কঠোর ও অভেদ্য নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্য দিয়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম পারমাণবিক জ্বালানির নতুন চালান সফলভাবে পাবনার রূপপুরে পৌঁছেছে।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে বিশেষ নিরাপত্তাবেষ্টিত বহরটি পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে পৌঁছায়।
বিজ্ঞপ্তি ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে পাবনা পর্যন্ত সড়কপথে ইউরেনিয়াম পরিবহনের সময় নজিরবিহীন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়:
শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাশিয়ার বিশেষ জ্বালানিবাহী একটি বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিরা বিমানবন্দরে চালানটি আনুষ্ঠানিকভাবে বুঝে নেন।
শনিবার সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে বিমানবন্দর এলাকা থেকে তিনটি বিশেষায়িত লরিতে ইউরেনিয়াম নিয়ে পাবনার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে সামরিক ও বিশেষ বাহিনীর বহর। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, পুলিশ, এসআরবি (SRB) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সমন্বিত নজরদারিতে দুপুরে রূপপুরে জ্বালানিটি নিরাপদে পৌঁছায়।
এবারের ইউরেনিয়ামবাহী রাশিয়ান বিশেষ বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহার করে বাংলাদেশে পৌঁছায়।
প্রটোকল ও কারিগরি কারণ দেখিয়ে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আকাশসীমা ব্যবহারের ক্লিয়ারেন্স দিতে শুরুতে বিলম্ব করলেও পরবর্তীতে আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন প্রটোকলের আওতায় অনুমতি প্রদান করে।
আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে মোট ৯টি ফ্লাইটে রূপপুরের প্রথম ইউনিটের জন্য আরও ৪৮টি এবং দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ১৬৩টি ইউরেনিয়াম অ্যাসেম্বল দেশে পৌঁছাবে। এই চালানগুলো রাশিয়া থেকে কাজাখস্তান, তুর্কমেনিস্তান, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও ভারত হয়ে আকাশপথে বাংলাদেশে আসবে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম চালানের ইউরেনিয়াম বাংলাদেশে এসেছিল, যা চলতি ২০২৬ সালের মে মাসে পারমাণবিক চুল্লিতে (রিয়েক্টর) বসিয়ে পরীক্ষামূলক উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করা হয়। নতুন এই জ্বালানি সরবরাহ রূপপুরের নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারাক্রমকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল।
মতামত