বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM
Topic Ads 1
মেসি-রোনালদোকে ছাড়িয়ে অনন্য কীর্তি ইয়ামালের

মেসি-রোনালদোকে ছাড়িয়ে অনন্য কীর্তি ইয়ামালের

ব্যালন ডি’অর জিততে পারেননি লামিন ইয়ামাল। তবে ব্যক্তিগত অর্জনে দুটি অনন্য রেকর্ড গড়েছেন বার্সেলোনার এই স্প্যানিশ তারকা। যে কীর্তি গড়তে পারেননি ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো তারকারাও।অনূর্ধ্ব-২১ ফুটবলারদের মধ্যে টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা নির্বাচিত হয়েছেন ইয়ামাল। ২০২৪ ও ২০২৫ সালের পর ২০২৬ সালেও এই স্বীকৃতি পেয়েছেন ১৯ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।এখানেই শেষ নয়, ২০ বছর বয়সে পা দেওয়ার আগেই ব্যালন ডি’অরের সেরা ১০-এ জায়গা করে নেওয়া প্রথম খেলোয়াড়ও ইয়ামাল। ২০২৪ সালে এই পুরস্কারের তালিকায় অষ্টম হয়েছিলেন তিনি। পরের বছর উঠে আসেন দ্বিতীয় স্থানে। আর ২০২৬ সালেও সেরা তিনে জায়গা করে নিয়ে গড়েছেন নতুন ইতিহাস। প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অরের শীর্ষ ১০-এ জায়গা করে নিতে মেসিকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ১০ বছর পর্যন্ত। এদিকে রোনালদো প্রথমবার শীর্ষ ১০-এ উঠেছিলেন ২২ বছর বয়সে। তারা যা ২০ এর আগে কখনো পারেননি, সে কীর্তিই ৩ বার করে দেখালেন ইয়ামাল। স্প্যানিশ এই উইঙ্গারের এই ২ কীর্তি গড়ার পেছনে তার মাঠের পারফরম্যান্স বড় ভূমিকা রেখেছে। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বার্সেলোনার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৫ ম্যাচে ২৪ গোল করার পাশাপাশি ১৮টি গোলে সহায়তা করেছেন তিনি। গোল করা ও সতীর্থদের দিয়ে গোল করানো—দুই ক্ষেত্রেই ছিলেন দলের অন্যতম ভরসা। ইয়ামালের পারফরম্যান্সে ভর করে স্প্যানিশ লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতে বার্সেলোনা। লিগে একাই ১৬ গোল ও ১১টি গোলে সহায়তা করেন তিনি। মৌসুম শেষে লা লিগার সর্বোচ্চ গোলে সহায়তাকারী হওয়ার পাশাপাশি জেতেন প্রতিযোগিতাটির সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও। ক্লাবের পাশাপাশি স্পেনের জাতীয় দলের হয়েও স্মরণীয় সময় কাটিয়েছেন ইয়ামাল। গত গ্রীষ্মে অনুষ্ঠিত ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে স্পেনের শিরোপা জয়ে অবদান রাখেন তিনি। প্রতিযোগিতায় আট ম্যাচ খেলে একটি গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তের অধীনে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্বকাপ জেতে স্পেন। ফলে বার্সেলোনার হয়ে লা লিগা ও স্প্যানিশ সুপার কাপ জয়ের পাশাপাশি জাতীয় দলের হয়েও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ পেয়েছেন ইয়ামাল। দলীয় সাফল্য ও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স—দুই দিক থেকেই দুর্দান্ত মৌসুম কাটানোর পরও মূল ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি তার। তবে তিনি পেয়েছেন সেরা তরুণ খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি, গড়েছেন ২ রেকর্ড। উঠে গেছেন ইতিহাসের পাতায়।

হ্যারি কেইনকে ঘিরে ব্যালন ডি’অরের নতুন জল্পনা

২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর জয়ের সম্ভাব্য দাবিদার হিসেবে হ্যারি কেইনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আগে বায়ার্ন মিউনিখের একটি রহস্যময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট সেই জল্পনাকে আরও উসকে দিয়েছে। তবে ইংলিশ এই স্ট্রাইকারই যে এবারের ব্যালন ডি’অর জিতছেন, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।কালো স্যুট পরা কেইনের একটি ছবি প্রকাশ করে বায়ার্ন মিউনিখ লিখেছে, ‘ইটস অলমোস্ট শোটাইম’। অর্থাৎ, মূল মুহূর্তের অপেক্ষা প্রায় শেষ। আগামী ২৬ অক্টোবর লন্ডনের প্যালাডিয়ামে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠান। ক্লাবটির এই পোস্টের পর সমর্থকদের মধ্যে কেইনের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।গত মৌসুমে বায়ার্নের জার্সিতে দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন কেইন। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তাঁর গোলসংখ্যা ৬১। তাঁর অসাধারণ পারফরম্যান্সে বুন্দেসলিগা ও জার্মান কাপ জেতে বায়ার্ন। এ ছাড়া ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে মোট ৭৩টি গোল করেছেন এই ইংলিশ তারকা। তাঁর এমন পারফরম্যান্সই ব্যালন ডি’অর জয়ের আলোচনায় তাঁকে এগিয়ে রেখেছে।কেইন এবার ব্যালন ডি’অর জিতলে মাইকেল ওয়েনের পর দ্বিতীয় ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে এই পুরস্কার জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবেন। তবে বায়ার্নের রহস্যময় পোস্টটি পুরস্কার জয়ের নিশ্চিত ইঙ্গিত কি না, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য।

হ্যারি কেইনকে ঘিরে ব্যালন ডি’অরের নতুন জল্পনা

এমবাপ্পের চোখ এখন ব্যালন ডি’অরে

ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে নিজের দাবিটা কিলিয়ান এমবাপ্পে জোরালোভাবেই তুলে ধরলেন। রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে গত মৌসুমে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর ২০২৬ বিশ্বকাপেও আলো ছড়িয়েছেন ফরাসি তারকা। তিনি সব মিলিয়ে এ বছর নিজের পারফরম্যান্সকে ব্যালন ডি’অর জয়ের জন্য যথেষ্ট মনে করছেন। ফ্রান্স ফুটবলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমবাপ্পে বলেছেন, ব্যালন ডি’অর এমন একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা কিছু করেছেন। তাঁর মতে, দলীয় সাফল্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও এটি মূলত ব্যক্তিগত পুরস্কার। আর এ বছর তিনি নিজেও তেমন কিছু করে দেখিয়েছেন। এমবাপ্পে বলেন, ‘আমার সবসময়ই মনে হয়েছে, ব্যালন ডি’অর এমন একজন খেলোয়াড়কে দেওয়া উচিত, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। অবশ্যই দলগত বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। ফুটবল একটি দলীয় খেলা। কিন্তু এটি একটি ব্যক্তিগত পুরস্কার। ব্যালন ডি’অর নিয়ে আমার ধারণাটা মেসি ও রোনালদোর যুগের মতো। আমরা কখনো সাধারণ মানের কোনো খেলোয়াড়কে এটি দিই না, বরং এমন খেলোয়াড়কে দিই, যিনি অন্যদের চেয়ে আলাদা। আর আমি মনে করি, এ বছর আমি এমন কিছু করেছি, যা আলাদা। তাই আমি মনে করি, এটি আমি জিততে পারি।’ গত মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪৪ ম্যাচে ৪২ গোল করেছিলেন এমবাপ্পে। এরপর উত্তর আমেরিকায় হওয়া বিশ্বকাপে ১০ গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জেতেন ফরাসি ফরোয়ার্ড। নিজের সম্ভাবনা নিয়ে এমবাপ্পে বলেন, ‘কিলিয়ান এমবাপ্পে কি চ্যাম্পিয়নস লিগ বা ব্যালন ডি’অর ছাড়াই ক্যারিয়ার শেষ করার কথা ভাবতে পারে? হ্যাঁ। মাঠেই সবকিছু অর্জন করতে হয়। অবশ্য ব্যালন ডি’অরের ক্ষেত্রে ভোটও আছে। কিন্তু ১০ বছর পর কী হবে, সেটা দেখার আগে আমাদের এখনকার দিকে তাকাতে হবে। এ বছর ব্যালন ডি’অর জেতার দারুণ সুযোগ আমার আছে।’ এখনো ব্যালন ডি’অর জেতা হয়নি এমবাপ্পের। লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দীর্ঘ আধিপত্য তাঁর অপেক্ষাকে আরও দীর্ঘ করেছে বলে মনে করেন তিনি, ‘হ্যাঁ, কিন্তু ১০ বছর আগে তো আমরা বলিনি যে মেসি ৩৯ বছর বয়স পর্যন্ত খেলবে এবং আরও তিন বছর ধরে পুরস্কারটি জিতবে। ক্রিস্টিয়ানোর ক্ষেত্রেও তারা খুব বেশি সুযোগ ছাড়েনি। আবার এমন সময়ও গেছে, যখন ভোট দেওয়া হয়েছে সেরা দলের সেরা খেলোয়াড়কে, বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে নয়।’

এমবাপ্পের চোখ এখন ব্যালন ডি’অরে
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream