বিদেশে কর্মসংস্থানের আশায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রতিদিন হাজারো মানুষ ঢাকায় আসেন। আবার মধ্যরাতে প্রবাস থেকে দেশে ফিরেও অনেককে বিমানবন্দরসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করতে হয়। স্বল্প খরচে নিরাপদ আবাসনের ব্যবস্থা না থাকায় কেউ বাধ্য হয়ে ওঠেন ব্যয়বহুল হোটেলে, আবার কেউ রাত কাটান বিমানবন্দরের টার্মিনালেই।
অথচ প্রবাসী কর্মীদের জন্য মাত্র ২০০ টাকায় রাতযাপনের সুবিধা রয়েছে রাজধানীর ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারে। শুধু তাই নয়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সেন্টারে যাতায়াতের জন্য রয়েছে বিনা মূল্যে পরিবহন সুবিধাও। কিন্তু উদ্বোধনের পাঁচ বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও প্রচারের অভাবে কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রবাসীরা। প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেন্টারটির অধিকাংশ সময়ই পড়ে থাকছে ফাঁকা।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রায় সাড়ে ছয় কিলোমিটার দূরে খিলক্ষেত থানার বরুয়া এলাকার লঞ্জনীপাড়ায় নির্মাণ করা হয়েছে ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার। বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের অস্থায়ী আবাসনের সুবিধা নিশ্চিত করতেই এটি নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালের ১৮ মার্চ সেন্টারটির উদ্বোধন করা হয়।
সংশ্লিষ্টদের মতে, বিমানবন্দর থেকে স্বাভাবিক সময়ে সড়কপথে মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিটেই সেন্টারটিতে পৌঁছানো যায়। এখানে একসঙ্গে ৪০ জন পুরুষ ও ১০ জন নারীসহ মোট ৫০ জনের থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। কম খরচে নিরাপদ আবাসনের পাশাপাশি বিমানবন্দরে যাতায়াতের সুবিধাও থাকায় বিদেশগামী ও প্রবাসফেরত কর্মীদের জন্য এটি হতে পারত গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয়স্থল।
কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। প্রয়োজন থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রবাসী কর্মী জানেনই না এমন একটি সরকারি আবাসনকেন্দ্রের কথা। ফলে একদিকে বিমানবন্দর এলাকায় আবাসনের সংকটে প্রবাসীদের বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, অন্যদিকে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়েজ আর্নার্স সেন্টারের সুযোগ-সুবিধা থেকে যাচ্ছে অব্যবহৃত।
প্রবাসীদের দাবি, বিমানবন্দর, বাস টার্মিনাল ও দেশের বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় ব্যাপক প্রচারণার পাশাপাশি টিকিট, ভিসা ও জনশক্তি-সংক্রান্ত বিভিন্ন দপ্তরের মাধ্যমে সেন্টারটির তথ্য জানানো হলে এর সুফল পেতে পারেন হাজারো প্রবাসী কর্মী।
প্রশ্ন উঠছে—মাত্র ২০০ টাকায় নিরাপদ রাতযাপনের এমন সুযোগ থাকার পরও কেন প্রবাসীদের কাছে অচেনা থেকে যাবে প্রায় ৩০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওয়েজ আর্নার্স সেন্টার?
মতামত