় একটি দাখিল মাদ্রাসার সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো গতকাল সকালে ভ্যান নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয় রেজোয়ান। পরে তারাগঞ্জ বাজারে দুই ব্যক্তি সৈয়দপুর যাওয়ার কথা বলে তার ভ্যানটি ভাড়া নেন। ৫০০ টাকায় সৈয়দপুর যাওয়া-আসার কথা হওয়ায় রেজোয়ান তাদের নিয়ে রওনা হয়।

সৈয়দপুরে পৌঁছানোর পর ওই দুই ব্যক্তি কৌশলে তাকে ভ্যান থেকে দূরে সরিয়ে দেন বলে অভিযোগ। তাদের সঙ্গে থাকা মালামাল বিক্রির কথা বলে একজন নামাজ পড়তে যাওয়ার অজুহাত দেন। পরে অপর ব্যক্তি রেজোয়ানকে পান কিনে আনতে পাঠান।

পান নিয়ে ফিরে এসে রেজোয়ান দেখতে পায়, সেখানে ভ্যানটি নেই। একই সঙ্গে ওই দুই ব্যক্তিরও কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। মুহূর্তেই অসহায় হয়ে পড়ে সে। পরিবারের আয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অবলম্বন হারিয়ে রাস্তার পাশে বসে কান্নায় ভেঙে পড়ে শিশুটি।

রেজোয়ানের কান্নার দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ঘটনাটি প্রকাশিত হলে তা দ্রুত মানুষের নজরে আসে এবং সৈয়দপুর উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিতেও আসে।

সৈয়দপুর ইউএনও ফারাহ ফাতেহা তাকমিলা জানান, রেজোয়ানের পরিবারের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে একটি নতুন ভ্যান দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে পরিবারের আয় আবারও সচল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে খবর পেয়ে সৈয়দপুর থানা পুলিশ রেজোয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে তার কাছ থেকে ঘটনার বিস্তারিত তথ্য নেওয়া হয়। পাশাপাশি অভিযুক্ত দুই ব্যক্তির চেহারা, শারীরিক গঠন, কথাবার্তা ও চলাফেরাসহ বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, রেজোয়ানের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভ্যান নিয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। তাদের অবস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

রেজোয়ানের পরিবারের একমাত্র উপার্জনের অবলম্বন হারানোর ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের উদ্যোগে পরিবারটি কিছুটা স্বস্তি পেলেও স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

একই সঙ্গে পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিও সামনে এসেছে। রেজোয়ানের মতো শিশুদের শিক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দরিদ্র পরিবারের জন্য সামাজিক ও প্রশাসনিক সহায়তা আরও বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। 


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream