মো.শাহজামাল শাওন, ফুলবাড়ী কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বেত দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মো. বিশাল আহমেদ (১৭) নামের ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তাকে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রংপুরে নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে উপজেলার বারাইতাড়ী এস বি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. এরশাদুল হক (৪৭) চার শিক্ষকের নাম উল্লেখ করে ফুলবাড়ী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষকেরা হলেন বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আতাউর রহমান মনি (৫৫), শ্রী কামাখ্যা চন্দ্র (৪৮), মো. মিজানুর রহমান (৪৫) ও মো. মজিবুল ইসলাম (৫০)।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১টার দিকে কয়েকজন শিক্ষকের প্ররোচনায় সহকারী শিক্ষক আতাউর রহমান মনি শিক্ষার্থী বিশালকে বিদ্যালয়ের লাইব্রেরি কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে তাকে বেত দিয়ে মারধর করা হয়। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফোলা ও আঘাতের চিহ্ন দেখা দেয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে বিশাল মাটিতে পড়ে যায়। এ সময় আত্মরক্ষার চেষ্টা করলে তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারা হয়। এমনকি দুই হাত দিয়ে তার গলা চেপে ধরারও চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন তার বাবা। এতে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পরে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে খবর পেয়ে স্বজনেরা স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ভর্তি করা হয়।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা মো. এরশাদুল হক বলেন, ‘আমার ছেলের ওপর যে অমানবিক নির্যাতন চালানো হয়েছে, আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত চাই। একই সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকারিয়া শেখ বলেন, ঘটনার সময় তিনি দাপ্তরিক কাজে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়ে ছিলেন। ফলে ঘটনাটি তিনি সরাসরি দেখেননি।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আতাউর রহমান মনির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
ফুলবাড়ী থানার পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পর আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মতামত