স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেছেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, চাকরি, স্বাস্থ্যসেবা, রাস্তাঘাট ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। এসব উন্নয়নের ধারাবাহিকতার জন্য আগামী নির্বাচনে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মধ্যে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
জেলা পরিষদের উদ্যোগে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫১০ পরিবারের ঘর নির্মাণ ও পুনর্বাসনের জন্য কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় প্রতিটি পরিবারকে ৩০ হাজার টাকা করে মোট ১ কোটি ৫৩ লাখ টাকা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে মীর শাহে আলম বলেন, সরকারের যেখানে ব্যর্থতা রয়েছে, সেখানে তারা দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা চেয়েছেন। জনগণের সঙ্গে তাদের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সমস্যা সমাধানে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এসব সমস্যার সমাধান করে পাঁচ বছর পর আবার জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বাঁশখালীর উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২২ কিলোমিটার সড়কের জন্য ২২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সরকারের লক্ষ্য এলাকার মানুষের উন্নয়ন করা। এর পাশাপাশি তিনি বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের সংসদ, উপজেলা, ইউনিয়ন ও পৌরসভা নির্বাচনে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, জনগণের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনদের ভাতা, চাকরি ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি খাল খনন, রাস্তা ও সেতু নির্মাণসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো হবে। এসব উদ্যোগের বিনিময়ে ধানের শীষের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
জামায়াতে ইসলামীকে ইঙ্গিত করে মীর শাহে আলম বলেন, কিছু রাজনৈতিক দল ধর্মের কথা বলে ভোট চায় এবং বেহেশতের প্রতিশ্রুতি দেয়। বিএনপি এমন কোনো প্রতিশ্রুতি দেবে না; বরং জনগণকে উন্নয়নের নিশ্চয়তা দিতে চায়।
এ সময় তিনি ২০০১ সালে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সরকারের সময়ে জামায়াতের দুই নেতাকে মন্ত্রী করার প্রসঙ্গও তুলে ধরেন এবং জামায়াতের বর্তমান অবস্থানের সমালোচনা করেন।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম-১২ আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান শামীম, জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা, পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলমসহ স্থানীয় প্রশাসন ও বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
মতামত