বগুড়ার সারিয়াকান্দি পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাকী মো. জাকিউল আলম ডুয়েলের বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের তদন্তে ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্যে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও কমিটি গঠনের প্রায় এক মাস পেরিয়ে গেলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ের পুরোনো বই ও খাতা বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগটি অন্যতম। অভিযোগ রয়েছে, কোনো সরকারি নীতিমালা ও নিলাম প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে এবং ক্রয়-বিক্রয় উপ-কমিটিকে তোয়াক্কা না করে গত ২৬ মার্চ- ২০২৬, (সরকারি ছুটির দিনে) বিদ্যালয়ের পুরোনো বই ও খাতা বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া বেতন-ভাতা পরিশোধ না করার অভিযোগও উঠেছে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা হলেন:
১. উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কমিটির প্রধান- সঞ্জয় কুমার পাল
২. উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ও সদস্য- শেখ মো. মাহতাবুর রহমান
৩. মাধ্যমিক একাডেমিক সুপারভাইজার ও সদস্য- কাজল সরকার
কমিটি গঠনের পর প্রায় এক মাস অতিবাহিত হলেও তদন্ত কার্যক্রমের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় ও অভিভাবকদের অভিযোগ, কোনো প্রতিষ্ঠানের প্রধানের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা জনসম্মুখে আনা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় তদন্ত ঝুলে থাকলে অভিযোগের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যেই অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে। তাই দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার ও তদন্ত কমিটির প্রধান সঞ্জয় কুমার পাল জানান, আমাদের তদন্ত প্রক্রিয়াটি বর্তমানে চলমান রয়েছে। তদন্ত কাজ শেষ হলে প্রতিবেদন উপজেলা প্রশাসনের কাছে জমা দেওয়া হবে।
মতামত