মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩
English
ইউনিকোড কনভার্টার
Bangla FM

কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব: কুমিল্লার পুলিশ সুপার


ডেস্ক নিউজ
ডেস্ক নিউজ
| প্রিন্ট সংস্করণ | ফটো কার্ড

কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব: কুমিল্লার পুলিশ সুপার
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অভিযানে বাধা দেওয়ার জন্য কেউ তাকে ফোন করেননি; বরং অনেকে অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযানের সময় কাউকে আটকের পর পুলিশের কোনো সদস্য টাকা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এসপি বলেন, এর পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বা কিশোর অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়, তাদের যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় আসে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানায় তালিকা করে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

২৩ সেপ্টেম্বরের অভিযানে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১০৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সর্বশেষ রবিবারের অভিযানেও ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের কারণে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, তাদের তৎপরতা বন্ধ করা গেলে জেলার মানুষের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো ‘বড় ভাই’ বা প্রভাবশালী ব্যক্তির মদদ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন পুলিশ সুপার।

0.0%
0.0%
0.0%
0.0%

মতামত

Bangla FM

মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


কেউ চাপ দিলে আমি আপনাদের সামনে নাম প্রকাশ করে দেব: কুমিল্লার পুলিশ সুপার

প্রকাশের তারিখ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

featured Image

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানে কোনো রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ধরনের চাপ নেই বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত অভিযানে বাধা দেওয়ার জন্য কেউ তাকে ফোন করেননি; বরং অনেকে অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে ‘আমার কুমিল্লা’ অ্যাপের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

অভিযানের সময় কাউকে আটকের পর পুলিশের কোনো সদস্য টাকা নিয়েছেন—এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে এসপি বলেন, এর পক্ষে প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক সাময়িক বরখাস্ত করে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

পুলিশ সুপার বলেন, যেসব শিক্ষার্থী বা কিশোর অপরাধের সঙ্গে সরাসরি জড়িত নয়, তাদের যথাযথ যাচাই-বাছাই শেষে অভিভাবকদের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর সন্তানদের বাইরে না রাখার জন্য অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের পর কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা নতুন করে আলোচনায় আসে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর নিখোঁজ হওয়ার পরদিন সদর দক্ষিণ উপজেলার লালমাই পাহাড়ের জঙ্গল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

ঘটনার পর গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে জেলার ১৮টি থানায় তালিকা করে কিশোর গ্যাংবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে পুলিশ।

২৩ সেপ্টেম্বরের অভিযানে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয় এবং ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এরপর ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে ২৫৪ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ১৪৬ জন কিশোরকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় এবং ১০৮ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপরাধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সর্বশেষ রবিবারের অভিযানেও ৪৭৮ জনকে আটক করা হয়েছে।

কিশোর গ্যাংয়ের কারণে ছিনতাই ও ডাকাতির মতো অপরাধ বাড়ছে উল্লেখ করে পুলিশ সুপার বলেন, তাদের তৎপরতা বন্ধ করা গেলে জেলার মানুষের নিরাপত্তা আরও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। কিশোর গ্যাংয়ের কার্যক্রম নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

এ ছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে কোনো ‘বড় ভাই’ বা প্রভাবশালী ব্যক্তির মদদ থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্ক করেন পুলিশ সুপার।


Bangla FM

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুল ইসলাম (রাশেদ মানিক)

কপিরাইট © ২০২৬ । সর্বস্ব সংরক্ষিত বাংলা এফ এম
Radio Logo
Bangla FM Live
24/7 Live Audio Stream