বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এলসিএস (লেবার কন্ট্রাক্টিং সোসাইটি) প্রকল্পের অধীনে গ্রামীণ সড়ক সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের মাটির কাজে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকৌশলী দপ্তরের এক শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
জানা যায়, বিগত সরকারের সময় সাবেক এমপি সাহাদারা মান্নানের দেওয়া নিয়োগের সকল শ্রমিক বয়স না থাকলেও তালিকায় অন্য ব্যক্তির নাম দিয়ে কাজ করছেন। এ উপজেলায় ৩০ জনের একটি শ্রমিক দল দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে আসছে। সরকারের এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য ছিল গ্রামীণ দরিদ্র ও দুঃস্থ নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। কিন্তু স্থানীয় প্রভাবশালী ও দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের যোগসাজশে সেই উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দুঃস্থ নারীদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা হলেও সেই অ্যাকাউন্টের চেকবই থাকে অফিসের দালালদের নিয়ন্ত্রণে।
শ্রমিকদের নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে বাকি বড় অংশ লুটপাট করে নেওয়া হয়। এমনকি মাস্টার রোলে ৩০ জন শ্রমিকের নাম থাকলেও মাঠে কাজ করানো হয় মাত্র ১৮ থেকে ২০ জনকে দিয়ে, বাকি টাকা পকেটস্থ করা হচ্ছে। সুপারভাইজার থেকে শুরু করে নেই কোন কর্মকর্তা তদারকি। এমন কাণ্ডের মাধ্যমে আঙুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, অনেক এলাকায় বাস্তবে কোনো শ্রমিক বা দুঃস্থ নারী দল গঠন না করেই কাগজে- কলমে ভুয়া এলসিএস দেখিয়ে পুরো বরাদ্দের টাকা আত্মসাৎ করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রকৌশলী ও মধ্যস্বত্বভোগীরা মিলে এই ভুয়া তালিকা তৈরি করছেন। তালিকায় অন্য ব্যক্তির নাম থাকলেও বারবার একই ব্যক্তি সুবিধা ভোগ করছেন। আবার কাজের সাইটে সারাদিন শুয়ে-বসে সময় পার করেও কোনো ধরনের কাজ না করেই শতভাগ বিল উত্তোলন করে নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে অহরহ।
কর্মরত নারী শ্রমিকরা জানান, আমাদের সাবেক এমপি সাহাদারা মান্নান কাজের সুযোগ করে দিয়েছে। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের সময় থেকে এখন পর্যন্ত কাজ করছি। আমাদের বয়স হওয়ায় বিভিন্ন আত্বীয়- স্বজনদের আইডি কার্ড দিয়ে এখানে কাজ নিয়েছি।স্যারেরাও দু‘এক জনের আইডি কার্ডের ব্যবস্থা করে দিয়েছে ।
এ বিষয়ে উপজেলা এলজিইডি'র কমিউনিটি অর্গানাইজার দীপক চন্দ্র সূত্রধর উর্ধতন কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী তুহিন সরকার মুঠোফোনে বলেন, প্রতি তিন বছর পর নতুন করে নারী শ্রমিক নিয়োগ দেওয়া হয়। তিন বছর শেষে একজন শ্রমিক পুনরায় কাজ করতে পারবেন। এরা গরীব লোক তবে একজনের এনআইডি দিয়ে তালিকাভুক্ত হওয়ার পর তাঁর পরিবর্তে অন্য কেউ কাজ করতে পারবেন না তবে প্রক্সি হিসেবে কাজ করতে পারে। এদের বর্তমান এমপি সাহেবের সাথে আলাপ করে কাজে রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার এস এম মিকাইল ইসলাম বলেন, অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত