ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি লামিন ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে দুটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ তারকা। যে কীর্তি গড়তে পারেননি ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকারাও।
অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারদের মধ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালেও এই স্বীকৃতি পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
এখানেই শেষ নয়, ২০ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই ব্যালন ডি’অরের সেরা ১০-এ জায়গা করে নেওয়া প্রথম খেলোয়াড়ও ইয়ামাল। ২০২৪ সালে এই পুরস্কারের তালিকায় অষ্টম হয়েছিলেন তিনি। পরের বছর উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে। আর ২০২৬ সালেও সেরা তিনে জায়গা করে নিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস।
প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিতে মেসিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১০ বছর পর্যন্ত। এদিকে রোনালদো প্রথমবার শীর্ষ ১০-এ উঠেছিলেন ২২ বছর বয়সে। তারা যা ২০ এর আগে কখনো পারেননি, সে কীর্তিই ৩ বার করে দেখালেন ইয়ামাল।
স্প্যানিশ এই উইঙ্গারের এই ২ কীর্তি গড়ার পেছনে তার মাঠের পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। গোল করা ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা।
ইয়ামালের পারফরম্যান্সে ভর করে স্প্যানিশ লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে বার্সেলোনা। লিগে একাই ১৬ গোল ও ১১টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। মৌসুম শেষে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারী হওয়ার পাশাপাশি জেতেন প্রতিযোগিতাটির সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও।
ক্লাবের পাশাপাশি স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও স্মরণীয় সময় কাটিয়েছেন ইয়ামাল। গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন তিনি। প্রতিযোগিতায় আট ম্যাচ খেলে একটি গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড।
কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ফলে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন ইয়ামাল।
দলীয় সাফল্য ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—দুই দিক থেকেই দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পরও মূল ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি তার। তবে তিনি পেয়েছেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি, গড়েছেন ২ রেকর্ড। উঠে গেছেন ইতিহাসের পাতায়।
মতামত