পর্তুগিজ ফুটবল তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো নতুন এক ইতিহাস গড়েছেন। প্রথম সক্রিয় ক্রীড়াবিদ হিসেবে ক্যারিয়ারে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেছেন তিনি। আগামী বছরের শেষ দিকে লিওনেল মেসিও এই মাইলফলকে পৌঁছাতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের সর্বশেষ তালিকায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
ফোর্বসের তালিকায় ২.০৯ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন রোনালদো। দ্বিতীয় স্থানে আছেন গলফ তারকা টাইগার উডস। তার মোট আয় ১.৯৭ বিলিয়ন ডলার। আর ১.৮৭ বিলিয়ন ডলার আয় নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন আর্জেন্টাইন তারকা লিওনেল মেসি।
রোনালদোর আয়ের বড় অংশ আসে সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের সঙ্গে চুক্তি থেকে। এই ক্লাব থেকে বছরে ২০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করেন তিনি।
৪১ বছর বয়সী এই তারকা টানা ১০ মৌসুম ধরে প্রতি বছর অন্তত ১০০ মিলিয়ন ডলার আয় করেছেন। এই সময়ে তিনি ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, জুভেন্টাস ও রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাবে খেলেছেন।
ক্যারিয়ারে ২ বিলিয়ন ডলারের বেশি আয় করলেও, ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী রোনালদোর নিট সম্পদের পরিমাণ ১.২ বিলিয়ন ডলার (৪.৪০ বিলিয়ন দিরহাম)। জুন মাসে তিনি প্রথমবারের মতো ফোর্বসের বিশ্ব বিলিয়নেয়ারদের তালিকায় জায়গা করে নেন, যেখানে তিনি মেসিকে পেছনে ফেলেছেন। মেসির নিট সম্পদের পরিমাণ ১.১ বিলিয়ন ডলার (৪.০৩ বিলিয়ন দিরহাম)।
রোনালদো আরও একটি মাইলফলকের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন; ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে তিনি ১,০০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করার অপেক্ষায় আছেন। এই লক্ষ্যে পৌঁছাতে তার প্রয়োজন আর মাত্র ১৮টি গোল। ৩৯ বছর বয়সী মেসির ক্যারিয়ার আয় ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ ২.০২ বিলিয়ন ডলারে (৭.৪১ বিলিয়ন দিরহাম) পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চলতি বছর তার সম্ভাব্য আয় ১৪৫ মিলিয়ন ডলার (৫৩২ মিলিয়ন দিরহাম); এর পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে মেজর লিগ সকারের ক্লাব ইন্টার মায়ামিতে তার যোগদান এবং স্পনসর প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাস ও অ্যাপল টিভির সঙ্গে তার আয়ের অংশীদারিত্ব সংক্রান্ত চুক্তি। ২০২৩ সালে পিসএসজি ছাড়ার পর, সৌদি আরব থেকে পাওয়া বছরে ৪০০ মিলিয়ন ডলারের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই পদক্ষেপটি ক্লাবটির বাজারমূল্য বাড়িয়ে ১.৩৫ বিলিয়ন ডলারে (৪.৯৫ বিলিয়ন দিরহাম) উন্নীত করেছে, যা এমএলএস-এর ক্লাবগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
এছাড়া অবসরের পর ইন্টার মায়ামিতে মালিকানার অংশ (ইকুইটি স্টেক) কেনার সুযোগও রয়েছে এই আর্জেন্টাইন তারকার। এটি তার খেলোয়াড়ি জীবনের বাইরে আয়ের ক্ষেত্রে নতুন একটি মাত্রা যোগ করতে পারে। উল্লেখ্য, তিনি ইতিমধ্যে স্প্যানিশ ক্লাব সিডি এলডেন্সে এবং ইউই কর্নেলা-তে মালিকানার অংশীদার। উভয় খেলোয়াড়ই এখন তাদের নিজ নিজ ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছেন। খেলাধুলায় দীর্ঘ সময় আধিপত্য বজায় রাখার পর, এখন তাদের সামনে সুযোগ রয়েছে এই খেলা থেকে বিদায় নেওয়ার সময় বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জনের।
মতামত