যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের জেরে হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানসহ এশিয়ার প্রধান ক্রেতা দেশগুলোতে আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বরের শুরু পর্যন্ত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে কাতার এনার্জি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি তাদের ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য পরিস্থিতির নোটিশের সময়সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন সূত্রে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর গত এপ্রিল মাস থেকেই কাতারি এলএনজি সরবরাহে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। রয়টার্সের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের এই উত্তেজনার ফলে কাতারের এলএনজি রপ্তানি ৯৬ শতাংশ কমে গেছে।
গত বছর এই একই সময়ে কাতার যেখানে ৫০৯টি এলএনজি কার্গো বিশ্ববাজারে পাঠাতে পেরেছিল, সেখানে এ বছরের আগস্টের শেষ পর্যন্ত তারা মাত্র ১৮টি কার্গো পাঠাতে সক্ষম হয়েছে।
ইতালির শীর্ষ জ্বালানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘এডিসন’ জানিয়েছে, কাতার এনার্জি সম্প্রতি তাদের আরও ৬টি এলএনজি কার্গো বাতিল করেছে। এ নিয়ে এডিসনের বাতিল হওয়া চালানের সংখ্যা দাঁড়াল ৩৫টিতে। কাতার এনার্জির সঙ্গে ২০০৯ সাল থেকে চলা ২৫ বছর মেয়াদী চুক্তি থাকার পরও ইতালি এখন ঘাটতি মেটাতে চড়া দামে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প বাজারের দিকে ঝুঁকেছে।
আসন্ন শীত মৌসুমকে সামনে রেখে যখন এশীয় ও ইউরোপীয় দেশগুলোতে গ্যাসের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়, ঠিক সেই মুহূর্তে কাতারের এই সরবরাহ বন্ধের সিদ্ধান্তে বৈশ্বিক বাজারে গ্যাসের দাম আকাশচুম্বী হতে শুরু করেছে।
কাতার এনার্জির দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির ওপর নির্ভরশীল বাংলাদেশের জাতীয় গ্যাস গ্রিড মারাত্মক সংকটে পড়তে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানার নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন এবং সার কারখানা চালুর ক্ষেত্রে বড় ধরনের গ্যাস ঘাটতির আশঙ্কা করছেন জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।
সংকট এড়াতে জার্মানি সহ ইউরোপের ধনী দেশগুলো বিকল্প উৎস থেকে তাদের গ্যাস মজুদ পূরণে নামায় বাজার সরবরাহ সীমিত হয়ে এসেছে, যা বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো আমদানিনির্ভর অর্থনৈতিক দেশের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
মতামত