দেশে ৫৫ লাখ মানুষের জন্য খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ তথ্য জানান।
এলপিজি প্রসঙ্গে জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশের বাজারে এলপিজি গ্যাসের কোনো সংকট নেই বলে আমদানিকারক ও অপারেটররা সরকারকে জানিয়েছেন। কেউ অসৎ উদ্দেশ্যে এলপিজি মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা নিয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা নেবে বাংলাদেশ। এর আওতায় প্রযুক্তি বিনিময়, পারমাণবিক নিরাপত্তা এবং বেসামরিক জ্বালানি খাতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয় রয়েছে। এ সহযোগিতার কারণে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে কোনো সমস্যা হবে বলে মনে করেন না তিনি।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, দেশে অপরাধ ঘটছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের তুলনায় কিছু অপরাধ বেড়েছে, আবার কিছু কমেছে—তথ্য-উপাত্তে এমন চিত্রই পাওয়া যাচ্ছে। তবে বর্তমানে দেশে কোনো নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি নেই এবং তুলনামূলকভাবে পরিস্থিতি আগের চেয়ে ভালো রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
যৌথ বাহিনী বা বিশেষ অভিযান পরিচালনা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পুলিশ তাদের কার্যক্রম বাড়াচ্ছে। প্রয়োজন হলে রাষ্ট্র ও জনগণের স্বার্থে আইনের সীমার মধ্যে থেকে সরকার যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের বাংলাদেশ সফরের বিষয়ে জাহেদ উর রহমান বলেন, তিনি সফরে এলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানাত। বাংলাদেশ ও ভারতে অনেক সময় গুজব ও অনুমাননির্ভর খবর প্রকাশিত হয়। অজিত দোভাল বাংলাদেশ সফর করেছেন—এমন কোনো তথ্য সরকারের কাছে নেই।
বিএনপির সঙ্গে চাঁদাবাজির অভিযোগ জড়ানোর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। বর্তমান সরকারের সময়ে সরকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত কেউ বা দলের নাম ব্যবহার করে এ ধরনের কর্মকাণ্ড করছে না—এমনটা বলা হচ্ছে না। তবে বিএনপিকে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত করে একটি ‘ব্র্যান্ডিং’ বা ‘ন্যারেটিভ’ তৈরির চেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকেই রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন উল্লেখ করে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ তাকে চায় এবং ভারতকে তাকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করতে হবে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান হলো, বিষয়টি বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের অংশ এবং এতে অন্য কোনো দেশের সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ কোনো দেশের চাপ বা শর্তের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেবে না। এয়ারবাস কিংবা বোয়িং—যে উড়োজাহাজই কেনা হোক, দেশের প্রয়োজন বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মতামত