সিলেট বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মৃত্যুর ঘটনা থামছে না। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম ও হাম সন্দেহে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৩ জনে। এর মধ্যে নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ১০ জন।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সিলেট বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী,বুধবার সকাল ৮টার আগের ২৪ ঘণ্টায় সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হাম সন্দেহে পাঁচ বছর বয়সী আয়শা মনি নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার মো. আশিক মিয়ার মেয়ে।
চলতি বছর হাম ও হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে সিলেট জেলায়। এ জেলায় মারা গেছেন ৭৪ জন। এরপর সুনামগঞ্জে ৬৬ জন,হবিগঞ্জে ২৮ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৫ জন মারা গেছেন।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে নতুন করে ১৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর বিভাগে হাম আক্রান্ত শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৯৫ জন। এর মধ্যে সিলেটে ৪২২ জন,সুনামগঞ্জে ৩৫৭ জন,হবিগঞ্জে ১৫৮ জন এবং মৌলভীবাজারে ১৫৮ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন।
একই সময়ে বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহে আরও ১৩৬ জন ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে ৭০ জন, এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৪৬ জন,জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২ জন,কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২ জন এবং মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে ১৬ জন ভর্তি হয়েছেন।
বর্তমানে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম ও হাম সন্দেহে মোট ৫৪১ জন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের পরিসংখ্যান বলছে,মৃত্যুর পাশাপাশি হাম আক্রান্ত ও সন্দেহভাজন রোগীর চাপও অব্যাহত রয়েছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজারে চলতি বছর ১৫ জনের মৃত্যু এবং ১৫৮ জন হাম রোগী শনাক্ত হওয়ার তথ্য জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির উদ্বেগের দিকটি সামনে আনছে।
মতামত