মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস,  বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি
ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস, অজান্তেই বাড়ছে যেসব স্বাস্থ্যঝুঁকি

আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজের বাহ্যিক চাপের চেয়েও মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তথ্য প্রবেশ এবং সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা মানুষকে দ্রুত অবসাদগ্রস্ত করে তুলছে।

বিবর্তন ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন মূলত একটি নির্দিষ্ট ও ছোট সামাজিক পরিমণ্ডলে সীমিত সমস্যা মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে উঠেছিল। 

দূরবর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক সংকট, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা কিংবা অচেনা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও ভ্রমণের ঝলকানি সার্বক্ষণিকভাবে স্ক্রিনে হাজির হচ্ছে।

নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও মানুষ অবচেতনভাবেই পৃথিবীর বহুমাত্রিক বিষয়ের মানসিক চাপ নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে, যা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তুলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের আপাত সফল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তবতার ক্রমাগত তুলনা মানুষের মানসিক ভার বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে কেবল মানুষের জীবনের সাজানো ও চমকপ্রদ মুহূর্তগুলোই প্রদর্শিত হয়, যা পুরো জীবনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়।

এই কৃত্রিম ও বাস্তবতাহীন তুলোনায় জড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যক্তি নিজের সক্ষমতা, অর্জিত সাফল্য ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে এক ধরনের অযাচিত অতৃপ্তি ও হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক ও কার্যকর পরিবর্তন আনা জরুরি:

দীর্ঘমেয়াদি বা এক মাসের দুশ্চিন্তায় একবারে ভারাক্রান্ত না হয়ে প্রতিদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক কাজটি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

কোন বিষয়গুলো নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কোনটি কেবলই বাইরের তথ্য—এই পার্থক্য স্পষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের মানসিক দায়ভার এড়িয়ে চলা জরুরি।

সারাদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদের পেছনে না ছুটে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ডিভাইস থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা প্রয়োজন। কর্মঘণ্টা শেষে নিজস্ব সময়কে আলাদা করাই মনোযোগ ও ভেতরের স্বস্তি পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।

সব বিষয় একসঙ্গে সামলানোর মানসিকতা পরিহার করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও কৃত্রিম তুলনা জীবন থেকে ছেঁটে ফেলাই বর্তমান যুগে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকরী পথ।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ঘুম থেকে উঠেই মোবাইল দেখার অভ্যাস, বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

আধুনিক জীবনযাত্রায় ঘুম থেকে ওঠার পর থেকেই তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ প্রবাহ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনাকাঙ্ক্ষিত তুলনা মানসিক অবসাদ ও ক্লান্তির অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে উঠছে। মনস্তাত্ত্বিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, দৈনন্দিন কাজের বাহ্যিক চাপের চেয়েও মস্তিষ্কের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত তথ্য প্রবেশ এবং সবকিছু নিয়ে অতিরিক্ত সচেতন থাকা মানুষকে দ্রুত অবসাদগ্রস্ত করে তুলছে।

বিবর্তন ও মনস্তত্ত্ব বিশেষজ্ঞদের মতে, মানুষের মন মূলত একটি নির্দিষ্ট ও ছোট সামাজিক পরিমণ্ডলে সীমিত সমস্যা মোকাবিলার উপযোগী করে গড়ে উঠেছিল। 

দূরবর্তী অঞ্চলের রাজনৈতিক সংকট, যুদ্ধ, অর্থনৈতিক অস্থিরতা কিংবা অচেনা মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের সাফল্য ও ভ্রমণের ঝলকানি সার্বক্ষণিকভাবে স্ক্রিনে হাজির হচ্ছে।

নিজের বাস্তব জীবনের সঙ্গে প্রত্যক্ষ যোগসূত্র না থাকা সত্ত্বেও মানুষ অবচেতনভাবেই পৃথিবীর বহুমাত্রিক বিষয়ের মানসিক চাপ নিজের কাঁধে তুলে নিচ্ছে, যা মস্তিষ্ককে ক্লান্ত করে তুলছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের আপাত সফল জীবনের সঙ্গে নিজের বাস্তবতার ক্রমাগত তুলনা মানুষের মানসিক ভার বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

সামাজিক মাধ্যমে কেবল মানুষের জীবনের সাজানো ও চমকপ্রদ মুহূর্তগুলোই প্রদর্শিত হয়, যা পুরো জীবনের প্রকৃত প্রতিচ্ছবি নয়।

এই কৃত্রিম ও বাস্তবতাহীন তুলোনায় জড়িয়ে পড়ার ফলে ব্যক্তি নিজের সক্ষমতা, অর্জিত সাফল্য ও সামাজিক অবস্থান নিয়ে এক ধরনের অযাচিত অতৃপ্তি ও হীনমন্যতায় ভুগতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক এই ডিজিটাল ক্লান্তি থেকে মুক্তি পেতে হলে জীবনযাত্রায় কিছু মৌলিক ও কার্যকর পরিবর্তন আনা জরুরি:

দীর্ঘমেয়াদি বা এক মাসের দুশ্চিন্তায় একবারে ভারাক্রান্ত না হয়ে প্রতিদিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একক কাজটি সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া উচিত।

কোন বিষয়গুলো নিজের ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণে আছে এবং কোনটি কেবলই বাইরের তথ্য—এই পার্থক্য স্পষ্ট করে অপ্রয়োজনীয় বিষয়ের মানসিক দায়ভার এড়িয়ে চলা জরুরি।

সারাদিন নিরবচ্ছিন্নভাবে সামাজিক মাধ্যম বা সংবাদের পেছনে না ছুটে দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময় ডিভাইস থেকে পুরোপুরি দূরে থাকা প্রয়োজন। কর্মঘণ্টা শেষে নিজস্ব সময়কে আলাদা করাই মনোযোগ ও ভেতরের স্বস্তি পুনরুদ্ধারের মূল চাবিকাঠি।

সব বিষয় একসঙ্গে সামলানোর মানসিকতা পরিহার করে অপ্রয়োজনীয় তথ্য ও কৃত্রিম তুলনা জীবন থেকে ছেঁটে ফেলাই বর্তমান যুগে মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখার সবচেয়ে কার্যকরী পথ।



Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream