বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬, ২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
Bangla FM
Topic Ads 1
বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে রোজারিওতে মেসি

বাবার শেষকৃত্যে যোগ দিতে রোজারিওতে মেসি

বাবাকে শেষবিদায় জানাতে নিজ শহর আর্জেন্টিনার রোজারিওতে ফিরেছেন লিওনেল মেসি। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর স্থানীয় সময় শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে মারা যান মেসির বাবা হোর্হে মেসি। শনিবার (৮ আগস্ট) তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ে। কঠিন এই সময়ে পরিবারের পাশে থাকতে ইন্টার মায়ামির কাছ থেকে ছুটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আর্জেন্টিনায় পৌঁছান আর্জেন্টাইন মহাতারকা।ক্যারিয়ারের শুরু থেকে মেসির ফুটবলযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল হোর্হে মেসির। বাবার শেষবিদায়ে রোজারিওতে ফিরে মেসি মা সেলিয়া ও পরিবারের অন্য সদস্যদেরও পাশে দাঁড়িয়েছেন। স্থানীয় সময় সকালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে রওনা দিয়ে রাত ৮টার কিছু পর রোজারিওতে পৌঁছান তিনি। ৬৮ বছর বয়সী হোর্হে মেসি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। রোজারিওর কাছের শহর পেরেজে তাকে সমাহিত করা হবে।মেসির বাবার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ফুটবল বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকবার্তা এসেছে। মেসির সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা, চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদ, নিজ শহরের রোসারিও সেন্ট্রাল ও নিউয়েলস ওল্ড বয়েজসহ বিভিন্ন ক্লাব ও সংগঠন তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। এদিকে মেসিকে এবং তার পরিবারের প্রতি শোকবার্তা জানাতে ভোলেনি তার বর্তমান ক্লাব ইন্টার মায়ামি। বিভিন্নভাবে পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন ক্লাব সতীর্থরাও। হোর্হের মৃত্যুর দিনে তারকা খেলোয়াড়কে ছাড়াই লিগস কাপে মন্টেরির বিপক্ষে মাঠে নামে ইন্টার মায়ামি। ম্যাচের আগে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। গ্যালারিতে সমর্থকেরাও ‘ফোর্সা, লিও’ অর্থাৎ ‘শক্ত থাকো, লিও’ লেখা প্ল্যাকার্ড নিয়ে মেসির প্রতি সমর্থন জানান। এরপর রদ্রিগো ডি পলের গোলে লিড নেয় ইন্টার মায়ামি। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত এক শটে গোল করেন এই আর্জেন্টাইন মিডফিল্ডার। গোলের পরপরই জার্সি খুলে নিচে পরা মেসির ১০ নম্বর জার্সি দেখান তিনি। ডি পল গোলটি উৎসর্গ করেন জাতীয় দল এবং ক্লাব অধিনায়ক মেসিকে। 

মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই

ক্লাব ফুটবলে মনোযোগ দেওয়ার প্রস্তুতির মধ্যেই বড় শোকের মুখে পড়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবল তারকা লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার রোজারিওর একটি ক্লিনিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তার বাবা। দীর্ঘদিনের এজেন্ট ছিলেন হোর্হে মেসি। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৮ বছর।ইনফোবের তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন হোর্হে মেসি।  মেসির ফুটবলার হয়ে ওঠার পুরো যাত্রায় বাবাই ছিলেন তার অন্যতম প্রধান ভরসা। শুধু বাবা হিসেবে নয়, দীর্ঘদিন ছেলের এজেন্ট হিসেবেও ক্যারিয়ার গড়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন হোর্হে।শৈশবে মেসি গ্রোথ হরমোনের অভাবজনিত রোগে আক্রান্ত হন। সে সময় আর্জেন্টিনার ক্লাব নিউয়েলস ওল্ড বয়েজের যুবদলে খেলা মেসির চিকিৎসার সব ব্যবস্থা করেছিলেন হোর্হে। ইউরোপে ক্যারিয়ার গড়ার জন্য মেসি যখন স্পেনে পাড়ি জমান, তখন সঙ্গে ছিলেন হোর্হেও। বাবা-ছেলে যখন বার্সেলোনায় নতুন জীবন শুরু করেন, পরিবারের বাকি সদস্যদের দেখাশোনার জন্য সেলিয়া থেকে যান রোজারিওতে। পরে মেসির ক্যারিয়ারের সব দিক সামলাতেন হোর্হে। চুক্তি, ট্রান্সফারসহ মাঠের বাইরের সব বিষয়ে ছেলের পাশে ছিলেন তিনি। জনসম্মুখে তিনি খুব একটা আসতেন না এবং সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকারও কম দিতেন। জার্মানির ‘কিকার’ ও স্পেনের ‘ইনফরমে রবিনসনের’ মতো কিছু গণমাধ্যমে কথা বললেও বেশিরভাগ সময় তিনি প্রচারবিমুখই ছিলেন। মাঝেমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছেলের অর্জন ও পরিবারের নানা মুহূর্ত শেয়ার করতেন তিনি। বিশ্বকাপসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে পরিবার নিয়ে গ্যালারিতে দেখা যেত তাকে।তবে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে দৃশ্যপট ছিল ভিন্ন। মেসির স্ত্রী আন্তোনেল্লা রোকুজ্জো এবং তিন ছেলে থিয়াগো, মাতেও ও সিরো খেলা দেখতে গেলেও হোর্হে বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সেভাবে দেখা যায়নি; যা নিয়ে সে সময় নানা আলোচনা হয়েছিল। ইনফোবায়ে তখনই জানিয়েছিল, হোর্হে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।ছেলের শৈশবে ফুটবল ক্যারিয়ার এগিয়ে নিতে যিনি পথ খুঁজে বের করেছিলেন, ১৩ বছর বয়সী মেসিকে সঙ্গে নিয়ে যিনি ইউরোপে জীবন শুরু করেছিলেন—সেই বাবা কয়েক দশক ধরে ছেলের পাশে ছিলেন এজেন্ট হয়ে। মেসির ফুটবল যাত্রার সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সঙ্গী সেই বাবা ৬৮ বছর বয়সে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।

মেসির বাবা হোর্হে মেসি আর নেই

মেসিকে হত্যার হুমকি, স্টেডিয়ামে হামলার পরিকল্পনা

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকা লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ঘিরে নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল বড় ধরনের উদ্বেগ। বিশ্বকাপ চলাকালে তাদের লক্ষ্য করে সন্ত্রাসী হামলা ও মৃত্যুর হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের পুলিশের একটি ফাঁস হওয়া নিরাপত্তা নথিতে। নথিতে তারকা ফুটবলারদের পাশাপাশি রেফারিদের ওপর হামলার একাধিক পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’ এবং স্প্যানিশ ওয়েবসাইট ‘ইনফরমাসিওন ডট ইএস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, টুর্নামেন্টে সবচেয়ে বেশি হুমকির মুখে ছিলেন মেসি ও আর্জেন্টিনা দল। জর্ডানের বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে ডালাস বিমানবন্দরে এক ব্যক্তি ফোন করে দাবি করেন, আরও দুজনকে সঙ্গে নিয়ে গ্রেনেড ও এআর-১৫ রাইফেল নিয়ে স্টেডিয়ামে হামলা চালাবেন। ফোনে সরাসরি মেসিকে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।খেলোয়াড়দের পাশাপাশি ম্যাচ রেফারিরাও উগ্র সমর্থকদের তোপের মুখে পড়েন। আর্জেন্টিনা-মিশর ম্যাচের সিদ্ধান্তের জেরে ফরাসি রেফারি ফ্রাঁসোয়া ল্যাটেক্সিয়ারকে হোয়াটসঅ্যাপে ৬ হাজারেরও বেশি হুমকিবার্তা পাঠানো হয়। একই সঙ্গে ভিডিও রেফারি (ভিএআর) উইলি দেলাজোদকেও খুনের হুমকি দেন ক্ষুব্ধ মিশরীয় সমর্থকরা।নথিতে আরও উঠে এসেছে যে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের কারণে খেলোয়াড়দের ওপরও নেমে আসে মৃত্যুঝুঁকি। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে সুযোগ নষ্ট করায় নরওয়ের আলেকজান্ডার সরলথ ও কলম্বিয়ার ঝন জামিনতন কাম্পাজকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কলম্বিয়ান ফুটবলার কাম্পাজ ভয়ে নিজ দেশের জাতীয় দলের সঙ্গে ফিরে যেতেও অস্বীকৃতি জানান। এই ঘটনাটি ১৯৯৪ সালে আত্মঘাতী গোল করার অপরাধে কলম্বিয়ান ডিফেন্ডার আন্দ্রেস এসকোবার হত্যাকাণ্ডের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়।নিরাপত্তার এই নাজুক পরিস্থিতির কারণে ইংল্যান্ডের মিডিয়া সেন্টারকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল। তিন স্তরের নিরাপত্তা বেষ্টনী, স্নাইপার-প্রতিরোধী পর্দা এবং ড্রোন হামলা ঠেকাতে ‘নো ফ্লাই জোন’ ঘোষণা করা হয়েছিল। এসব হুমকির কারণে ওই আসরটিকে ইতিহাসের অন্যতম সুরক্ষিত বিশ্বকাপ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

মেসিকে হত্যার হুমকি, স্টেডিয়ামে হামলার পরিকল্পনা