মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে একটি টমটমের যন্ত্রাংশ খুলে অন্য টমটমে সংযোজন করে ‘নতুন’ গাড়ি তৈরির অভিযোগে একটি অটো পার্টস প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় তিনটি টমটম ও বিভিন্ন ধরনের খোলা যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে উপজেলার ভৈরবগঞ্জ বাজারের মদিনা অটো অ্যান্ড পার্টস নামের প্রতিষ্ঠানে এ অভিযান চালানো হয়।
আটকরা হলেন; শ্রীমঙ্গলের মুসলিমবাগ এলাকার হেলাল মিয়ার ছেলে রিপন মিয়া (১৮) এবং মৌলভীবাজারের কালিয়ারগাঁও এলাকার সৈয়দ আবু তালেব আলীর ছেলে সৈয়দ মহিন আলী (৩৭)।
থানা পুলিশ সুত্রে জানা যায়,এএসআই আবু তালেব ও এএসআই সুমনের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠানটি থেকে তিনটি টমটম উদ্ধার করা হয়। এসব গাড়ির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পাওয়া যায়নি। ফলে এগুলো চোরাই কি না,তা যাচাই করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন টমটমের খোলা যন্ত্রাংশও জব্দ করে থানায় নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ,আটক সৈয়দ মহিন আলী পুরোনো ও সন্দেহজনক টমটম এবং অন্যান্য যানবাহন কেনার পর সেগুলোর যন্ত্রাংশ খুলে অন্য গাড়িতে সংযোজন করতেন। পরে এসব যন্ত্রাংশ ব্যবহার করে টমটম তৈরি করে বিক্রি করা হতো। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয়দের ভাষ্য,এভাবে একটি টমটমের যন্ত্রাংশ বা পরিচয় অন্য টমটমে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। উদ্ধার হওয়া গাড়ি ও যন্ত্রাংশের প্রকৃত উৎস এবং মালিকানা যাচাই করছে পুলিশ। টমটমের ব্যাটারি আলাদাভাবে বিক্রির অভিযোগও রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে,ওই ব্যবসার মাধ্যমে ২০টির বেশি টমটম কিস্তিতে চালকদের কাছে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব গাড়ির উৎস, বৈধ কাগজপত্র এবং উদ্ধার হওয়া টমটম বা যন্ত্রাংশের সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না,তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এ ছাড়া ভৈরব বাজার,ইমামবাজার ও আশপাশের এলাকায় ওই ব্যবসায়ীর আরও কয়েকটি কারখানা বা গুদাম থাকার কথাও স্থানীয়দের কাছ থেকে জানা গেছে। তবে এসব তথ্যও পুলিশ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
পুলিশ জানায়,একটি টমটম চুরির ঘটনায় আটক রিপন মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মদিনা অটো অ্যান্ড পার্টসে অভিযান চালানো হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রহিম মিয়া নামে আরও একজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। তিনি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে টমটম ও যন্ত্রাংশ কেনাবেচার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের পরিবর্তে শুধু পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলেও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে এর সত্যতা ও লেনদেনের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গলের পুলিশ জানিয়েছে,অভিযান ও তদন্ত এখনো চলমান থাকায় এ মুহূর্তে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
আটক দুজনকে শ্রীমঙ্গল থানায় রাখা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া তিনটি টমটম ও বিভিন্ন যন্ত্রাংশও থানায় রাখা হয়েছে। তদন্তে উদ্ধার হওয়া গাড়িগুলোর মালিকানা,কাগজপত্র,যন্ত্রাংশের উৎস এবং কথিত অন্য কারখানা ও গুদামের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা যাচাই করা হচ্ছে।
মতামত